মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী বিক্ষোভে বাড়ি ভাঙচুর, পরিবার গ্রামছাড়া

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
দেবীদ্বারের নোয়াবগঞ্জ (কোটনা) গ্রামে কথিত মাদক কারবারি কাজী এনামুল হকের বাড়িতে ভাঙচুরের দুই দিন পর তোলা ছবি।

দেবীদ্বারের নোয়াবগঞ্জ (কোটনা) গ্রামে কথিত মাদক কারবারি কাজী এনামুল হকের বাড়িতে ভাঙচুরের দুই দিন পর তোলা ছবি।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • প্রায় সহস্রাধিক মানুষের বিক্ষোভ; ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কথিত মাদক কারবারির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছের ঘটনা ঘটেছে।
  • প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মাদকবিরোধী মিছিল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে অন্তত আটটি কক্ষের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • ঘটনার পর ওই পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রায় সহস্রাধিক মানুষের বিক্ষোভ; ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কথিত মাদক কারবারির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মাদকবিরোধী মিছিল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে অন্তত আটটি কক্ষের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ওই পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

দৈনিক আজকের কথা
মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে কোনো নিরপরাধ পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়। প্রকৃত মাদক কারবারি থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, আর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
— স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নোয়াবগঞ্জ (কোটনা) গ্রামের কাজীবাড়িতে। বাড়িটির মালিক অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আলহাজ্ব মাওলানা কাজী আব্দুস সালাম পীর (৮২)।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে একদল লোক ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়ির দরবার কক্ষসহ প্রায় আটটি কক্ষ তছনছ করা হয়। ঘরে থাকা খাট, চৌকি, চারটি ফ্রিজ, দুটি সোফাসেট, টেলিভিশন, রান্নাঘর, মাটির চুলা, বাথরুম-টয়লেট, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ভাঙচুরের সময় বাড়ির মূল্যবান কিছু জিনিসপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটির বিভিন্ন অংশ বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা আসবাবপত্র ও ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী। পুরো বাড়িতে ছিল সুনসান নীরবতা। পরিবারের কোনো সদস্যকে সেখানে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পঞ্চাশোর্ধ্ব একাধিক প্রতিবেশী দাবি করেন, কাজী আব্দুস সালামের ছেলে কাজী এনামুল হক (৩৩) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এনামুল এর আগে মাদক ও নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, গত রমজান মাস ও কোরবানির ঈদের সময় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এনামুল ও তার দুই ভাইকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুরোধ করা হয়। এমনকি কয়েক দফায় সময় দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন, ব্যবসা কিংবা বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

তাদের দাবি, এরপর গত আগস্ট মাসে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় মসজিদগুলোতে সভা এবং মাইকিংও করা হয়।

ইয়াবাসহ দুই যুবক আটকের পর উত্তেজনা

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে ওই বাড়ির সামনের এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের মো. রিপন হোসেন (২৮) ও সাগর (২৪)। স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা কাজী এনামুল হকের কাছ থেকে ইয়াবা কেনার কথা বলেছে এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের কথাও জানিয়েছে।

এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর মাদকবিরোধী বিক্ষোভ আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। পরে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে কাজী এনামুলের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি দাবি করেন, এনামুল একসময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত মেনে তিনি সরে আসার চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষ্য, আটক দুই যুবকের কাছ থেকে এনামুলের নাম আসার পরই মূলত বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, আটক যুবকরা প্রকৃতপক্ষে অন্য একটি এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “কাজী আব্দুস সালাম এলাকায় দীর্ঘদিনের সম্মানিত ব্যক্তি। মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তার পরিবারের বাড়িঘর এভাবে ভাঙচুর এবং সবাইকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

থানায় অভিযোগ নেই, তদন্তের সুযোগ রাখার কথা পুলিশের

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এনামুল হক একজন নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা ও একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রয়েছে।”

বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে।”

স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর কিংবা সামাজিকভাবে হয়রানির ঘটনাও যেন না ঘটে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

সামাজিক সালিসে অভিযুক্ত ও তার দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ, পরিবারকে নিয়ে উঠেছে মানবাধিকার প্রশ্ন

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার পৈরাংকুল গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে (৪০) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল আব্দু মার্কেট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার একমাত্র আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা’র কথা বলে মামলা দায়েরে বিলম্ব ঘটিয়েছেন।

দৈনিক আজকের কথা
বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
— মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা

পরে মামলা হলেও অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

সামাজিক সালিসে অভিযুক্তসহ দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া

এদিকে ঘটনার পর গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের সঙ্গে তাঁর দুই কর্মক্ষম ছেলেকেও গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাঁর দুই ছেলে—রাজমিস্ত্রি খায়রুল ইসলাম (২৩) ও অটোরিকশাচালক মো. রুহুল আমিন (২০)। তবে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদের মানবিক বিবেচনায় বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনায় সামাজিক সালিসের সিদ্ধান্ত নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সালিসদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, তার সঙ্গে পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া করা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। এতে পরিবারটির জীবিকা ও মানবিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করেনি’—সালিসদারের দাবি

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আলী হোসেন বলেন, “সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনসহ তাঁর দুই ছেলেকে গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা তাঁদের অভিযুক্ত বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করেননি। ফারুক গ্রেপ্তার হলে তাঁর দুই ছেলে গ্রামে ফিরে আসতে পারবে।”

তবে এ সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় এক সালিসদার। তাঁর মতে, ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দায় পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর চাপানো উচিত নয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ইউছুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৈরাংকুল-কোনাহাটি এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের মুদি দোকানের পেছনে ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং মামলা দায়েরে বিলম্বের অভিযোগ ওঠে।

পরে ভুক্তভোগী নারীর ভাই মো. হান্নান মিয়া বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।

পুলিশের অভিযান অব্যাহত

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মো. বাছির, মো. খাইরুল আমীন, আবুল হাসেম, মো. ছোটন মিয়া, মো. রায়হান মোরশেদ, মো. সোহেলসহ স্থানীয়রা।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের সামাজিকভাবে হয়রানি বা শাস্তির আওতায় না আনার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

রূপ নয়, মানুষের পরিচয় তার চরিত্রে—আলেয়া মান্নানের কবিতায় আত্মশুদ্ধির আহ্বান

“রূপের সাগর: সৌন্দর্যের অহংকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে কবির সতর্কবার্তা”

আলেয়া মান্নান, কবি ও লেখক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ এএম
“রূপের সাগর: সৌন্দর্যের অহংকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে কবির সতর্কবার্তা”

রূপের সাগর

রূপের মোহে হারিয়ে যাওয়া এক মানুষের প্রতি সতর্ক উচ্চারণ

কবি: আলেয়া মান্নান

রূপের কী যে বাহার তোমার—
যেন রূপের সাগর,
চোখে-মুখে রূপের মেলা,
অঙ্গে রূপের জোয়ার।

রূপ নিয়ে এত অহংকার,
এত কিসের গরব?
রূপের আলো ম্লান হয়ে যায়—
মন যদি হয় পাথর।

রূপনগরে থাকো বুঝি,
রূপই তোমার ধ্যান,
অঙ্গে যেন রূপের বন্যা,
মনে কোথায় প্রাণ?

হাসির আড়াল, মিষ্টি কথায়
জয় করো কত মন,
কিন্তু ভেতর শূন্য হলে
কীসের এত আয়োজন?

অহংকারে মত্ত তুমি,
ভুলে গেছো ভালো-মন্দ,
হাজার মানুষের প্রেমের খেলায়
কখন যে হলে নিঃসঙ্গ!

এখানে-ওখানে ছুটে বেড়াও
প্রেমেরই সন্ধানে,
একদিন দেখবে—আপন মানুষ
নেই আর পাশে টানে।

ও রূপের মানুষ, রূপ ফুটেছে
তোমার অঙ্গে ভরা,
তাই বলে কি প্রেম কুড়াতে
হবে না কোনো সীমানা?

সকাল পেরিয়ে দুপুর আসে,
দুপুর গড়িয়ে রাত,
প্রেমের নামে ছুটে বেড়াও—
কত হৃদয়ে আঘাত!

আকাশ থেকে পাতাল অবধি
খুঁজে ফেরো ভালোবাসা,
কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছো—
কোথায় সত্যিকারের আশা?

নেই কি মনে আল্লাহ-রাসুলের
একটুও কোনো ভয়?
ভেবেছো কি অভিনয় করে
জীবনে মিলবে জয়?

দুনিয়ার চোখ ফাঁকি দিলেও
ফাঁকি কি দেওয়া যায়?
নীরব রাতের গোপন কান্না
কারও কি অগোচর রয়?

হোয়াটসঅ্যাপে মিষ্টি কথা,
ফেসবুকে প্রেমের ছল,
মেসেঞ্জারে আবেগ ঝরে—
বাড়ে হৃদয়ের জল।

টেলিফোনে শুভেচ্ছা পাঠাও,
ইমুতে পাঠাও ছবি,
ইনস্টাগ্রামে ‘হাই-হ্যালো’,
টেলিগ্রামে—‘তোমারই হব আমি’!

কথার জালে, মায়ার ছলে
কত হৃদয় নাও জিতে,
‘ভালোবাসি’ শব্দটি দিয়ে
কত মানুষ যাও রীতিমতো ভেঙে দিতে।

রূপের বাহার তোমার অঙ্গে,
রূপের যেন বন্যা,
কত হৃদয়ে ঢেলেছো তুমি
মিথ্যে প্রেমের ঝর্ণা?

কত চোখে জাগিয়েছো স্বপ্ন,
কত মনে দিয়েছো ঘা,
কত মানুষ তোমার ছলনায়
হারিয়েছে আপন ঠিকানা!

‘ভালোবাসি’ বলার আগে
একবার ভেবো তবে—
ভাঙা হৃদয়ের কান্নাগুলো
কার কাছে গিয়ে রবে?

রূপ তো একদিন ঝরে যাবে,
যৌবন হবে ক্ষয়,
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
থাকবে শুধু পরিচয়।

যে হৃদয় নিয়ে খেলেছো তুমি,
যে চোখে দিয়েছো জল,
সেই অশ্রুরও হিসাব আছে—
ভুলো না সেই কথা বল।

আজও সময় আছে তোমার,
ফিরে এসো নিজের কাছে,
মিথ্যে প্রেমের পথ ছেড়ে দাও,
সত্যকে রাখো পাশে।

সব মোহ, মায়া, অহংকার ছেড়ে
শুদ্ধ করো চরিত্র,
মানুষের হৃদয় নিয়ে খেলা
নয় জীবনের কৃতিত্ব।

ভাবো—এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়,
সবাই যাবে একদিন,
রূপ-যৌবন, অর্থ-অহংকার
থাকবে না তো কোনো দিন।

প্রভুর দরবারে যেদিন তুমি
পড়ে যাবে ধরা,
সেদিন বুঝবে—রূপ নয়, মানুষ হওয়াই
জীবনের সবচেয়ে বড় সওগাত সারা।

সেদিন কোনো অভিনয় নয়,
চলবে না কোনো ছল,
নিজের কর্মের আয়নায় তখন
দেখবে নিজেরই মুখখানি অবিকল।

তাই বলি আজ, ও রূপের মানুষ—
থামাও মিথ্যে খেলা,
রূপের অহংকার ভুলে গিয়ে
মানুষ হও, মন মেলা।

কারণ রূপের সাগর শুকিয়ে যায়,
ঝরে যায় ফুলের ঘ্রাণ—
কিন্তু ভালো মানুষের ভালোবাসা
বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ, অম্লান।


কবি পরিচিতি

আলেয়া মান্নান নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন।

তিনি একাধারে একজন সংসারী, কর্মজীবী ও জীবনসংগ্রামী মা। ভ্রমণপিপাসু ও দুরন্ত শৈশবের স্মৃতিবাহী কবি সহজ-সরল জীবনযাপন পছন্দ করেন। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

দৈনিক আজকের কথা
রূপ-সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের চরিত্র ও কর্মই তার প্রকৃত পরিচয়। রূপের অহংকারে অন্যের হৃদয় নিয়ে খেলা, মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় কিংবা সম্পর্ককে বিনোদনে পরিণত করার পরিণতি একদিন না একদিন মানুষকে বুঝতেই হয়। তাই সময় থাকতে অহংকার, প্রতারণা ও মিথ্যা প্রেমের পথ ছেড়ে নিজেকে সংশোধন করা উচিত।
— আলেয়া মান্নান
কবি, সাহিত্যিক ও লেখক।

সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর কবিতার পথচলা। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৩৫টিরও বেশি কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখায় ব্যক্তি-জীবনের অভিজ্ঞতা, মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বান বিভিন্নভাবে উঠে আসে।

গুরুতর অসদাচরণে স্থায়ী বরখাস্ত

মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ! তদন্তে প্রমাণ, ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ! তদন্তে প্রমাণ, ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত

মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ কাণ্ড, ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত

তদন্তে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ, স্থায়ী বরখাস্ত

কুমিল্লার মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

দৈনিক আজকের কথা
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
— রোজী আক্তার
জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা

অভিযোগের তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) গত ১২ আগস্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের সিদ্ধান্ত তার চাকরির সার্ভিস বইয়ে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রাপ্য জীবিকা ভাতা পাওয়ার কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগেও কারাগারে ছিলেন, উঠেছে নানা অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে এর আগেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন ইসমাইল হোসেন। এ ঘটনায় তিনি প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

কারাগার থেকে মুক্তির পরও তিনি একই ধরনের অনিয়মে জড়িয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ ঘটনায় মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একজন ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তা নাগরিক সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থেকে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং নাগরিকদের সরকারি সেবা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
ENG