

সামপ্রতিক ড. ইউনূস লন্ডন সফর নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান। তিনি বলেন, এতদিন যাকে পূজা করতেন, আজ তার ওপর থেকে আস্থা উঠে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও ড. ইউনূসের বিদেশ সফর, খরচ ও কিছু সিদ্ধান্ত তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাহীদুজ্জামান বলেন, “আমি ড. ইউনূসের পক্ষে সবসময় বলেছি। তাকে একজন সজ্জন, উন্নয়নদর্শী নেতা হিসেবে চিনতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তিনি অন্যদের হাতের পুতুলে পরিণত হচ্ছেন।”
তার আশঙ্কা, ড. ইউনূসকে ঘিরে এমন এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তৈরি হচ্ছে যাতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং বিএনপির কয়েকজন নেতা জড়িত থাকতে পারে। তাদের লক্ষ্য—আওয়ামী লীগকে নতুন করে ক্ষমতায় টেনে আনা।

ড. ইউনূসের লন্ডন সফর ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে হতাশ এম শাহীদুজ্জামান মনে করেন, আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি এমন এক নেতার প্রতি, যাকে এতদিন অনুসরণ করে এসেছেন। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।
তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের লন্ডন সফরের তেমন কোনো প্রয়োজনই ছিল না। একটা সামান্য রাজকীয় পুরস্কার (মেডেল) গ্রহণের জন্য তিনি এত টাকা খরচ করলেন কেন? এসব আচরণ নেতিবাচক বার্তা দেয়, এবং এটা সাধারণ জনগণের জন্য ভালো উদাহরণ নয়।”
ড. ইউনূসের নিরাপত্তাবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহীদুজ্জামান। তাঁর ভাষায়, “তার মধ্যে নিরাপত্তা ভাবনা বলতে কিছুই নেই। সামরিক বাহিনীর বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন। অযোগ্যদের সরানোর বিষয়ে তিনি একেবারেই উদাসীন।”
যদিও ইউনূস প্রশাসনে কিছু যোগ্য ব্যক্তিও আছেন, তবে অনেক ‘অপদার্থ’কেও তিনি বাদ দেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর সতর্ক বার্তা, “আমরা এই বিলাসিতা (অযোগ্যদের সঙ্গে টিকে থাকা) বহন করতে পারব না—We cannot afford this luxury।”
ড. ইউনূস লন্ডন সফর ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে হতাশ এম শাহীদুজ্জামান মনে করেন, আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি এমন এক নেতার প্রতি, যাকে এতদিন অনুসরণ করে এসেছেন। তার মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতায় ড. ইউনূসের দায়িত্ব আরও অনেক বেশি সতর্কতা ও বিচক্ষণতার দাবি রাখে।