

স্ত্রী-সন্তানের কাছে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করেছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রতি জয়ধর (৪৫)। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হলো সীমান্তের নদীতে—গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হলো তার নিথর দেহ।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের কাছ থেকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। ধারণা করা হচ্ছে এটি কয়েকদিন আগের ঘটনা।
পুলিশ জানায়, মরদেহে একাধিক গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে—ঘাড়, পিঠ ও পাঁজরের নিচে ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নদীতে পড়ে মারা যান। তবে ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন তার ভাই রনজিত জয়ধর। তিনি জানান, রতির পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে অবস্থান করছিল। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি তিনি বাড়ি-ঘর বিক্রি করে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রতির মৃত্যুতে কোটালীপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল মরদেহ ফেরার অপেক্ষায়।