মাইলস্টোন ট্রাজেডি: অগ্নিদগ্ধ দেবীদ্বারের মাহতাবকেও বাঁচানো গেল না
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: চারদিন লড়ে হার মানলেন দেবীদ্বারের মাহতাব।
মাইলস্টোন ট্রাজেডি- বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর মিছিলে এবার যুক্ত হলো দেবীদ্বারের মাহতাব, ৭০% দগ্ধ শরীরে ছিল লাইফ সাপোর্টে
মাইলস্টোন ট্রাজেডি-তে আরেকটি নিষ্পাপ প্রাণ নিভে গেল—এইবার দেবীদ্বারের মাহতাব রহমান ভূঁইয়া। রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারাত্মক দগ্ধ হয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল এই কিশোর। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে হার মানতে হলো তাকে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মাহতাবের জেঠা মো. মিজানুর রহমান ও ছোট মামা রাকিবুল ইসলাম। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের কান্না ভারী করে তোলে হাসপাতালের বাতাস। ৭০ শতাংশ দগ্ধ শরীরে গত কয়েকদিন ধরে আইসিইউ-তে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন মাহতাব।
এর আগে মঙ্গলবার মারা যায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফি (৮)। এ নিয়ে মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে।
মাহতাবের বড় মামা মহিবুল হাসান শামীম জানান, বুধবার রাতে কিছুটা সাড়া দিয়েছিল মাহতাব, চোখ খুলে নিজে নিজেই শ্বাস নিচ্ছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে শেষরক্ষা হয়নি।
দেবীদ্বারের চুলাশ ভূঁইয়া বাড়ির একমাত্র সন্তান মাহতাব ছিলেন কুমিল্লার রাজামেহার ইউনিয়নের মিনহাজুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন তিনি। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংলিশ ভার্সনের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল এই কিশোর। তার বাবা মিনহাজুর রহমান গ্রেটওয়াল সিরামিকের এজিএম পদে কর্মরত।
মাহতাবের মামা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ভাগিনাকে আর ফেরানো গেল না। আজ সন্ধ্যায় চুলাশে জানাজা ও দাফন হবে।”
এদিকে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ২২ জনের মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো শনাক্ত হয়নি ৭ জনের দেহ।
মাইলস্টোন ট্রাজেডি কেবল রাজধানী নয়, সমগ্র দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। একের পর এক প্রিয় মুখ হারিয়ে পরিবারগুলো অসহায়, শোকাহত, এবং বিচার চায় একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের।






















