বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বৈরী আবহাওয়ায় দস্যুদের হানা

বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে সুন্দরবনে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব, ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম
সুন্দরবনে ফের বনদস্যুদের হানা, ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহরণ  বাগেরহাট প্রতিনিধি:  বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র বিরুদ্ধে। এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলারও নিয়ে গেছে সশস্ত্র দস্যুরা।  শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।  অপহৃত জেলেরা হলেন—শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর ও উত্তর রাজাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার, শিহাব হাওলাদার, সাব্বির হাওলাদার, রিপন হাওলাদার ও জাকির হাওলাদার।  জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সুন্দরবনের শ্যালার চর এলাকায় আশ্রয় নেয়। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র দস্যুরা অতর্কিত হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে তিনটি পৃথক ট্রলার থেকে পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে একটি ফিশিং ট্রলারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।  অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জেলেরা শ্যালার চরে অবস্থান নিয়েছিলেন। দস্যুরা হঠাৎ হামলা চালিয়ে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এখন পর্যন্ত দস্যুদের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়নি।  এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্গম সুন্দরবনের কোথায় তাদের আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে দস্যুরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।  পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল জোরদার করা হচ্ছে।  স্থানীয় জেলেরা বলছেন, সুন্দরবনে আবারও এ ধরনের দস্যু তৎপরতা শুরু হওয়া উপকূলীয় জেলেদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। তাদের দাবি, দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের নদী ও খালে নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।  বৈরী আবহাওয়ার কারণে যখন জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল, ঠিক তখনই দস্যুদের এমন হামলা তাদের নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি করেছে। দ্রুত অপহৃত পাঁচ জেলেকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জেলে ও তাদের স্বজনরা।

বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে সুন্দরবনে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব, ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • সুন্দরবনে ফের বনদস্যুদের হানা, ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহরণ বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র বিরুদ্ধে।
  • এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলারও নিয়ে গেছে সশস্ত্র দস্যুরা।
  • শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সুন্দরবনে ফের বনদস্যুদের হানা, ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহরণ

বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র বিরুদ্ধে। এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলারও নিয়ে গেছে সশস্ত্র দস্যুরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন—শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর ও উত্তর রাজাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার, শিহাব হাওলাদার, সাব্বির হাওলাদার, রিপন হাওলাদার ও জাকির হাওলাদার।

দৈনিক আজকের কথা
ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কোস্ট গার্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
— মো. শরিফুল ইসলাম
সহকারী বন সংরক্ষক, পূর্ব সুন্দরবন শরণখোলা রেঞ্জ।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সুন্দরবনের শ্যালার চর এলাকায় আশ্রয় নেয়। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র দস্যুরা অতর্কিত হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে তিনটি পৃথক ট্রলার থেকে পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে একটি ফিশিং ট্রলারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জেলেরা শ্যালার চরে অবস্থান নিয়েছিলেন। দস্যুরা হঠাৎ হামলা চালিয়ে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এখন পর্যন্ত দস্যুদের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়নি।

এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্গম সুন্দরবনের কোথায় তাদের আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে দস্যুরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল জোরদার করা হচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, সুন্দরবনে আবারও এ ধরনের দস্যু তৎপরতা শুরু হওয়া উপকূলীয় জেলেদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। তাদের দাবি, দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের নদী ও খালে নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে যখন জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল, ঠিক তখনই দস্যুদের এমন হামলা তাদের নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি করেছে। দ্রুত অপহৃত পাঁচ জেলেকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জেলে ও তাদের স্বজনরা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ এএম
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
— সৈয়দ এস এম কায়েস মীর
সভাপতি, দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশিষ্ট সমাজসেবক

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।

স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
— মো. হাবিবুর রহমান
সভাপতি, মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাব।

খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।

এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।

বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

এবাদুল্লাহ ভূঁইয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

দৈনিক আজকের কথা
বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
— কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর), ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

Oplus_16908288

বাগেরহাটের মোংলায় র‍্যাব-৬-এর বিশেষ অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গোপাল সরকার (৫২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মোংলা থানার দিগরাজ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৬ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে গোপাল সরকারকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার কাছ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার গোপাল সরকার মোংলা থানার কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহের উৎস, পাচারের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

দৈনিক আজকের কথা
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
— লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ
অধিনায়ক, র‍্যাব-৬, খুলনা

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোংলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে মাদক বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার নয়, মাদকের পেছনে থাকা মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

র‍্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোংলা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা গাঁজাসহ তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
ENG