১১ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি, দুমকির জলিশা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তা

দুমকির জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র দেবনাথ। আজকের কথা
পটুয়াখালীর দুমকিতে দীর্ঘ ১১ বছর পরও মেলেনি স্বীকৃতি আর সে অপেক্ষায় থাকা জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র দেবনাথ। সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সহায়ক যন্ত্রপাতি, শিক্ষাসামগ্রী ও খেলাধুলার উপকরণ ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক
- দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি স্বীকৃতির অপেক্ষায় জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।
- সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
- বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, নথিপত্র ও শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
- ৬৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন।
- নিবন্ধন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতির আশা সংশ্লিষ্টদের।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রম পরিদর্শনের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন না পেলেও বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, নিবন্ধন না থাকায় বিদ্যালয়ের ৬৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তারা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত বিদ্যালয়ের নিবন্ধন ও সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর সরকার প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারি স্বীকৃতি ও নিবন্ধন পাবে। এতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং দীর্ঘদিন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক-কর্মচারীরাও প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।
নজরুল নগর নামকরণের দাবিতে আবেদন
মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার দাবি

নিকারের ১২১তম সভার আগে আবেদন জানালেন সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী
কুমিল্লার মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ না রেখে ‘নজরুল নগর’ করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনটি করেছেন দৈনিক আজকের কথা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। তিনি মুরাদনগর ও বাঙ্গরা অঞ্চলের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে এ আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নিকারের ১২১তম সভার আলোচ্যসূচিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বাঙ্গরা থানার দৌলতপুর এলাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। এখানেই কবির বিয়ে এবং শ্বশুরবাড়ির স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
ফলে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখা হলে তা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করবে।
আবেদনে নাম পরিবর্তনের পক্ষে কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
বর্তমান মুরাদনগর উপজেলার নামের সঙ্গে ‘নগর’ শব্দের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
জাতীয় কবির নামে নামকরণ হলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কিংবা আঞ্চলিক মতবিরোধের সম্ভাবনা কম থাকবে এবং বিষয়টি সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ‘নজরুল নগর’ নামটি শুধু একটি প্রশাসনিক নাম নয়; এটি জাতীয় ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন উপজেলার পরিচয়কে যুক্ত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে বলে আবেদনকারী মনে করেন।
এ কারণে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কাছে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ পরিবর্তন করে ‘নজরুল নগর’ অনুমোদনের জন্য আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

মৃত্যুদণ্ডের রায়েও ভয় নেই, দাবি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTVকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পথে যত বাধা ও ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন, তিনি এ বছরই স্বদেশে ফিরবেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর এটিই তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য সাক্ষাৎকার। এতে তিনি দেশে ফেরা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, এ রায় বা মৃত্যুর আশঙ্কা তাঁকে দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, দলটি দেশের জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে একে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, তাঁর দেশে ফেরার লক্ষ্য ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের সমালোচক ও সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার এ ঘোষণা আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ।
অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
তেঁতুলিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে ‘মিথ্যা অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন

সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিক্ষোভ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু ইউএনওকে ঘিরে মিথ্যা অপবাদ ও হয়রানিমূলক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। বক্তারা দাবি করেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশকর্মী মাহমুদুল হাসান মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক খন্দকার আবু সালেহ ইব্রাহিম ইমরান, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ফেরদৌস আলম লিটন, মাসুদ রানা, শিক্ষক ও সামাজিক কর্মী হুমায়ুন কবির, সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক ওবায়দুল হকসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। মিথ্যা অপবাদ, ভিত্তিহীন প্রচারণা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।


















