ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার দাবি
মুরাদনগরে ‘গায়েবি মিছিল’ দেখিয়ে ৭৪ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ফুঁসে উঠছে জনতা
যে মিছিল দেখেনি কেউ, সেই মিছিলের মামলায় ৭৪ আসামি! উত্তাল মুরাদনগর। ছবি : আজকের কথা
মুরাদনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, এজাহারে বর্ণিত তারিখ, সময় ও স্থানে কোনো মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, মামলার আসামিদের অনেকেই মামলা দায়েরের পর জানতে পেরেছেন যে ওই দিন মুরাদনগরে কথিত একটি মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে মামলাটিকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।
কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ‘গায়েবি’, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন মুরাদনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মহিন উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জুন ভোর আনুমানিক ৬টা ৫৫ মিনিটে মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নম্বর নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরা নগর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সিএন্ডবি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি
তবে মামলায় অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের দাবি, উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্য, মহাসড়কের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে তা সাধারণ মানুষের নজর এড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ ওই দিন ওই এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা কেউ প্রত্যক্ষ করেননি।
মামলার অন্যতম আসামি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মামলার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি কুমিল্লায় ছিলেন না।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, “৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে মহানগর গোধূলি ট্রেনে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। ভৈরব স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে গভীর রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছাই। রাত ৪টার দিকে বাসায় প্রবেশ করি। পরদিন কন্যা সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। এরপর ৬ জুন বিকেলে ঢাকায় থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসি। অথচ ৫ জুন সকালে মুরাদনগরে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ এনে আমাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক দৈন্যতার জ্বলন্ত উদাহরণ।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন মুরাদনগরে কোনো মিছিল হয়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহল থেকেও মন্তব্য করা হয়েছিল। এরপরও তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছ
এজাহার অনুযায়ী মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
১. সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল (৪৬), পিতা- মৃত সৈয়দ সেলিম, সাং- আন্দিকুট, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
২. শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৭), পিতা- নান্নু মিয়া, সাং- পূর্ব জাঙ্গাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৩. আবুল কাশেম (৩৫), পিতা- মোহাম্মদ নূরু মিয়া, সাং- ফুলঘর, ০৭নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৪. ভুট্টু মিয়া (৪৮), পিতা- মৃত রেহমত মিয়া, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৫. হানিফ বাদশা (৫৫), পিতা- মৃত আকরম আলী মাস্টার, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৬. কাউছার মোল্লা (৪১), পিতা- কাশেম মোল্লা, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৭. মোতাহার হোসেন মোল্লা (৪২), ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা- কুমিল্লা।
৮. সোহেল মুন্সী (৪০), পিতা- মালেক মুন্সী, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
৯. ওসমান বাছর (৪২), পিতা- বাবরু মিয়া, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১০. হাবিব উল্লাহ মুন্সি (২০), পিতা- লিটন মাস্টার, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১১. জাফিল হোসেন (৪৩), পিতা- মৃত আমীর আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১২. জসিম উদ্দিন (৪০), পিতা- মৃত করিম মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৩. মশিউর রহমান (৩৫), পিতা- মৃত আলিম মাস্টার, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৪. সেলিম মিয়া (৪০), পিতা- রবি উল্লাহ, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৫. পাপন মিয়া (৩৮), পিতা- সিরাজ মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৬. ফজলু মিয়া (৪৫), পিতা- মৃত কিতাব আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৭. জাহিদুল ইসলাম জানু (৪৮), পিতা- মৃত রহিদ মিয়া, সাং- পূর্ব জাঁদাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
১৮. আমান উল্লাহ পারভেজ (৩০), পিতা- আবুল হাসেম, সাং- দারোরা (উত্তর পাড়া), ০১নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
১৯. আজিজুল হক (৩৬), পিতা- মৃত আব্দুল বারেক, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২০. সাইফুল ইসলাম রাজিব (৫৫), পিতা- আকমত আলী, সাং- পরমতলা (রহমান মেম্বার বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২১. রুবেল (২৮), পিতা- মৃত মোসলেম, সাং- পরমতলা (ছলমুদ্দিন বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২২. ফয়সাল (৩৫), পিতা- নুরুল ইসলাম ধনু, সাং- পরমতলা বকশী বাড়ি, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
২৩. অলিউল্লাহ মোল্লা (৫০), পিতা- আব্দুস সালাম, সাং- পাক দেওড়া, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।
২৪. জুয়েল (২৮), পিতা- শামসু মিয়া, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নাম থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বাঙ্গরা বাজার ও মুরাদনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মামলার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকে বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারছেন না বলেও দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নতুন কিছু নয়। তবে কোনো ঘটনার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।
এদিকে মামলাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে মামলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও তদন্তের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলাটি ঘিরে মুরাদনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে এ মামলাটিকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কমিটির মুরাদনগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যেখানে কথিত ঘটনার দিন ও সময়ে কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা সমাবেশের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে কাদের খুশি করতে গিয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে এমন একটি গায়েবি মামলা দায়ের করলো, সেটি জনমনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলেরই লাভ হবে না; বরং এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা এ ধরনের মামলা সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”
বিবৃতিতে তিনি মামলাটির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে পুনঃতদন্তের দাবি জানান।
কৃষি উন্নয়নে অংশীদারত্বের আহ্বান
বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে আয়োজিত এ কংগ্রেসে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে টেকসই উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাজিতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসির উদ্দিন মুন্সী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আলোচনা সভায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, কৃষি উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রকল্পের কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
উন্নয়ন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা
সদরপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বারোপ
ফরিদপুরের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টায় সদরপুর উপজেলা পরিষদের দরবার হলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এর আগে দিনব্যাপী সফরে জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি কুমার নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও নদী পুনর্খনন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য অনুদানের চেক প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক কার্যক্রমের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদার বিষয়গুলো জেলা প্রশাসকের সামনে তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শোনেন এবং জনসেবাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
৩ জেলার যোগাযোগ বন্ধ
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ল আলুভর্তি ট্রাক, ৩ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে আলুভর্তি ট্রাক পড়ে যাওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের একটি আলুভর্তি ট্রাক ভোররাতে দেবীপুর বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ব্রিজটি ধসে পড়ে। এতে ট্রাকটি সরাসরি খালে পড়ে যায়। তবে চালক ও হেলপারের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ব্রিজটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।
এই দুর্ঘটনার পর পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় শুধু পিরোজপুর নয়, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খালে পড়ে থাকা ট্রাক উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পিরোজপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, “বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ট্রাক উদ্ধার ও ব্রিজ সংস্কারের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।
এদিকে বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


















