শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাদক নির্মূলে মুরাদনগর ওসির নতুন উদ্যোগ, থানায় বসলো ‘অভিযোগ বক্স’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম
পরিচয় গোপন রেখে মাদকের তথ্য দিন—মুরাদনগর থানায় ওসি আনোয়ারের ‘অভিযোগ বক্স’

পরিচয় গোপন রেখে মাদকের তথ্য দিন—মুরাদনগর থানায় ওসি আনোয়ারের ‘অভিযোগ বক্স’। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশ।
  • মাদকসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে থানার সামনে স্থাপন করা হয়েছে ‘অভিযোগ বক্স’।
  • শনিবার (১৫ আগস্ট) মুরাদনগর থানা ভবনের সামনে এ অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়।

মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশ। মাদকসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে থানার সামনে স্থাপন করা হয়েছে ‘অভিযোগ বক্স’।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মুরাদনগর থানা ভবনের সামনে এ অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী কিংবা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে যে কোনো নাগরিক লিখিত তথ্য অভিযোগ বক্সে জমা দিতে পারবেন। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। ফলে পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কা ছাড়াই স্থানীয়রা মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে পারবেন।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই অভিযোগ বক্সটি স্থাপন করা হয়েছে। যারা তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’

ওসি আরও জানান, মাদক নির্মূলে মুরাদনগর থানার নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ বক্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মুরাদনগর থানা, কুমিল্লা।

এদিকে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে কুমিল্লা জেলার অন্যান্য থানার মতো মুরাদনগর থানাতেও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র‌্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

মুরাদনগর থানার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়লে মাদক নির্মূলের উদ্যোগও শক্তিশালী হবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমানকে (৫০) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিজানুর রহমান কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে আবারও মারধর করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বাবার মোবাইলে ভিডিও দেখে মাকে জানান ছেলে

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমের দাবি, মাদ্রাসা সুপারের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে কিছু আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পায়। পরে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভিডিওগুলো ইব্রাহিমকে দেয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে তার কাছ থেকে স্থানীয় কয়েকজন ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিনের অভিযোগের দাবি স্থানীয়দের

স্থানীয় ইমরান ভূঁইয়া বলেন, মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ফতেহাবাদ মোকামবাড়ি মাদ্রাসা, হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি মাদ্রাসা এবং সর্বশেষ বর্তমান মাদ্রাসায় প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘ সময় প্রবাসেও ছিলেন।

ইমরান ভূঁইয়ার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে। বর্তমান মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনকালে গত দেড় বছরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত তিনবার সালিশ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. আমিন মিয়া বলেন, মাদ্রাসা সুপার প্রতি শুক্রবার জামাতের বৈঠক করতেন। নারীদের নিয়েও কমপ্লেক্সে বিভিন্ন বৈঠক করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে কেউ বাধা দিলে স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন বলেও দাবি করেন আমিন।

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ

চরবাকর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে মাদ্রাসা সুপার তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন।

ওই কিশোরীর অভিযোগ, তাকে কুফরি কালামের মাধ্যমে বশ করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সে সময় তিনি অচেতন অবস্থায় থাকতেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্তের দাবি, ভিডিওগুলো তার নয়

অভিযোগ অস্বীকার করে হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয়। এগুলো অন্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর আগে ওই ছাত্রীর পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পাশের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি বিয়ে পড়াতে রাজি না হওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, তার ওপর হামলার সময় তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম আহমেদ নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. মনিরুজ্জামান
— ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা, কুমিল্লা।

তিনি বলেন, এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা সুপারকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং তাকে ফের আটকে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক দেখলেই ‘এড়িয়ে যান’ কুমিল্লার ডিসি! বক্তব্য চাইলে পাঠান এডিসির কাছে, ফোনেও মেলে না সাড়া

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ পিএম
সাংবাদিক দেখলেই ‘এড়িয়ে যান’ কুমিল্লার ডিসি! বক্তব্য চাইলে পাঠান এডিসির কাছে, ফোনেও মেলে না সাড়া

সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লার ডিসির বিরুদ্ধে

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, যিনি সাংবাদিক দেখলেই এড়িয়ে যান। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং বক্তব্যের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।

দৈনিক আমার দেশ-এর কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসান মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে তার কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড নেওয়া হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয় বক্তব্য তাঁর কাছ থেকেই পাওয়া উচিত।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডিবিসি নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন। নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে তিনি কার্যালয়ে গেলে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে তাকেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।

নাসির উদ্দিনের দাবি, তিনি জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়েছে।

এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের মতে, জেলা প্রশাসক একটি জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হলে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার মুখে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা খসে এএসআই আহত, চাপা পড়ে সরকারি কম্পিউটার বিকল

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ এএম
ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা খসে এএসআই আহত, চাপা পড়ে সরকারি কম্পিউটার বিকল

নীলফামারীর ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দায়িত্ব পালনরত এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ছাদের ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে পুলিশের সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন। তিনি কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ থানার পুরোনো ভবনের ছাদের বড় একটি অংশের পলেস্তারা আচমকা খসে তাঁর কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন। একই সময় পলেস্তারা ও ছাদের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কক্ষে থাকা সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটারটি ভেঙে যায়। পরে কম্পিউটারটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে।

আহত এএসআই মো. মসলিম উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন বলেন, “আমি ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে আমার রুমের ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে। এতে আমার কাঁধে আঘাত লাগে।”

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি মেরামতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

দুর্ঘটনা কখনো বলে-কয়ে আসে না। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
শওকত আলী সরকার
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিমলা থানা।

ওসি আরও বলেন, “দুর্ঘটনা কখনো বলে-কয়ে আসে না। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ইতোমধ্যে নতুন ভবনের জন্য চাহিদা পাঠিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।”

স্থানীয়রা জানান, ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার পাশাপাশি থানায় সংরক্ষিত সরকারি নথি, গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একজন দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় থানার পুরোনো ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি নতুন থানা ভবন নির্মাণের কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করা হোক।

×
ENG