ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হৃদয়ছোঁয়া সৌন্দর্য: স্থাপত্য ও তাওহিদের সম্মিলনে ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’

স্থাপত্যশৈলী ও তাওহিদের সৌন্দর্যে মোড়ানো ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ শুধু একটি নামাজঘর নয়, বরং এটি যেন ঈমান, আবেগ ও নান্দনিকতার এক পবিত্র সমাহার। মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের হরপাড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি এখন হাজারো পথচারী, মুসল্লি ও পর্যটকের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। প্রথম দর্শনেই যে কারো চোখ আটকে যায় এর গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার ও মনোমুগ্ধকর কাঠের দরজায়—যা যেন ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি শিল্পচেতনার প্রতীক।

২০১৫ সালের ১২ জুন পবিত্র জুমার জামাআতের মাধ্যমে শুরু হয় এই মসজিদের আনুষ্ঠানিক ইবাদতের পথচলা। প্রায় ৩০ শতক জমির ওপর নির্মিত, প্রায় ২০০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশাল স্থাপনাটি আল্লাহর ঘরকে ঘিরে নির্মিত একটি স্বপ্ন। আলাদা নারীদের নামাজের জায়গা, সুউচ্চ মিনার, ঝাড়বাতির জৌলুস, মিহরাবের কারুকার্য—সব মিলিয়ে এটি যেন হৃদয়ের গহীনে ঢুকে পড়া এক আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য।
মসজিদের মূল সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে তার নিখুঁত নকশা ও পরিবেশবান্ধব কাঠামোয়। ছাদের বিশাল গম্বুজ ও চারপাশের মিনারগুলো শুধু আকাশে সৌন্দর্যের রেখা টানে না, বরং তারা যেন তাওহিদের বার্তা বহন করে। ২০টি জানালা দিয়ে আসা আলো-হাওয়া নামাজের সময় মুসল্লিদের জন্য এক অনাবিল প্রশান্তি নিয়ে আসে।
শুধু ইবাদত নয়, মসজিদটির আশেপাশে গড়ে উঠেছে একটি নূরানী মাদ্রাসা। যেখানে গরিব ও পথশিশুরা পাচ্ছে কুরআন ও প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষার সুযোগ। কোনো প্রাচুর্য নয়, বরং আন্তরিকতা ও খালেস নিয়তে পরিচালিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমসহ পাঁচজন নিষ্ঠাবান দ্বীনি খেদমতে জীবন ব্যয় করছেন এখানে।

প্রতিদিনই এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রীরা একবার হলেও থেমে যান এই মসজিদের সামনে। কেউ নামাজ আদায় করেন, কেউ মোবাইলে বন্দি করেন এই অপূর্ব সৌন্দর্য। পদ্মা সেতু রেললাইন মসজিদের পেছনে দিয়ে চলে গেছে—যা এর সৌন্দর্যকে করে তুলেছে দ্বিগুণ গৌরবময়।
ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিক্ষা ও স্থাপত্যের এক অপূর্ব সম্মিলন হয়ে ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ এখন কেবল ইবাদতের কেন্দ্র নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি সময়ের সাক্ষ্যবাহী নিদর্শন। এ স্থাপত্যশৈলী যেন প্রমাণ করে—আল্লাহর ঘর শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের আত্মা, সংস্কৃতি ও অনুভবের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আজ, এই মসজিদ শুধু মুন্সীগঞ্জ নয়—সারা দেশের মুসলমানদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযান: ৫ ড্রেজার ও ১,৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযানে ৫টি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে। কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং ড্রেজার ব্যবহারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে সুলতানপুর ইউনিয়নের বক্রিকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার ও ৫০০ ফুট পাইপ, রামের দিঘির পাড় এলাকায় দুটি ড্রেজার ও ৩০০ ফুট পাইপ এবং কুরছাপ এলাকায় একটি ড্রেজার ও ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে মোট পাঁচটি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা বন্ধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ যুবক আটক, পুলিশের কাছে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে মো. শিপন মিয়া (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেরপুকুরপাড় গ্রামের আবুল হাসেমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আটক শিপন মিয়া ওই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে।

স্থানীয়রা মো. শিপন মিয়াকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে শিপন মিয়া ইয়াবা বিক্রি করছেন—এমন খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় তাকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাত্রিকালীন টহলে থাকা দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাঁধন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, পরে শিপন মিয়ার দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবীদ্বারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫; মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফুটবল খেলায় গোল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জেরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলার কালিকাপুর সমাজকল্যাণ যুব সংঘ আয়োজিত ‘ফ্রিজ-টিভি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলার শেষ পর্যায়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফাইনালে উপজেলার ভিরাল্লা ও আলিয়াবাদ দল অংশ নেয়।

ডিআইজি স্যার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন। আমরা ফুলগাছতলা এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করছিলাম। পরে জানতে পারি, ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেলার প্রথমার্ধে ভিরাল্লা গোল করে এগিয়ে যায়। পরে আলিয়াবাদ গোল করে খেলায় সমতা ফেরায়। এ সময় গোল নিয়ে ভিরাল্লার সমর্থক তুহিন ও আলিয়াবাদের সমর্থক জসিমের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা উভয় পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, ভিরাল্লার সমর্থকদের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর তাদের দুটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন আটকে রাখা হয়। এছাড়া একটি পিকআপ ভ্যানের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে আলিয়াবাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর ভিরাল্লার কয়েকজন সমর্থক কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভিরাল্লা অংশে গাছ ফেলে অবরোধ করেন।

এ ঘটনায় এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আরেক পক্ষও অভিযোগ নিয়ে আসছে বলে শুনেছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক অবরোধের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া অবরোধ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাস এবং স্থানীয় মুরব্বিদের সহযোগিতায় অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মো. শান্ত (২৮), মো. তুহিন (৩৭), মো. লিটন (২৫), মো. রাব্বি (২৭) ও মো. সাব্বির হোসেন (২৪) দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দেবীদ্বারে দায়িত্বরত ট্রাফিক সহকারী সার্জেন্ট তাপস দাস বলেন, “ডিআইজি স্যার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন। আমরা ফুলগাছতলা এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করছিলাম। পরে জানতে পারি, ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।”
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আরেক পক্ষও অভিযোগ নিয়ে আসছে বলে শুনেছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক অবরোধের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






















