গাজীপুরে সাংবাদিককে জবাই করে হত্যা, রাষ্ট্রীয় নীরবতায় বিএমএসএফ’র উদ্বেগ
বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন, চাঁদাবাজি লাইভের পর হত্যাকাণ্ড, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা
বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই এলাকার আরেক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনও একদিন আগে থানার সামনেই হামলার শিকার হন।
ঘটনাগুলো দেশের সাংবাদিক সমাজে চরম ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে শত শত সাংবাদিক কারাবন্দি, হামলা-মামলা-নির্যাতনের শিকার। এই বাস্তবতায় অনির্বাচিত ইউনুস সরকারের অধীনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ঘটনাবলী বিশ্লেষণ: বিকেলে লাইভ, রাতে গলা কেটে হত্যা
৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তায় ঘটে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিক তুহিন মসজিদ মার্কেটের সামনে এক চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানোর পর গলা কেটে ফেলে রেখে যায়।
এর আগে তিনি ফেসবুক লাইভে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তুহিন ছিলেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এবং গাজীপুরে পরিবার নিয়ে থাকতেন।
বিএমএসএফ-এর প্রতিক্রিয়া: রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও বিচার দাবি
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে রাষ্ট্র যন্ত্রের নীরবতা এবং নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করে। ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন:
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
গণতন্ত্রে সাংবাদিকরা বন্দি, রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে নীরব দর্শক
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন যেন এখন নতুন স্বাভাবিক। সাংবাদিকদের লাইভ, রিপোর্ট বা মত প্রকাশে ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। “বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন” এখন আর কেবল পরিসংখ্যান নয়—এটা রাষ্ট্রের নীতির অংশ হয়ে উঠেছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।
রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন নীরবতা এবং দুর্বৃত্তদের দাপট দেখে অনেকেই বলছেন,
“বাংলাদেশে ইউনুস গং ছাড়া কেউ নিরাপদ নয়”।
বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা জরুরি
বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন এখনো চলমান এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গাজীপুরে প্রকাশ্যে গলা কেটে সাংবাদিক হত্যা একটি বড় সতর্ক সংকেত। জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হচ্ছে।






















