কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি
শনিবার কুমিল্লা আসছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুমিল্লা সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফর ঘিরে সভাস্থল পরিদর্শন, নিরাপত্তা জোরদার এবং সড়ক সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।
আগামী রোববার (১৬ মে) সকাল ১১টায় কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
● শনিবার কুমিল্লা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
● বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন তিনি।
● সফর ঘিরে ইতোমধ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে এসএসএফ ও প্রশাসন।
● কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
● প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগমের আশা বিএনপির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফর উপলক্ষে সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সভাস্থল প্রস্তুত করার পাশাপাশি কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। মহাসড়কের বিভাজক, সড়কদ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় নতুন রঙের প্রলেপ ও সাজসজ্জার কাজও শুরু হয়েছে।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একাধিকবার সভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মাঠ প্রস্তুত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, “শনিবার চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে যাওয়ার পথে বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। ইতোমধ্যে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হবে।”
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে সভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এসএসএফের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
নরসিংদীতে এইচএসসিতে পুরোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে দুই শিক্ষক প্রত্যাহার

নরসিংদীতে এইচএসসিতে পুরোনো প্রশ্নপত্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভুলবশত পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) অংশের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। পরে তাদের কাছে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও অতিরিক্ত সময় না দেওয়ায় ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
- নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছু এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
- ১৫ মিনিট পর ভুল ধরা পড়লে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
- দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
- পরীক্ষার্থীদের ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
কেন্দ্র সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুলবশত কিছু শিক্ষার্থীর কাছে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র চলে যায়। বিষয়টি জানার পরপরই তা পরিবর্তন করে নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর এবং নরসিংদীবাসীর জন্যও সম্মানের বিষয়।”
তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সারোয়ার আলম বলেন, জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক বলেন, এ বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ, কেন্দ্র পরিচালনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এই সাবসেন্টারে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩১টি কেন্দ্রে মোট ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২১৪ জন পরীক্ষার্থী।
প্রশ্নপত্র অদলবদলে বিশৃঙ্খলা
ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ফুলছড়ি কেন্দ্রে তীব্র ক্ষোভ; তদন্তের আশ্বাস


ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদলের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
- নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদল করে এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়।
- পরীক্ষার সময় অভিযোগ জানালেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ।
- ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
- শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
- ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রের ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে এ অনিয়ম ঘটে। পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়টি জানালেও তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে অন্য কক্ষের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর প্রশ্নপত্র অদলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া একাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী জানান, প্রায় ৬০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। অন্যদিকে ১০৯ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের বৃহত্তর সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে প্রশ্নের উত্তর লিখতে বাধ্য হয়েছেন।
নিয়মিত পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার বলেন, পরীক্ষার সময়ই তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে অন্যদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেই ভুলটি নিশ্চিত হওয়া যায়। একই অভিযোগ করেন ওই কক্ষের পরীক্ষার্থী শিমু আক্তার, হিরা আক্তারসহ আরও অনেকে।
অনিয়মিত পরীক্ষার্থী আব্দুল আহাদ ও আদহাম বুলখী বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র পাওয়ায় তাদের পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফলাফল নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দায়িত্বহীনতার কারণে তাদের সন্তানদের একটি শিক্ষাবর্ষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কতজন পরীক্ষার্থী এ সমস্যায় পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর কেন্দ্র সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন।
ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মশিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে।
গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পৃথক কক্ষে বসানো এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে যথাযথভাবে যাচাই করা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মামলা
প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে নন্দীগ্রামে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট বাকি বিল্লাহ (৫১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
- বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট গ্রেপ্তার।
- অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
- চিকিৎসা পরীক্ষায় ভুক্তভোগী প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
- আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ অভিযান চালায়।
- গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের গছাইল গ্রামের বাসিন্দা বাকি বিল্লাহ স্থানীয় গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থল ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে একা থাকা ২৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে নিজ কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
গত ৬ জুন একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে চিকিৎসক জানান, ওই তরুণী প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে নন্দীগ্রাম থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাকি বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
ঘটনার পর একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”






















