বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তুচ্ছ ঘটনায় প্রান গেল যুবকের

চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল সিএনজি চালকের, অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে সিএনজি চালক নিহত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের ছুরিকাঘাতে এক সিএনজি অটো রিক্সাচালক মারা গেছেন। নিহত সিএনজি চালকের নাম মো. হৃদয় (২৪)। ছবি : সংগৃহীত

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের ছুরিকাঘাতে এক সিএনজি অটো রিক্সাচালক মারা গেছেন। নিহত সিএনজি চালকের নাম মো. হৃদয় (২৪)।

বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্যার ছেলে। রাত ১১টার দিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে স্থানীয় দুই কিশোরের মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার পরও পরে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

নিহতের সিএনজি চালকের বন্ধু রাকিব জানান, কথাকাটাকাটির জের ধরে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে হৃদয় তার সিএনজি গ্যারেজে রাখার জন্য স্থানীয় ওয়াসিমের গ্যারেজে প্রবেশ করলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন কিশোর তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিএনজি চালক হৃদয়কে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সিএনজি চালকের বড় ভাই ফারুক হোসেন বলেন, “আমার ভাই পেশায় সিএনজি ড্রাইভার ছিল। সন্ধ্যায় সে আমার কাছ থেকে চা খাওয়ার জন্য কিছু টাকা নিয়ে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হৃদয়কে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

রক্তদাতা-গ্রহীতার সরাসরি সংযোগ

রক্তদাতার খোঁজে আর নয় ভোগান্তি, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ‘ব্লাডরিচ’

মো. মুশফিকুর রহমান তুহিন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম
রক্তদাতার খোঁজে আর নয় ভোগান্তি, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ‘ব্লাডরিচ’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ‘ব্লাডরিচ’: এক ক্লিকেই মিলবে রক্তদাতা

জরুরি মুহূর্তে রক্তের সন্ধানে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) তিন শিক্ষার্থী। তাঁদের উদ্ভাবিত ‘ব্লাডরিচ’ (BloodReach) নামের আধুনিক ওয়েব অ্যাপ ইতোমধ্যে রক্তসেবা কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন ইসলাম, ফারহানা আক্তার ইশা এবং মো. তৌফিক হোসেন শিমুলের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, গবেষণা ও প্রচেষ্টার ফল এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্লাডরিচ’ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে ৩৭ জন স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-তরুণী প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, রক্তদানের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই এ উদ্যোগের সূচনা। ব্লাডরিচের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াসিন ইসলাম কলেজ জীবন থেকেই নিয়মিত রক্তদাতা হিসেবে কাজ করছেন। স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত থেকে তিনি দেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্লাড ডোনেশন গ্রুপ থাকলেও জরুরি মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত রক্তদাতাকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তব সমস্যা থেকেই ব্লাডরিচ তৈরির চিন্তা মাথায় আসে।

জরুরি মুহূর্তে রক্তের জন্য ভোগান্তি কমাতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবন ‘ব্লাডরিচ’ (BloodReach) ওয়েব অ্যাপ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। ব্লাড গ্রুপ ও অবস্থানভিত্তিক দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া, সরাসরি যোগাযোগ, ইমার্জেন্সি রিকোয়েস্ট এবং স্বয়ংক্রিয় ডোনার ম্যানেজমেন্ট সুবিধাসহ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল রক্তসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে ৩৭ জন স্বেচ্ছাসেবী এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

প্রথমে একটি সাধারণ গুগল শিটে রক্তদাতাদের তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর চালু করা হয় ব্লাডরিচের ফেসবুক পেজ। ধীরে ধীরে পরিকল্পনাটি আরও বিস্তৃত রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের পরামর্শ ও উৎসাহে এবং নিজেদের সঞ্চিত অর্থে তৈরি করা হয় পূর্ণাঙ্গ ওয়েব অ্যাপটি।

ব্লাডরিচের প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই রক্তগ্রহীতাকে সরাসরি রক্তদাতার সঙ্গে যুক্ত করা। ব্যবহারকারীরা ব্লাড গ্রুপ ও অবস্থানভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে মুহূর্তেই সম্ভাব্য রক্তদাতার তথ্য খুঁজে পেতে পারেন। এছাড়া ওয়েব অ্যাপ থেকেই ডোনারের মোবাইল নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু আধুনিক ফিচার। একজন রক্তদাতা রক্ত দেওয়ার পর তাঁর প্রোফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার মাসের জন্য অদৃশ্য (হাইড) হয়ে যায়। ফলে ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে বারবার ফোন বা অনুরোধের সম্মুখীন হতে হয় না। নির্ধারিত সময় শেষে প্রোফাইলটি আবার সক্রিয় হয়ে যায়।

এছাড়া গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মাত্র এক ক্লিকেই নিবন্ধন করা যায়। জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীরা সরাসরি ব্লাড রিকোয়েস্ট পোস্ট করার সুযোগও পাচ্ছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, কোনো বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা করপোরেট সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের লক্ষ্য ব্লাডরিচকে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর রক্তসেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁরা জানান, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ব্লাডরিচের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রক্তসংকটজনিত দুর্ভোগ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলছে ব্লাডরিচ।
বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটি গুগল অ্যাকাউন্ট থাকলেই যে কেউ BloodReach প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে রক্তদাতা হিসেবে নিবন্ধন করতে অথবা প্রয়োজনীয় রক্তের সন্ধান পেতে পারেন। জীবন বাঁচানোর এই ডিজিটাল উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

বিজিবির উদ্ধার, স্বজনদের খোঁজ

জামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকা বৃদ্ধের মিল্লো পরিচয়

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:০৮ পিএম
জামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকা বৃদ্ধের মিল্লো পরিচয়

ছবি ভাইরাল হতেই পরিবারের খোঁজ, পরিচয় মিলল সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে বাংলাদেশ-ভারত শূন্যরেখায় দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকা বৃদ্ধের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তার নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৮)। সে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। ধানুয়া কামালপুর বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বর্তমানে তিনি থানার নিরাপদ হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে বুধবার (১০ জুন) সকালে রামরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের শক্ত অবস্থানের মধ্যে পড়ে বৃদ্ধটি দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় আটকে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।

পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও খবর প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তারা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃদ্ধের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়েছে। বিজিবি তাকে থানায় হস্তান্তর করেছে এবং তার স্বজনরা রাজশাহী থেকে বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তারা আসলে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সীমান্তে এই অমানবিক এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর অবশেষে বৃদ্ধের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

সফর শেষ, ইটও শেষ

প্রধানমন্ত্রীর যাবার পরপরই তুলে নেয়া হলো সেই রাস্তার ইট সফরে, বৃষ্টিতে কাদায় ডুবছে জনপদ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর যাবার পরপরই তুলে নেয়া হলো সেই রাস্তার ইট সফরে, বৃষ্টিতে কাদায় ডুবছে জনপদ

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তৈরি হওয়া একটি সড়ক এখন স্থানীয়দের হাস্যরস ট্রল ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সফরের আগে রাতারাতি কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে চলাচল উপযোগী করা হলেও তার সফর শেষ হওয়ার পরপরই সেই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক রসালো হাস্যরস ব্যাঙ্গাত্মক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফর উপলক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট ও বালু ফেলে পরিস্কার ঝকেঝকে চলাচলের ব্যবস্থা করে।

তবে সফর শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ওই সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি আবারও কাদাময় হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি চলার জন্য রাতারাতি রাস্তা তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের কথা কেউ ভাবেনি। এতে স্পষ্ট বুঝাযায় জনগনের কোন মূল্যই নাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নশিপুর ইউনিয়নের ওই সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগেই এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত বছরের আগস্টে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে দ্রুত সড়কটি লোক দেখানো চলাচল উপযোগী করতে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

অথচ সফর শেষ হওয়ার পর সেই ইটও তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। যেহেতু মূল কাজ শুরু হয়নি, তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় অস্থায়ীভাবে সোলিং করা হয়েছিল। পরে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ইটগুলো কেনা হয়নি, বরং ভাড়ায় আনা হয়েছিল। ইট কিনলে ব্যয় আরও বেশি হতো। তাই নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে ব্যবহার শেষে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মূল সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, সড়কের জমি ও সীমানা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে ঠিকাদারকে সাইট বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে দ্রুত রাস্তা ব্যবহার উপযোগী করতে ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় ১৫০ মিটার অতিরিক্ত রাস্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজসহ মোট ব্যয় প্রায় ১০ লাখ টাকা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ এখনও ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়নি।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যদি সড়ক নির্মাণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং কার্যাদেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল কেন? আর শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় একটি সড়কে স্থায়ী উন্নয়নের পরিবর্তে কেন ‘ভাড়ার ইট’ দিয়ে সাময়িক সমাধানের পথ বেছে নেওয়া হলো?

এদিকে বর্ষার শুরুতেই কাঁচা রাস্তাটি কাদাময় হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কের স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু ও শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×