১-৭ মে ‘জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ’ ঘোষণা চান সাংবাদিকরা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি

১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে দেবীদ্বারে কর্মসূচি, গণমাধ্যমের মর্যাদা ও সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের আহ্বান
সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং “১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ”কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা ও দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দেশের সাংবাদিকরা এখনো যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।
এ প্রেক্ষাপটে আগামী ১ থেকে ৭ মে “১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ-২০২৬” উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত হবে বলে দাবি জানানো হয়।
এছাড়া দেশে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সপ্তাহ রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হলেও সাংবাদিকদের জন্য এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বলেও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়। সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, সুরক্ষা আইন, তালিকা প্রণয়ন এবং পৃথক অধিদপ্তরের অভাবে তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে ৩ মে “বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস” বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালন না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের দাবি জানানো হয়।
এ অবস্থায় “১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ”কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সদয় বিবেচনায় দেশের সাংবাদিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা ফিরে পাবে।
ড. হান্নান ফিরোজের ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগে টিকে ছিল ‘আমাদের সময়’: জানালেন নঈম নিজাম

‘আমাদের সময়’-এর শুরু, ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও মালিকানা পরিবর্তনের অজানা গল্প শোনালেন নঈম নিজাম
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকাল, আর্থিক সংকট, ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং পরবর্তী মালিকানা পরিবর্তনের নেপথ্যের নানা ঘটনা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাবেক সিইও নঈম নিজাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, একসময় তিনি নিজেও দৈনিক আমাদের সময়-এর একজন পরিচালক ছিলেন। সে সময় তিনি এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নঈম নিজামের ভাষ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটি প্রকাশের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এর প্রতিষ্ঠাতা নাঈমুল ইসলাম খান গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েন। সে সময় নাঈমুল ইসলাম খান তাঁর বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চান এবং বলেন, “তুমি আমার পাশে দাঁড়াও। পত্রিকা চালাতে পারছি না। শুরু করেছি, এখনই বন্ধ হয়ে গেলে মান-সম্মান থাকবে না।”
এরপর নঈম নিজাম নাঈমুল ইসলাম খানকে নিয়ে তৎকালীন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হান্নান ফিরোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং যৌথভাবে পত্রিকাটি পরিচালনার প্রস্তাব দেন। ড. হান্নান ফিরোজ এতে সম্মতি দিলে গঠিত হয় ‘আমাদের সময় লিমিটেড’।
তিনি জানান, নতুন কোম্পানির চেয়ারম্যান হন ড. হান্নান ফিরোজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হন নাঈমুল ইসলাম খান এবং তিনি নিজে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলামোটরে পত্রিকাটির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়। নঈম নিজামের দাবি, সে সময় ড. হান্নান ফিরোজ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।
তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নঈম নিজাম দাবি করেন, একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, নাঈমুল ইসলাম খান ‘আমাদের সময়’–এর বাইরে ‘নতুন ধারা’ নামে আরেকটি কোম্পানি গঠন করেছেন। বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত ও হতাশ করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, একসময় পত্রিকার প্রথম পাতায় ড. হান্নান ফিরোজ ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করা হয়। তবে পরবর্তীতে নাঈমুল ইসলাম খান পত্রিকাটি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর আলীর কাছে প্রায় ২০ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেন বলেও দাবি করেন নঈম নিজাম।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নঈম নিজাম লেখেন, বর্তমানে তাঁকে প্রায়ই নানা সমালোচনা, এমনকি গালিগালাজও শুনতে হয়। এর জবাবে তিনি বলেন, তাঁর জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে নতুন নতুন সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার কাজে। তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানে শ্রম, সময় ও মেধা দিয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আজ অসংখ্য মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। এটিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও তৃপ্তি বলে উল্লেখ করেন।
লাইসেন্সে অনিয়ম, কুমিল্লায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

অনুমোদন ছাড়াই ল্যাব পরিচালনা, লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ নানা অনিয়ম; অভিযানে বাধার অভিযোগও উঠেছে
লাইসেন্স নবায়ন না করা, অনুমোদনের বাইরে ল্যাব পরীক্ষা পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কুমিল্লার পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানের সময় একাধিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়ে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে কিছু চিকিৎসকের বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীতে বর্তমানে নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৩২টি। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালের নিবন্ধন থাকলেও প্যাথলজি বিভাগের অনুমোদন নেই। দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা, অনুমোদনের বাইরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল চিকিৎসা এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিচালিত অভিযানে পাঁচটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানের সময় রেসকোর্স এলাকার মিশন হাসপাতালের লাইসেন্স দীর্ঘদিন নবায়ন না করা এবং সি-ক্যাটাগরির লাইসেন্সে বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় এক চিকিৎসক সাংবাদিকদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত অভিযান নিয়েও মন্তব্য করেন।
মিশন হাসপাতালের প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. কামাল হোসেন বলেন, রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই করা উচিত। সি-ক্যাটাগরির অনুমোদন নিয়ে বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা পরিচালনা করা হলে তার জন্য শাস্তি হওয়া উচিত।
একই হাসপাতালের ডায়াবেটিক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লুবনা ইয়াসমিন বলেন, অনিয়মের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। তবে জরুরি সেবা চালিয়ে যেতে সি-ক্যাটাগরির আওতাভুক্ত পরীক্ষাগুলোর অনুমোদন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতাল ও বাসস্টেশন এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে কম খরচে চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল অফিসারদের সঙ্গে লিখিত চুক্তিপত্রও থাকে না।
ডেল্টা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল করিম বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক নিয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা হয়।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ওসমান হোসাইন জাবির বলেন, অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হালনাগাদ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অনলাইনেও প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযানের সময় কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসক নেতা পরিচয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ, মানসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রোগীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য, ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক
নিজে যাননি ঘটনাস্থলে, অধস্তনকে দিয়ে তদন্ত—কবিরহাটে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

নিজে তদন্ত না করে অধস্তন কর্মকর্তা দিয়ে প্রতিবেদন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ
নিজে যাননি তদন্তে, কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন ঠিকই।নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একটি সিআর মামলার তদন্ত নিজে না করে অধস্তন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ অভিযোগ এনে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত-৯-এর সিআর মামলা নং-১৯৮/২৬-এ বাদী জসিম উদ্দিনের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে আদালত গত ২১ মে আদেশ দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং নালিশি দরখাস্ত পর্যালোচনার পর আদালত কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের ওই নির্দেশ অনুসরণ না করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি। পরিবর্তে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ১৪তম গ্রেডের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম এবং জারীকারক কামাল উদ্দিনকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করান। পরে তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে অধস্তন কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা আদালতের আদেশের পরিপন্থী। তাই তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরেও আনার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিন তদন্তে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি নিজ উদ্যোগে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের নির্দেশেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। কেউ যদি বলে থাকে, তাহলে প্রমাণসহ উপস্থাপন করুক। আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে একজন নাগরিক হিসেবে আমারও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। তারপরও ওই যুবকের বারবার অনুরোধে আমরা বিবাদীদের বক্তব্যও নিয়েছি। আদালতে শুধু বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি পাঠানোর কথা থাকলেও আমরা বিবাদীপক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করেছি। এরপরও যদি কেউ অভিযোগ করেন, তাহলে তা প্রমাণসহ করা উচিত।”
এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইয়াছিন বলেন, “যদি কোনো আদালত তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে তদন্তে কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে তারা আদালতে নারাজি আবেদন করতে পারেন।”
সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর লিখিত আবেদন, সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক























