আহমেদ আবু জাফর: “গণমাধ্যম অঙ্গনে রাজনৈতিক হিংসাত্মক নৈরাজ্য ও দুর্বৃত্তায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে”
🔷 হাইলাইটস:
- বাংলাদেশ- রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে আহ্বান বিএমএসএফ-এর
- প্রেসক্লাবে তালা, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ
- “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত”—আহমেদ আবু জাফর
- রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান
- সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বাধীন মত প্রকাশের আহ্বান
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেছেন, “গণমাধ্যম অঙ্গনে রাজনৈতিক হিংসাত্মক নৈরাজ্য ও দুর্বৃত্তায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না।”
শনিবার (৩১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক চেতনা রক্ষায় সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক স্বার্থে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা চাপ প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলের কিছু দুর্বৃত্তচক্র ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া হাউজ দখল, প্রেস ক্লাব তালাবদ্ধ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ হয়রানির অতীতের সব রেকর্ড আজ ভেঙে গেছে।”
📍 পঞ্চগড়ে ১৪৪ ধারা, সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায়
বিএমএসএফ জানায়, সবশেষ পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে তালা লাগানো হয়েছে এবং সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ফেনী, তেতুলিয়া, ভোলা, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। এসব জায়গায় সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন।
⚠️ রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে শুধু গণতন্ত্রই নয়, সমাজের জবাবদিহিতা, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারও হুমকির মুখে পড়ে। এতে দুর্নীতি বাড়ে, নৈরাজ্য ছড়ায় এবং দারিদ্র্য আরও ঘনীভূত হয়।”
তিনি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান, “সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা রাখুন, হুমকি ও ভয়ভীতি থেকে বিরত থাকুন এবং সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিন।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়, বরং তারা গণমানুষের কণ্ঠস্বর। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে যেন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা না আসে।”
🤝 সাংবাদিকদের প্রতি ঐক্যের আহ্বান
বিবৃতিতে বাংলাদেশ এর সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো রাজনৈতিক চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের এক কণ্ঠে দাঁড়াতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করতে দেওয়া যাবে না।”
জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল চুরি
ট্রেনে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাই: ভৈরবে ৫ ছিনতাইকারীকে কারাদণ্ড
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে ওঠার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হকের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (২৮), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর চন্দন এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সবুজ মিয়া (২২), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতরায়পুর এলাকার মবিন মিয়ার ছেলে হাসান (২০), কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি এলাকার মুরাপাড়া গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে নুর আলম (২০) এবং শুভপুর এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিপ্লব আহসান (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম আউটার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী ওঠার মুহূর্তে কৃত্রিম ভিড় ও জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় একটি চক্র। গোপন নজরদারির মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।
এদিকে রবিবার দুপুরের দিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক যাত্রীর মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে বাবুল মিয়াকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল একটি চক্র। যাত্রীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা ট্রেনে ওঠা-নামার সময় জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত।
তিনি বলেন, “বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। এরপর আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।”
আদালতের রায়ে নুর আলম ও বিপ্লব আহসানকে তিন মাস করে কারাদণ্ড, সবুজ মিয়া ও হাসান মিয়াকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং বাবুল মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যাত্রী হয়রানি, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
শেরপুর সীমান্তে ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বাবেলাকোনা এলাকা থেকে মালিকবিহীন ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি অভিযানিক দল বাবেলাকোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। এসময়
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরুগুলো ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান গরু জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ৫টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, জব্দকৃত গরুগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১০ টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন – গত ২ জুন অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাবার পথে রিকসা ঠেকিয়ে আমার পথ রোধ করে সমন্বয়ক ও শিবির নেতাসহ কতিপয় দলবাজ।
এ সময় বহিস্কৃত শিবির নেতা জুয়েল রানা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান ও তাজসহ পৌর ছাত্রদলের নেতৃত্বে ১০/১২ জন রড হকিস্টিক ও পাইপ দ্বারা আমার উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী মারপিট শুরু করে। এসময় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আলীম ভাই এর সহযোগীতায় প্রাণে রক্ষা পাই। ইতিপুর্বে মুনতাসির মেহেদী হাসান এর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেবার কারনে আমার উপর হামলা চালানো হয়।
বহিস্কৃত শিবির নেতা জুয়েল রানা ও সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাংগঠনিক শাস্তির দাবী জানান ছাত্রদলের আংশিক নেতৃবৃন্দরা। সংবাদ সম্মেলনে পৌর ছাত্রদলের একাংশ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















