বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্দিজীবনের অবসান শেষে

১৭ মাস পর দেশে ফিরলেন ভারতে আটকে থাকা নন্দীগ্রামের ২৮ শ্রমিক

নাজমল হুদা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০০ পিএম
ভারতে আটক ২৮ শ্রমিক

ভারতের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা নন্দীগ্রামের ২৮ শ্রমিক। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

এমপি মোশারফ হোসেনের উদ্যোগে বন্দিদশার অবসান, স্বজনদের মাঝে স্বস্তি

অবশেষে দীর্ঘ ১৭ মাসের অপেক্ষার অবসান। জীবিকার সন্ধানে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক হওয়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। তাঁদের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে পরিবারগুলোর মাঝে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা এবং প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার অবসান হওয়ায় এলাকায়ও বিরাজ করছে স্বস্তির আবহ।

গত ২৭ মে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন এসব শ্রমিক। দেশে ফেরার পর তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন।

দেশে ফেরা শ্রমিকরা বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী, দোহার, তেঘরী ও দাসগ্রাম এবং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কহুলী গ্রামের রানা আহমেদ (৩০), আতিকুল ইসলাম (২৮), ফারুক হোসেন (৩০), ফিরোজ হোসেন (২১) এবং তেঘরী গ্রামের সেলিম হোসেন (২৭)সহ আরও অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত আয়ের আশায় কয়েক বছর আগে এসব শ্রমিক দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা আটক হন।

পরে ভারতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের আটক করে তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহরের পুঝাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। সেখানে প্রায় ১৪ মাস কারাভোগ করতে হয় তাদের। কারামুক্তির পরও দেশে ফেরার অনুমতি না পাওয়ায় আরও প্রায় তিন মাস একটি বিশেষ কেন্দ্রে থাকতে হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ১৭ মাস ধরে তারা বন্দি ও অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছেন।

স্বজনরা জানান, এত দীর্ঘ সময় প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পরিবারগুলো চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিল। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটেও পড়েছিল। দেশে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

জানা গেছে, ভারতে আটক শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এবং বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন উদ্যোগ নেন। গত ৪ এপ্রিল তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মে শ্রমিকরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

শনিবার সকালে দেশে ফেরা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি তাঁদের দীর্ঘ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা, কষ্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন।

দেশে ফেরা শ্রমিক রাজু আহমেদ বলেন, “আমরা ১৭ মাস অনেক কষ্ট করেছি। কারাগার ও বন্দি জীবনের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দেশে ফিরতে পারব কি না, সেই আশাও অনেক সময় হারিয়ে ফেলেছিলাম। এমপি মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা দেশে ফিরতে পেরে খুবই খুশি।”

বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এসব শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। অবশেষে তাঁরা দেশে ফিরতে পেরেছেন, এটি আনন্দের খবর। একই সঙ্গে এটি সবার জন্য একটি শিক্ষা। দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই ঘটনা তার বড় উদাহরণ।”

নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সবাইকে সচেতন হতে হবে, যেন কেউ দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেন।”

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন বলেন, “ঈদুল আজহার আগেই ভারতে আটক শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

তিনি এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এই ঘটনা শুধু ২৮ জন শ্রমিকের দেশে ফেরার গল্প নয়; বরং অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতির একটি বাস্তব উদাহরণ। তাই কর্মসংস্থানের আশায় বিদেশ যেতে হলে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিকল্প নেই।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

কৃষি উন্নয়নে অংশীদারত্বের আহ্বান

বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে আয়োজিত এ কংগ্রেসে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কৃষিকে টেকসই উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাজিতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম।

এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসির উদ্দিন মুন্সী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

আলোচনা সভায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, কৃষি উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রকল্পের কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

উন্নয়ন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা

সদরপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বারোপ

মো. রোকনুজ্জামান, সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
সদরপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বারোপ

ফরিদপুরের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টায় সদরপুর উপজেলা পরিষদের দরবার হলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এর আগে দিনব্যাপী সফরে জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি কুমার নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও নদী পুনর্খনন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য অনুদানের চেক প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক কার্যক্রমের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদার বিষয়গুলো জেলা প্রশাসকের সামনে তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শোনেন এবং জনসেবাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

৩ জেলার যোগাযোগ বন্ধ

পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ল আলুভর্তি ট্রাক, ৩ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ল আলুভর্তি ট্রাক, ৩ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে আলুভর্তি ট্রাক পড়ে যাওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের একটি আলুভর্তি ট্রাক ভোররাতে দেবীপুর বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ব্রিজটি ধসে পড়ে। এতে ট্রাকটি সরাসরি খালে পড়ে যায়। তবে চালক ও হেলপারের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ব্রিজটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।

এই দুর্ঘটনার পর পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় শুধু পিরোজপুর নয়, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খালে পড়ে থাকা ট্রাক উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পিরোজপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, “বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ট্রাক উদ্ধার ও ব্রিজ সংস্কারের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

এদিকে বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×