সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার দাবি

মুরাদনগরে ‘গায়েবি মিছিল’ দেখিয়ে ৭৪ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ফুঁসে উঠছে জনতা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ এএম
মুরাদনগরে ‘গায়েবি মিছিলের’ মামলায় ৭৪ আসামি, ক্ষোভে ফেটে পড়ছে জনতা

যে মিছিল দেখেনি কেউ, সেই মিছিলের মামলায় ৭৪ আসামি! উত্তাল মুরাদনগর। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুরাদনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
  • মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, এজাহারে বর্ণিত তারিখ, সময় ও স্থানে কোনো মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি।
  • তাদের ভাষ্য, মামলার আসামিদের অনেকেই মামলা দায়েরের পর জানতে পেরেছেন যে ওই দিন মুরাদনগরে কথিত একটি মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মুরাদনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, এজাহারে বর্ণিত তারিখ, সময় ও স্থানে কোনো মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, মামলার আসামিদের অনেকেই মামলা দায়েরের পর জানতে পেরেছেন যে ওই দিন মুরাদনগরে কথিত একটি মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে মামলাটিকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।

কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ‘গায়েবি’, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন মুরাদনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মহিন উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জুন ভোর আনুমানিক ৬টা ৫৫ মিনিটে মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নম্বর নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরা নগর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সিএন্ডবি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি

তবে মামলায় অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের দাবি, উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্য, মহাসড়কের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে তা সাধারণ মানুষের নজর এড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ ওই দিন ওই এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা কেউ প্রত্যক্ষ করেননি।

মামলার অন্যতম আসামি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মামলার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি কুমিল্লায় ছিলেন না।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, “৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে মহানগর গোধূলি ট্রেনে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। ভৈরব স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে গভীর রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছাই। রাত ৪টার দিকে বাসায় প্রবেশ করি। পরদিন কন্যা সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। এরপর ৬ জুন বিকেলে ঢাকায় থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসি। অথচ ৫ জুন সকালে মুরাদনগরে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ এনে আমাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক দৈন্যতার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন মুরাদনগরে কোনো মিছিল হয়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহল থেকেও মন্তব্য করা হয়েছিল। এরপরও তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছ

এজাহার অনুযায়ী মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
১. সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল (৪৬), পিতা- মৃত সৈয়দ সেলিম, সাং- আন্দিকুট, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

২. শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৭), পিতা- নান্নু মিয়া, সাং- পূর্ব জাঙ্গাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৩. আবুল কাশেম (৩৫), পিতা- মোহাম্মদ নূরু মিয়া, সাং- ফুলঘর, ০৭নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৪. ভুট্টু মিয়া (৪৮), পিতা- মৃত রেহমত মিয়া, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৫. হানিফ বাদশা (৫৫), পিতা- মৃত আকরম আলী মাস্টার, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৬. কাউছার মোল্লা (৪১), পিতা- কাশেম মোল্লা, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৭. মোতাহার হোসেন মোল্লা (৪২), ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা- কুমিল্লা।

৮. সোহেল মুন্সী (৪০), পিতা- মালেক মুন্সী, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৯. ওসমান বাছর (৪২), পিতা- বাবরু মিয়া, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১০. হাবিব উল্লাহ মুন্সি (২০), পিতা- লিটন মাস্টার, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১১. জাফিল হোসেন (৪৩), পিতা- মৃত আমীর আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১২. জসিম উদ্দিন (৪০), পিতা- মৃত করিম মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৩. মশিউর রহমান (৩৫), পিতা- মৃত আলিম মাস্টার, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৪. সেলিম মিয়া (৪০), পিতা- রবি উল্লাহ, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৫. পাপন মিয়া (৩৮), পিতা- সিরাজ মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৬. ফজলু মিয়া (৪৫), পিতা- মৃত কিতাব আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৭. জাহিদুল ইসলাম জানু (৪৮), পিতা- মৃত রহিদ মিয়া, সাং- পূর্ব জাঁদাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৮. আমান উল্লাহ পারভেজ (৩০), পিতা- আবুল হাসেম, সাং- দারোরা (উত্তর পাড়া), ০১নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

১৯. আজিজুল হক (৩৬), পিতা- মৃত আব্দুল বারেক, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২০. সাইফুল ইসলাম রাজিব (৫৫), পিতা- আকমত আলী, সাং- পরমতলা (রহমান মেম্বার বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২১. রুবেল (২৮), পিতা- মৃত মোসলেম, সাং- পরমতলা (ছলমুদ্দিন বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২২. ফয়সাল (৩৫), পিতা- নুরুল ইসলাম ধনু, সাং- পরমতলা বকশী বাড়ি, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২৩. অলিউল্লাহ মোল্লা (৫০), পিতা- আব্দুস সালাম, সাং- পাক দেওড়া, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

২৪. জুয়েল (২৮), পিতা- শামসু মিয়া, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বাঙ্গরা বাজার ও মুরাদনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মামলার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকে বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারছেন না বলেও দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নতুন কিছু নয়। তবে কোনো ঘটনার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

এদিকে মামলাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে মামলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও তদন্তের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলাটি ঘিরে মুরাদনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে এ মামলাটিকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কমিটির মুরাদনগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যেখানে কথিত ঘটনার দিন ও সময়ে কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা সমাবেশের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে কাদের খুশি করতে গিয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে এমন একটি গায়েবি মামলা দায়ের করলো, সেটি জনমনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলেরই লাভ হবে না; বরং এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা এ ধরনের মামলা সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”
বিবৃতিতে তিনি মামলাটির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ এএম
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদ, পরে মামলায় গ্রেপ্তার

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

তিনি জানান, শেরেবাংলা নগর থানায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
— মো. ইবনে মিজান
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ কী এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপ্রতিম হত্যা: দুই কিশোর যাচ্ছে সংশোধনাগারে, কারাগারে দুই আসামি

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
অপ্রতিম হত্যা: দুই কিশোর যাচ্ছে সংশোধনাগারে, কারাগারে দুই আসামি

চার আসামির তিনজনের স্বীকারোক্তি, মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই হত্যার দাবি পুলিশের

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবে।

রোববার রাতে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানকে (১৬) সংশোধনাগারে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন। তাদের সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সিয়াম এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রয়েছে।

রোববার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, একটি হত্যা মামলায় পুলিশ চার আসামিকে কারাগারে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

দৈনিক আজকের কথা
মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।
— মো. আনিসুজ্জামান
পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে অপ্রতিম বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।”

রোববার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাতে সিয়াম ছাড়া অপর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।

সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও বন্ধ, জুড়ীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

জালালুর রহমান, মৌলভী বাজার থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ এএম
সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও বন্ধ, জুড়ীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সালিশে নির্ধারিত চলাচলের পথ আটকে গোয়ালঘর-বাথরুম, বিপাকে পরিবার

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে বসতবাড়িতে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার এবং এর প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৮) জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তিনজন কামরুল ইসলামের চাচা। তারা হলেন—দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল জলিল (৬০), আব্দুল মনাফ (৫৫) ও আব্দুর রহিম (৫০)।

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

তবে সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও অভিযুক্তরা ওই চলাচলের পথের মধ্যে গোয়ালঘর, বাথরুম এবং বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেছেন কামরুল ইসলাম। এতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাস্তা পরিষ্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে কামরুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন। এমনকি মামলা-মোকদ্দমা করলে সুযোগমতো তাঁকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দৈনিক আজকের কথা
অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
— মো. রফিকুল ইসলাম
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জুড়ী থানা।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে তাঁর বসতবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা অনেকটা গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি ও অভিযোগের কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

×
ENG