মুরাদনগরে তিন খুন: শিমুল চেয়ারম্যানকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

মুরাদনগরে তিন খুন-এর ঘটনায় ১০ দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল এখনও পলাতক। তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন—ঘাতকেরা এখনও তাদের খুনের হুমকি দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, কেন ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করা যায়নি পরিকল্পনাকারী চেয়ারম্যানকে।
কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি এলাকায় গত ৩ জুলাই মোবাইল ফোন চুরি ও মাদক কারবারের গুজবের ভিত্তিতে রোকসানা বেগম রুবি, তাঁর মেয়ে জোনাকি আক্তার ও ছেলে রাসেল মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রুবির অন্য দুই মেয়ে—রিক্তা আক্তার ও রুমা আক্তার প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। রুমা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে রিক্তা বলেন, ‘আমরা দুই বোন এখন আতঙ্কে আছি। মা, ভাইবোনের হত্যার পর ঘাতকরা সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে প্রয়োজনে ৫-১০ কোটি টাকা খরচ করে আমাদেরও মেরে ফেলবে। দিনরাত আতঙ্কে থাকি। অপরিচিত কাউকে দেখলে মনে হয়, ঘাতকেরা এলো।’
পরদিন, ৪ জুলাই, বাঙ্গরা বাজার থানায় রিক্তা আক্তার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে মো. সবির আহমেদ, মো. নাজিম উদ্দীন বাবুল, ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া, রবিউল আউয়াল, দুলাল, আতিকুর রহমান, বয়েজ মাস্টার, আকাশ ও সর্বশেষ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার বিকেলে তাঁদের কোর্টে হাজির করা হলে বিচারক মমিনুল হক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে আদালতের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, রিমান্ডে নেওয়া কোনো আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।
মামলার বাদী রিক্তা আক্তার জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ বাড়ির গেটে তালা দিয়ে রেখেছে। স্থানীয়রা বাড়ি দেখতে এলেও তারা বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না। রিক্তা বলেন, ‘ঘটনায় অন্য গ্রামের লোকজনও ছিল, যাদের আমি চিনতে পারিনি। শিমুল চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেই প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের নাম জানা যাবে।’
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। বাদী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
জেলা ডিবির ওসি মো. আবদুল্লাহ বলেন, তিন দিনের রিমান্ডে আটক আসামিরা কিছু তথ্য দিয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পলাতক আসামি, বিশেষ করে মুরাদনগরে তিন খুন–এর মূল হোতা শিমুল চেয়ারম্যানকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।


























