বালাগঞ্জে বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ, থানায় জিডি

৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, না দিলেই মারধর—বালাগঞ্জে বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান মুন্না ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী।
অভিযোগে বলা হয়, বালাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সদস্য ইমরান আহমদ রুমন এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার আজিজুল ইসলাম করচারপাড় এলাকায় ট্রাকের মাধ্যমে মাটি ও বালু পরিবহনের কাজ করে থাকেন। সম্প্রতি তাদের ট্রাকচালকের কাছে অভিযুক্ত মুন্না ও তার সহযোগীরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বালু পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চালক এতে আপত্তি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানানো হলে ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তার মোটরসাইকেলের চাবি জোরপূর্বক নিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, মুন্না ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। এর আগে পশ্চিম নবীনগর এলাকায় এক ভাঙারি দোকানদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কয়েকদিন আগে সুহেল নামে এক ব্যক্তিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করার একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। গত ১২ মার্চ বালাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট এলাকায় সোহেল নামের আরেক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
অভিযোগকারী ইমরান আহমদ রুমন জানান, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি বালাগঞ্জ বাজারে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে পূবালী ব্যাংকের সামনে অভিযুক্তরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাবে আরও কাছে
জুড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সিটি ব্যাংকের নতুন শাখা

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো সিটি ব্যাংকের নতুন শাখা। উপজেলার শিশু পার্ক সংলগ্ন শরিফ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত এ শাখার কার্যক্রম সোমবার (২২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা নতুন শাখার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিটি ব্যাংকের সিলেট বিভাগীয় প্রধান শাহ হাসান, সিলেট আম্বরখানা শাখার ম্যানেজার সারোয়ার আহমেদ ফেরদৌস, মৌলভীবাজার শাখার ম্যানেজার মামুন রহমান, কুলাউড়া শাখার ম্যানেজার মামুন আলী এবং বড়লেখা শাখার ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি জুড়ী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও হাকালুকি নিউজের সম্পাদক এম এম সামছুল ইসলাম, জুড়ী কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতির সভাপতি নূরুল আম্বিয়া এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের জুড়ী উপজেলা সদস্য কাজী আমজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিটি ব্যাংক জুড়ী শাখার ম্যানেজার শুভ্র দাস শুভ। তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে জুড়ী শাখা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
নবীনগরে ব্যবসায়ী কামাল ভেন্ডারের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ব্যবসায়ী মো. কামাল ভেন্ডারের গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় নবীনগর পৌর এলাকার আলিয়াবাদে গ্রেপ্তারকৃত কামাল ভেন্ডারের নিজ বাড়িতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ গভীর রাতে কামাল ভেন্ডারকে তার বাসা থেকে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাকে একটি মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তারা বলেন, কামাল ভেন্ডার দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং তিনি একজন নিরপরাধ ও সম্মানিত ব্যবসায়ী।
পরিবারের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই সঙ্গে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে কামাল ভেন্ডারের মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নবীনগর বাজারের বহু ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছুটিতে মুখর সমুদ্র সৈকত
কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড়, বাড়ছে সাগর-ঢেউ দেখার আকর্ষণ

সপ্তাহের ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা। সাগরের গর্জন, উত্তাল ঢেউ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং উন্নত পর্যটনসেবা ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করছে।
সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের উপস্থিতি। সপ্তাহান্তের ছুটি এবং অনুকূল মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা ছুটে আসছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে।
স্থানীয় হোটেল ও মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে পর্যটকদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আবাসিক কক্ষের বুকিং প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কুয়াকাটার মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য, সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং ঝাউবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন।
ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, কুয়াকাটার ঢেউ, সাগরের গর্জন এবং বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা তাদের মুগ্ধ করেছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটিয়ে তারা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছেন।
পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকত এলাকায় নতুন করে বসার বেঞ্চ স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিরাপত্তা ও সার্বিক তদারকিতে সক্রিয় রয়েছেন।
“কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম সম্ভাবনাময় কেন্দ্র। পর্যটকদের আগমন যেমন স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করে, তেমনি এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ কুয়াকাটা গড়ে তুলতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আজকের কথা
সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটরদের প্রত্যাশা, সামনের মাসগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
















