তালিকায় নেই ইউনূসের নাম, বাতিল নাগরিক সংবর্ধনাও!

Oplus_16777216
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন—বাংলাদেশ সরকারের এই ঘোষণা ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কারণ, দ্য কিংস ফাউন্ডেশন সম্প্রতি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ড. ইউনূসের নাম নেই। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ইউনূস লন্ডনে রাজা তৃতীয় চার্লসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের জন্য যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে জানা গেছে, তার ব্রিটেন সফরে প্রবাসীদের সঙ্গে নাগরিক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি ভাষ্যমতে, ‘কিং চার্লস থার্ড হারমনি অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য ড. ইউনূস মনোনীত হয়েছেন এবং ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে রাজা চার্লসের কাছ থেকে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এ ঘোষণা দেন এক সংবাদ সম্মেলনে।
তবে দ্য কিংস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ২১ মে প্রকাশিত মনোনীতদের তালিকায় কোথাও ইউনূসের নাম পাওয়া যায়নি। বরং সেখানে তরুণ উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান, ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, স্থপতি ও শিল্পীদের নাম রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে ইউনূসকে বাদ দেয়।
এই তালিকায় না থাকার বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে, বিশেষত যখন সরকার পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রচার করে চলেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—তালিকার বাইরেও কি কোনো ‘অন্যান্য উপায়ে’ ইউনূস পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন?
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ‘মতবিনিময় ও নাগরিক সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও ছিল। তবে তা হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সূত্রে জানা গেছে। কী কারণে এটি বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর লন্ডন সফর এবং পুরস্কার গ্রহণের ঘোষণা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও। নাগরিক সংবর্ধনার মতো অনুষ্ঠানের আকস্মিক বাতিল এবং বিভ্রান্তিকর বার্তার কারণে অনেকেই মনে করছেন, এই সফরের আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ডকে ঘিরে এমন বিভ্রান্তি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।


























