মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

রপ্তানিতে বাড়ছে সাফল্য

কারখানা পরিদর্শনে দেশবন্ধু গ্রুপ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড

সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। এ সময় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং উৎপাদন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • শতভাগ রপ্তানিমুখী উৎপাদনে সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে সাউথইস্ট সোয়েটার দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানিমুখী উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে রাজধানীর উত্তরখানে অবস্থিত দেশবন্ধু গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড।
  • প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত সব পণ্যই বিদেশে রপ্তানি করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গুণগতমান বজায় রাখার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
  • উৎপাদন কার্যক্রম, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার লক্ষ্যে বুধবার (২৪ জুন) সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড কারখানা পরিদর্শন করেন দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও শিল্পোদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা।

শতভাগ রপ্তানিমুখী উৎপাদনে সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে সাউথইস্ট সোয়েটার

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানিমুখী উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে রাজধানীর উত্তরখানে অবস্থিত দেশবন্ধু গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত সব পণ্যই বিদেশে রপ্তানি করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গুণগতমান বজায় রাখার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

উৎপাদন কার্যক্রম, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার লক্ষ্যে বুধবার (২৪ জুন) সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড কারখানা পরিদর্শন করেন দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও শিল্পোদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা।

পরিদর্শনকালে তিনি কারখানার বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন ও কর্মপরিবেশ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন এবং উৎপাদন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হন।

কারখানায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। শ্রমিক-কর্মচারীরাও তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে কাছে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শন শেষে গোলাম মোস্তফা কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা, শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, গুণগতমান নিশ্চিত করেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে এবং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলেও দেশবন্ধু গ্রুপ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিশ্বাস করে। সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গোলাম মোস্তফা জানান, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের শতভাগ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, “মানুষের ভালোবাসা এবং সরকারের সহযোগিতা নিয়ে দেশবন্ধু গ্রুপ আরও এগিয়ে যেতে চায়। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

গুণগতমান নিশ্চিত করেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে এবং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে হবে।

দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলেও দেশবন্ধু গ্রুপ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিশ্বাস করে। সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেড সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গোলাম মোস্তফা
চেয়ারম্যান
দেশবন্ধু গ্রুপ

দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, জাতি গঠন ও দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সহযোগী হিসেবে দেশবন্ধু গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, উত্তরখানে অবস্থিত সাউথইস্ট সোয়েটার লিমিটেডে বর্তমানে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কর্মসংস্থানের পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

দেশবন্ধু গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করে গুণগতমানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এবারের এসএসসিতে পরীক্ষার ফলাফলে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১২১৭ নম্বর। তার এই অসাধারণ ফলাফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেবীদ্বার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাকিয়া সুলতানা ইভার এই সাফল্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তবে বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভার ১২১৭ নম্বর অর্জন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে সে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জাকিয়া সুলতানা ইভার এমন ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো বিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তার এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবারের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত।
মো. মজিবুর রহমান
প্রধান শিক্ষক- দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

তিনি বলেন, “জাকিয়ার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়।”

জাকিয়া সুলতানা ইভাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান আরও বলেন, “তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”

বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২১৭ নম্বর পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাকিয়া সুলতানা ইভার এই ফলাফল তার দীর্ঘদিনের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। একই সঙ্গে ৬১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

জাকিয়ার এমন সাফল্যে দেবীদ্বারের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জাকিয়া তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ এএম
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনও মরদেহের হাত ও পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।

​হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার পাকের ঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে পরিত্যক্ত একটি ড্রামের আড়ালে লুকানো কানের এক জোড়া দুল, একটি গলার চেইন, একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাইলীর তথ্যানুযায়ী, টয়লেটের কমোট থেকে আলমারির চাবি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।

​নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঐ বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক লাইলী আক্তার পারিবারিক কলহের কারণে ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। লাইলী ইতিপূর্বে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছিলেন।

​হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোকাতে ঘাতকরা মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে প্যাকেট করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখে। কিছু অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার রাতে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত চলছে। লাইলী আক্তার প্রাথমিকভাবে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরে ঠান্ডা মাথায় মরদেহের অংশগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। CC ক্যামেরার ফুটেজে তার কর্মকাণ্ড স্পষ্ট দেখা গেছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে মর্মান্তিক মৃত্যু

দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার মা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দেবীদ্বার সদর এলাকার মোল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফরিন আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আফরিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তারা ‘খান মঞ্জিল’-এর ওই বাসায় থাকছিলেন।

পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য জামসেদ মিয়ার ছেলে ও পেশায় ক্যামেরাম্যান সাখাওয়াত হোসেন সানি (২৬)-এর সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা ও তার প্রবাসী দুই ভাই।

সানি প্রায় ছয় মাস ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার বাড়ির মালিক শাহ আলম খান ও তার ভাইয়ের উপস্থিতিতে সানিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাগ করে মেয়েকে বাসায় একা রেখে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
মরিয়ম বেগম
নিহত আফরিনের মা

মরিয়ম বেগমের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে সৌদি প্রবাসী ছোট ছেলে আজাদ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেন। আজাদ জানান, সানি তাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আফরিনকে বিয়ে করবেন না এবং আফরিন আত্মহত্যা করতে পারেন।

পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান মরিয়ম বেগম। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় সানিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।

বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকায় সোমবার দুই পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা ছিল।

পুলিশের বক্তব্য

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও পারিবারিক মনোমালিন্যের বিষয়টি সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

×
CLOSE X
ENG