এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—দলে আবেদন করেও বাদ পড়লেন আলোচিত মাদকাসক্ত রিকশাচালক সুজন

এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: বাদ পড়লেন রিকশাচালক সুজন | ১২৫ আসনের সম্পূর্ণ তালিকা
এনসিপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে দলটি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
তবে তালিকায় নেই গত বছরের কথিত জুলাইয়ের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি স্যালুট দিয়ে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসা মাদকাসক্ত রিকশাচালক সুজনের নাম। ঢাকা–৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা থেকে গত ২০ নভেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এনসিপির প্রার্থী তালিকা–তে তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল।
এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন,
“আমরা মনোনয়নপত্র বিতরণ সম্পন্ন করেছি। আজ প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করছি। যাদের নাম প্রকাশ করেছি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।”
উত্তরাঞ্চলের আসনে যাদের মনোনয়ন
পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মো. রবিউল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মো. গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুর-৩ আসনে আ হ ম শামসুল মুকতাদির, দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আব্দুল আহাদ, নীলফামারী-২ আসনে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. আবু সায়েদ লিয়ন, লালমনিরহাট-২ আসনে রাসেল আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আসনে মো. রকিবুল হাসান মনোনয়ন পেয়েছেন।
রংপুর-১ এ মো. আল মামুন, রংপুর-৪ এ আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ এ মো. মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ এ ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ এ ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাঈদ জনি, গাইবান্ধা-৩ এ মো. নাজমুল হাসান সোহাগ, গাইবান্ধা-৫ এ ডা. আ. খ. ম. আসাদুজ্জামান, জয়পুরহাট-১ এ গোলাম কিবরিয়া, জয়পুরহাট-২ এ আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল, বগুড়া-৬ এ আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ এ মু. নাজমুল হুদা খান (রুবেল খান) প্রার্থী হচ্ছেন।
রাজশাহী ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রার্থী
নওগাঁ-১ এ কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, নওগাঁ-২ এ মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী, নওগাঁ-৩ এ পরিমল চন্দ্র (উরাও), নওগাঁ-৪ এ মো. আব্দুল হামিদ, নওগাঁ-৫ এ মনিরা শারমিন মনোনীত হয়েছেন।
নাটোর-২ এ আব্দুল মান্নাফ, নাটোর-৩ এ অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৩ এ দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ-৪ এ দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), সিরাজগঞ্জ-৫ এ মনজুর কাদের ও সিরাজগঞ্জ-৬ এ এস এম সাইফ মোস্তাফিজও মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ ছাড়া পাবনা-৪ এ অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুল মজিদ, মেহেরপুর-১ এ মো. সোহেল রানা, মেহেরপুর-২ এ অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, চুয়াডাঙ্গা-১ এ মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, ঝিনাইদহ-১ এ অ্যাডভোকেট লাবাবুল বাসার (দয়াল বাসার), যশোর-৪ এ মো. শাহজাহান কবীর, মাগুরা-২ এ মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ এ মোল্যা রহমাতুল্লাহ, খুলনা-১ এ মো. ওয়াহিদ উজ জামান, খুলনা-২ এ ফরিদুল হক, পটুয়াখালী-১ এ অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও পটুয়াখালী-২ এ মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন মনোনয়ন পেয়েছেন।
বরিশাল ও মধ্যাঞ্চলের প্রার্থী
ভোলা-১ এ অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, বরিশাল-৪ এ আবু সাঈদ মুসা, বরিশাল-৫ এ মো. নুরুল হুদা চৌধুরী, ঝালকাঠি-১ এ ডা. মাহমুদা আলম মিতু, পিরোজপুর-৩ এ ড. মো. শামীম হামিদী মনোনীত হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-১ এ সাইদুল ইসলাম (শহিদ সাজিদের পরিবার), টাঙ্গাইল-৩ এ সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল-৫ এ মাসুদুর রহমান রাসেল, টাঙ্গাইল-৭ এ খন্দকার মাসুদ পারভেজ, জামালপুর-৪ এ ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, শেরপুর-১ এ ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া ও শেরপুর-২ এ খোকন চন্দ্র বর্মণ মনোনয়ন পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ-১ এ মো. আবু রেহান, ময়মনসিংহ-৩ এ কবি সেলিম বালা, ময়মনসিংহ-৫ এ মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ এ জাবেদ রাসিন, ময়মনসিংহ-৭ এ অ্যাডভোকেট এ. টি. এম. মাহবুব-উল আলম, ময়মনসিংহ-৯ এ আশিকিন আলম (রাজন), ময়মনসিংহ-১১ এ তানহা শান্তা, নেত্রকোণা-২ এ ফাহিম রহমান খান পাঠান, নেত্রকোণা-৩ এ প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম), কিশোরগঞ্জ-২ এ আবু সাঈদ (সাঈদ উজ্জ্বল), কিশোরগঞ্জ-৩ এ শেখ খায়রুল কবির আহমেদও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী
মুন্সিগঞ্জ-১ এ আলী নেওয়াজ, মুন্সিগঞ্জ-২ এ মাজেদুল ইসলাম, ঢাকা-১ এ মো. রাসেল আহমেদ, ঢাকা-৪ এ ডা. জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৫ এ এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা-৭ এ তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ এ ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১১ এ মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ এ নাহিদা সারওয়ার নিভা, ঢাকা-১৩ এ আকরাম হুসাইন, ঢাকা-১৫ এ অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ঢাকা-১৬ এ আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৭ এ ডা. তাজনূভা জাবীন, ঢাকা-১৮ এ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৯ এ ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও ঢাকা-২০ এ ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এনসিপির প্রার্থী তালিকা–তে মনোনয়ন পেয়েছেন।
গাজীপুর-৬ এ ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, নরসিংদী-১ এ মো. আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, নরসিংদী-২ এ সারোয়ার তুষার, নরসিংদী-৪ এ ডা. মো. মামুনুর রহমান জাহাঙ্গীর, নরসিংদী-৫ এ মো. নাজমুল হক সিকদার, নারায়ণগঞ্জ-৪ এ অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ এ আহমেদুর রহমান তনুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
দক্ষিণাঞ্চলের মনোনীত প্রার্থী
গোপালগঞ্জ-১ এ প্রলয় কুমার পাল, গোপালগঞ্জ-৩ এ মো. আরিফুল দাড়িয়া, শরীয়তপুর-১ এ মো. আব্দুর রহমান, সিলেট-১ এ এহতেশাম হক, সিলেট-৩ এ ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট-৪ এ মো. রাশেল উল আলম, মৌলভীবাজার-৪ এ প্রীতম দাশ, হবিগঞ্জ-৪ এ নাহিদ উদ্দিন তারেক মনোনয়ন পেয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এ মো. আতাউল্লাহ, কুমিল্লা-৪ এ হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৬ এ নাভিদ নওরোজ শাহ, চাঁদপুর-১ এ আরিফুল ইসলাম, চাঁদপুর-২ এ ইসরাত জাহান বিন্দু, চাঁদপুর-৫ এ মো. মাহাবুব আলম, ফেনী-৩ এ মোহাম্মাদ আবুল কাশেম মনোনয়ন পেয়েছেন।
নোয়াখালী-১ এ ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ এ অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, নোয়াখালী-৬ এ আব্দুল হান্নান মাসউদ, চট্টগ্রাম-৬ এ মহিউদ্দিন জিলানী, চট্টগ্রাম-৮ এ মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ এ মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী সিন্টু, চট্টগ্রাম-১০ এ সাগুফতা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম-১১ এ মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, চট্টগ্রাম-১৩ এ জুবাইরুল আলম মানিক, চট্টগ্রাম-১৪ এ মুহাম্মদ হাসান আলীম, চট্টগ্রাম-১৫ এ আবদুল মাবুদ সৈয়দ ও চট্টগ্রাম-১৬ এ মীর আরশাদুল হক মনোনয়ন পেয়েছেন।
কক্সবাজার-১ এ মো. মাইমুল আহসাম খান, কক্সবাজার-২ এ আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, কক্সবাজার-৪ এ মুহাম্মদ হোসাইন, খাগড়াছড়িতে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, রাঙামাটিতে প্রিয় চাকমা এবং বান্দরবানে মংসা প্রু চৌধুরীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়িতে, সামনে বাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে তুহিনের বিরুদ্ধে এক কিশোরের মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে একটি লিখিত অভিযোগের কপি থেকে জানা গেছে।
ওই অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগকারীর ছেলে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি মোটরসাইকেল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। তুহিনের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় তুহিন প্রায়ই মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলাচল করতেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তুহিন মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য ফোন করেন। পরে অভিযোগকারীর ছেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর এলাকার একটি স্থানে যান এবং তুহিনের কাছে সেটি দেন। এরপর তিনি কাছের একটি দোকানে বসে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তুহিনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেরত চাইলে তিনি সেটি তার কাছে নেই বলে জানান। পরে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও সেটি আর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করা হলেও মামলা না নিয়ে শুধু জিডি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর বক্তব্য।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার ওপর কোনো রাজনৈতিক দলের বড় নেতার প্রভাব রয়েছে—এমন কথাও পুলিশ পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অপ্রতিমের ঘটনায় ফের আলোচনায় তুহিন
পুরোনো ওই অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই অপ্রতিমের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় তুহিনসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়ার পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তের অংশ হিসেবে তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, উদ্ধার হওয়া ফোনের কললিস্ট, মেসেজ, লোকেশনসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার আগে ও পরে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়।
পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান তদন্তের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ
অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে তুহিনের বিরুদ্ধে আগে থাকা মোটরসাইকেল নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তসংশ্লিষ্টদের নজরে আসতে পারে।
তবে ২০২৫ সালের মোটরসাইকেল সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরোনো অভিযোগে তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; সেটি কোনো আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাই পুরোনো অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমান ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আইফোন, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো অভিযোগে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
দেবীদ্বারে আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন

চিকিৎসাসেবা ব্যবসা নয়, এটি মহৎ ও মানবিক সেবা: অধ্যাপক ডা. আছিফ মাহমুদ
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর নিউমার্কেট এলাকায় আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ‘আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পরিচালিত হবে।
আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. মো. সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আল আমিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আছিফ মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার ডা. জসীম উদ্দিন হাড়ভাঙা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মানসুরুল হক, ডা. মো. দ্বীন মোহাম্মদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা এভারগ্রীন হসপিটালের পরিচালক ইউনুছ মাস্টার, ইউছুফপুর আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু কাউছার, মো. মাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মেম্বার, মাওলানা আলাউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. শাহাদাত হোসেন দুলালসহ অন্যরা।

চিকিৎসাসেবা কোনো সাধারণ ব্যবসা নয়, এটি একটি মহৎ ও মানবিক সেবা।
তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার মানুষকে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকাসহ বড় শহরে ছুটতে হয়। নিজ এলাকায় আধুনিক রোগ নির্ণয়ের সুযোগ তৈরি হওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ভুল রিপোর্ট ও স্বল্প খরচে সেবা নিশ্চিত করে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়িক মুনাফার ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মো. আব্দুল লতিফ।
শেষ বিকেলে ভালোবাসার আলো হয়ে থাকার আকুতি

কবিতা
শেষ বিকেল
আলেয়া মান্নান
যদি তুমি দৃষ্টি মেলো,
সবুজের আলো ছড়িয়ে দেব।
আমি শেষ বিকেলের আলো হব।
তুমি যদি জীবনের পাল তোলো,
পাখির সুরে আমি গান শোনাব।
এসো যদি বেলা শেষে ফিরে,
তোমায় রাখব আমার নীড়ে।
স্মৃতি হয়ে থাকব তোমার হৃদয়ে,
যতই যাও তুমি আমায় কাঁদিয়ে।
পিছু ফিরে দেখো যদি তোমার চলার পথে,
চেয়ে দেখবে ছায়া হয়ে চলছি আমি সাথে।
চলতে গিয়ে পথ যদি হারিয়ে তুমি ফেলো,
তখন এসে আমি তোমায় পথ দেখিয়ে দেব।
যত দূর যেতে চাও, আলো হয়ে জ্বলব,
যদি গাও জীবনের গান, সুর হয়ে বাজব।
থাকো যদি কভু তুমি আকাশ পানে তাকিয়ে,
তারা রূপে জ্বলব আমি তোমার হৃদয় জুড়িয়ে।
চলতে গিয়ে যদি কোথাও হারিয়ে তুমি যাও,
ফিরিয়ে নিতে অপেক্ষা করব, তুমি যদি চাও।
নিঃস্ব যদি ভাবো তুমি শেষ বিকেলে,
তখন যে জড়িয়ে নেব কোমল মায়ার জালে।
ফুল হয়ে ফুটব তোমার শূন্য কাননে।
অনুরোধ শুধু এতটুকুই—রেখো আমায় স্মরণে।
কবির পরিচিতি
আলেয়া মান্নান একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। তাঁর লেখা ৫০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার পাশাপাশি তিনি ভ্রমণপ্রেমী এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবনঘনিষ্ঠ অনুভূতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জন্ম নেওয়া কবি আলেয়া মান্নান একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী ও জীবনসংগ্রামী মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপন তাঁর ব্যক্তিজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কবির নাম: আলেয়া মান্নান
এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন
জন্মস্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা
বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

শেষ বিকেল’ কবিতায় আমি ভালোবাসা, অপেক্ষা, স্মৃতি ও নির্ভরতার অনুভূতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জীবনের পথচলায় প্রিয় মানুষ কখনো হারিয়ে গেলেও তার জন্য আলো হয়ে থাকা, ছায়ার মতো পাশে থাকা এবং ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার অনুভূতিই এই কবিতার মূল কথা। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মানুষটির হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকার আকুতিই কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে।





























