বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

পাইকগাছায় জীবিত নারীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ! সংবাদ সম্মেলনে জীবিত প্রমাণ

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ৫:৩০ পিএম
পাইকগাছায় জীবিত নারীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ! সংবাদ সম্মেলনে জীবিত প্রমাণ

মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে 'মৃত' উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়। ছবি : সংগৃহিত।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
  • কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে ‘মৃত’ উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই ছেলে ও মেয়ে।
  • এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আশালতা হালদারের ছেলে সত্যজিৎ হালদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে গত ৩১ মে ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন (স্মারক নং ৩৩৬/২০২৫)।

মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে ‘মৃত’ উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই ছেলে ও মেয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে। এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আশালতা হালদারের ছেলে সত্যজিৎ হালদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে গত ৩১ মে ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন (স্মারক নং ৩৩৬/২০২৫)। উদ্দেশ্য ছিল তার মায়ের সমস্ত সম্পত্তি এককভাবে দখল করা।

মৃত সনদ
মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে ‘মৃত’ উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়। ছবি : সংগৃহিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সত্যজিতের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড জানাজানি হলে ২০ জুন এক সালিশ বৈঠকে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, এটি তাঁর ভুল ছিল। কিন্তু ততদিনে সত্যজিৎ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং নিজ ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মা আশালতা হালদার ঘরহীন হয়ে পড়েন।

প্রতারনা করে জীবিত মাকে সমাজ ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গত ২৮ জুন শনিবার বিকেলে আশালতা হালদার মালোপাড়া দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবিত থাকা প্রমাণ করেন। তিনি বলেন,

“আমি বেঁচে আছি, অথচ আমার ছেলে কাগজে-কলমে আমাকে মেরে ফেলেছে। আমি বিচার চাই।”

এ বিষয়ে তাঁর দুই মেয়ে মুক্তি সরকার ও মমতা বিশ্বাস জানান, ভাই সম্পত্তির লোভে মাকে মিথ্যা ‘মৃত’ বানিয়ে আইনকে বিভ্রান্ত করেছে। প্রতিবেশী ঠাকুর দাস বিশ্বাস বলেন, এমন জঘন্য অন্যায় তিনি জীবনে দেখেননি।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস আলী মোড়ল আত্মগোপনে রয়েছেন। বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,

“আমি না বুঝে ভুল করেছি। এখন বুঝতে পারছি বড় অপরাধ হয়ে গেছে।”

এ প্রসঙ্গে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন জানান,

“বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মৃত সনদ তৈরি করে জীবিত একজনকে সমাজ ও সম্পত্তি থেকে মুছে ফেলার এই ঘটনা শুধু নৈতিক নয়, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও ভয়াবহ অপরাধ। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী

‘মৃত সনদ’ দিয়ে জীবিত মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা শুধু নৈতিক নয়, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও ভয়াবহ অপরাধ। একজন সন্তান কীভাবে জীবিত মাকে কাগজে-কলমে মেরে ফেলে? এরচেয়েও লজ্জাজনক হলো, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সুপারিশে এই সনদ ইস্যু! ভুল স্বীকার করে দায় এড়ানো যায় না—এটা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নগ্ন উদাহরণ। সমাজ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন আরও ‘মৃত’ বানানো হবে জীবিতদের, শুধুই সম্পত্তির লোভে। আশালতা হালদারের সাহসী সংবাদ সম্মেলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশে এখনও বেঁচে থাকার জন্যও প্রমাণ দিতে হয়। এখন সময় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির, নয়তো এই ‘মৃত সনদ’ একদিন সমাজকে জীবন্ত মৃত বানিয়ে ফেলবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

তনু হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
তনু হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের অবস্থান শনাক্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে এ রেড নোটিশ জারি করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে পলাতক দুই অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেল।
— তরিকুল ইসলাম
পরিদর্শক ও তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যা মামলার তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে বর্তমানে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের অবস্থান অজ্ঞাত এবং তারা পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ঘটনার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এবং ২০২৩ সালে অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

পলাতক দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত, তাদের অবস্থান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পিবিআইয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই শেষে ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে পারস্পরিক পুলিশি সহযোগিতা করতে পারবে। কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

পরদিন তনুর বাবা ও তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি বলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ জানায়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

“মেয়াদোত্তীর্ণ, অনিবন্ধিত ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রি থেকে ফার্মেসি মালিকদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।”

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নিউমার্কেট এলাকার শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ করে মালিকরা সরে পড়েন। পরে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ৮টিতে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

খোলা ১৫টির ৮টিতে অনিয়ম, জরিমানা ৪৬ হাজার; বাসকেও ৫ হাজার টাকা দণ্ড

দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিউমার্কেটের মোট ১১৮টি ফার্মেসির মধ্যে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ফার্মেসিতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল পাওয়া যায়।

পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য ধারায় সংশ্লিষ্ট ৮টি ফার্মেসিকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
অভিযানের খবর পেয়ে যেসব ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও অভিযানে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের শোকজ করা হবে।
— মো. ফয়সল উদ্দিন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দেবীদ্বার।

অভিযানকালে কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

এদিকে, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে সড়কে যানজট সৃষ্টির দায়ে এমএইচ ও নিউ সুগন্ধা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য ধারায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফার্মেসি মালিকদের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সড়কে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ এএম
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
— সৈয়দ এস এম কায়েস মীর
সভাপতি, দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশিষ্ট সমাজসেবক

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।

স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
— মো. হাবিবুর রহমান
সভাপতি, মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাব।

খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।

এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।

×
ENG