পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ নগদ টাকা উদ্ধার
পায়বে ৬১৫ ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মুরাদনগরে এক রাতে আটক ৮

মুরাদনগরের পায়ব গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬১৫ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে পুলিশের অভিযান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে এক রাতে পাঁচ মাদক কারবারি ও তিন মাদকসেবীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে পায়ব গ্রাম থেকে চার মাদক কারবারির কাছ থেকে ৬১৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১ হাজার ৪০ টাকা এবং মোচাগড়া গ্রাম থেকে আরও ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলা সদরের মধ্যপাড়ার মো. তকদিরের ছেলে মো. রাব্বি (২৮), পায়ব গ্রামের আনু মেম্বারের বাড়ির মৃত কামাল হোসেন জসিমের ছেলে মো. জাকারিয়া আহমেদ হৃদয় (২৫), শুশুন্ডা নতুন বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইকবাল হাসান (২০), জাহাপুর মধ্যপাড়ার মনির হোসেনের ছেলে কাউসার সরকার (১৯), যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের মৃত কিরণের স্ত্রী সুখি (৩০), নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ত্রিশ গ্রামের মো. নাছির মিয়ার ছেলে মো. আমান উল্লাহ (২৫), একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৯) এবং মো. হারুন মিয়ার ছেলে মো. ফারুক (২৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই রাজু বড়ুয়া, এএসআই কুসুম বড়ুয়া ও এএসআই আব্দুল নেওয়াজ তানজিদসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল জাহাপুর ইউনিয়নের পায়ব গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ৬১৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১ হাজার ৪০ টাকাসহ রাব্বি, জাকারিয়া আহমেদ হৃদয়, ইকবাল হাসান ও কাউসার সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে একই রাতে এসআই মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে ১৫ পিস ইয়াবাসহ সুখি নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে আমান উল্লাহ, রফিকুল ইসলাম ও ফারুককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের প্রত্যেককে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেন।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মুরাদনগর থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
একই রাতে পৃথক অভিযানে একাধিক মাদক কারবারি ও মাদকসেবী গ্রেপ্তার এবং ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
সাংবাদিক দেখলেই ‘এড়িয়ে যান’ কুমিল্লার ডিসি! বক্তব্য চাইলে পাঠান এডিসির কাছে, ফোনেও মেলে না সাড়া

সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লার ডিসির বিরুদ্ধে
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, যিনি সাংবাদিক দেখলেই এড়িয়ে যান। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং বক্তব্যের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।
দৈনিক আমার দেশ-এর কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসান মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে তার কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড নেওয়া হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডিবিসি নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন। নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে তিনি কার্যালয়ে গেলে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে তাকেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।
নাসির উদ্দিনের দাবি, তিনি জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়েছে।
এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, জেলা প্রশাসক একটি জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হলে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার মুখে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা খসে এএসআই আহত, চাপা পড়ে সরকারি কম্পিউটার বিকল

নীলফামারীর ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দায়িত্ব পালনরত এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ছাদের ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে পুলিশের সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন। তিনি কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ থানার পুরোনো ভবনের ছাদের বড় একটি অংশের পলেস্তারা আচমকা খসে তাঁর কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন। একই সময় পলেস্তারা ও ছাদের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কক্ষে থাকা সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটারটি ভেঙে যায়। পরে কম্পিউটারটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে।
আহত এএসআই মো. মসলিম উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন বলেন, “আমি ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে আমার রুমের ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে। এতে আমার কাঁধে আঘাত লাগে।”
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি মেরামতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ওসি আরও বলেন, “দুর্ঘটনা কখনো বলে-কয়ে আসে না। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ইতোমধ্যে নতুন ভবনের জন্য চাহিদা পাঠিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।”
স্থানীয়রা জানান, ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার পাশাপাশি থানায় সংরক্ষিত সরকারি নথি, গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একজন দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় থানার পুরোনো ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি নতুন থানা ভবন নির্মাণের কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করা হোক।
জনস্বাস্থ্যের লড়াইয়ে সাহসী কণ্ঠের অবসান
দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক আর নেই

কুমিল্লার দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান, বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসা শেষে মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান।
তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুন।
পারিবারিক ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন, ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ছিলেন। দেশের ঔষধ বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাবিবুর রহমান পেশায় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে তাঁর পরিবার ঢাকার মিরপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর অধ্যাপক ফারুক সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন এবং ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ‘জাতীয় ঔষধনীতি ২০১৬’ প্রণয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সোচ্চার ছিলেন অধ্যাপক ফারুক। নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ এবং দেশের ঔষধশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার বাজারে পাওয়া বিভিন্ন পাস্তুরিত তরল দুধ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। গবেষণার ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন মহলের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তিনি নিজের গবেষণালব্ধ তথ্য ও বৈজ্ঞানিক অবস্থানে অটল ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা তাঁকে দেশের নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে পরিচিত করে তোলে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম এবং ঔষধের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়ে তিনি নিয়মিত কথা বলেছেন ও লেখালেখি করেছেন।
দেশের ঔষধ বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক ফারুকের পারিবারিক অবস্থা এবং তাঁর মরদেহ দেশে আনা বা দাফনের সময় ও স্থান সম্পর্কে স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি।
































