শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাল্যবন্ধু আমির হোসেন: শুশুন্ডার সেই ওরশ থেকে জীবনের স্মৃতির মায়াজাল

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:১৭ পিএম
বাল্যবন্ধু আমির হোসেন: শুশুন্ডার সেই ওরশ থেকে জীবনের স্মৃতির মায়াজাল

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বাল্যবন্ধু আমির হোসেন, ছোটবেলার দুষ্টুমি থেকে আজকের হৃদয়ের বন্ধুত্বের গল্প বাল্যবন্ধু আমির হোসেন, আমার জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়।
  • ছোটবেলা থেকে শুরু করে আজও তার স্মৃতিতে হৃদয় ভরে ওঠে, যেন এক সোনালি দিনের গল্প যা ভুলবার নয়।
  • আমরা একসাথে মাদ্রাসার মক্তবে পড়তাম, শৈশবের দুষ্টুমি, হাসি-আনন্দ আর একান্ত

বাল্যবন্ধু আমির হোসেন, ছোটবেলার দুষ্টুমি থেকে আজকের হৃদয়ের বন্ধুত্বের গল্প

বাল্যবন্ধু আমির হোসেন, আমার জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়। ছোটবেলা থেকে শুরু করে আজও তার স্মৃতিতে হৃদয় ভরে ওঠে, যেন এক সোনালি দিনের গল্প যা ভুলবার নয়। আমরা একসাথে মাদ্রাসার মক্তবে পড়তাম, শৈশবের দুষ্টুমি, হাসি-আনন্দ আর একান্ত বন্ধুত্বের গল্প গড়ে উঠেছিলো সেই ছোট্ট গ্রাম বাংলার রাস্তায়।

আমিরের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক জীবনকালের একান্ত ভালোবাসার ছবি। তাকে আমরা মজা করে ডাকতাম ‘বুতুইল্লা’, যদিও কেন সেই ডাকনাম দিয়েছিলাম তা আজও মনে নেই। তবে ‘আমির’ নামটাই ছিল তার পরিচয়, আর সে পরিচয়েই আমাদের বন্ধুত্বের বুনিয়াদ। আমরা প্রতিদিন সকালে মাদ্রাসায় যেতাম, মক্তবে কোরআনের পাঠ করতাম, কিন্তু তার পাশেই ছিল দুষ্টুমি আর বন্ধুত্বের গাঢ় বন্ধন।

বাল্যবন্ধু আমির হোসেন
বাল্যবন্ধু আমির হোসেন তুমি ভালো থেকো, তুমি যেনো কখনো ভুলে না যাও আমাদের সেই দুষ্টুমি আর বন্ধুত্বের রাতগুলো। ছবি : সংগৃহিত।

আমির ছিল বুদ্ধিমান ও দুষ্টু ছেলে, কিন্তু কখনো খারাপ কাজে তাকে দেখিনি। সে একসময় আকিজ বিড়ি খেতো, প্রায় সময় আমায় বলত, “আয়, এক টুকরা আকিজ বিড়ি খাই, তারপর চল, আজকে শুশুন্ডার ওরশে যাবো। ওখানে গান-বাজনা, নাচ-গান আর খিচুরির মজা অন্যরকম।” আসলেই ওরশের খিচুরির স্বাদ ছিল অন্যরকম, আর আমিরের সঙ্গে সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার হৃদয়ের কোনায় অমলিন।

একবার এমন এক রাত ছিল যখন আমাদের এলাকায় কোনো ওরশ ছিল না। রাত প্রায় ১০-১১টা, আমি, আমির, মিজান (যিনি এখন দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক), ইব্রাহিম, হারুন, আর ভাগিনা কাশেম মিলে ওরশের খোঁজে বের হয়েছিলাম। আমরা হেঁটে হেঁটে পায়ব পর্যন্ত গিয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও কোনো গান-বাজনার শব্দ শোনা গেল না। আশেপাশের মানুষদের জিজ্ঞেস করলাম, কেউ জানে কি কোথাও ওরশ বা গান-বাজনা হচ্ছে কিনা? তখন এক মুরব্বী আমাদের গোমতীর পাশে একটি উচ্চ জায়গা দেখিয়ে বললেন, “ওই দিকে ওরশ চলছে, যাও।” আমরা তখন আকিজ বিড়ি হাতে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম।

অনেকদূর গিয়ে দেখি, সত্যিই একটা বড় গানের আসর বসেছে। আমাদের বন্ধু এসাক সরকার গান গাইছিলেন। তাকে দেখে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আয়োজকদের মাধ্যমে আমাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করালেন। আমরা সবাই বসে গান শুনলাম, নাচলাম, আর শেষে খিচুরি খেয়ে সকালে বাড়ি ফিরলাম। সেই রাতের স্মৃতি আজও আমার হৃদয়ের সবচেয়ে মধুর অধ্যায়।

আমিরের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত। আমি আজও ভাবি, আমার বাল্যবন্ধু আমির হোসেন আজ কোথায় আছেন, কেমন আছেন? শুনেছি, আমির অনেক বদলে গেছেন, অনেক ভালো আছেন—এই খবরটা পেয়ে আমার মন শান্তি পায়। আমিরের বড় বোন নাজমা বেগম নাজুও ছিল আমার স্কুলের ক্লাসমেট, যদিও আমির স্কুলে পড়েননি, তিনি শুধু মাদ্রাসার মক্তবে পড়েছেন। আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর সঙ্গে তার নাম অমোঘভাবে জড়িত।

আমার মনে হয়, বন্ধুত্ব এমনই এক সম্পর্ক যা সময়ের কাছে অসহায়। দিন পরিবর্তিত হয়, মানুষ বদলায়, কিন্তু ভালোবাসা আর স্মৃতি চিরদিন অমলিন থেকে যায়। আমির আমার শুধু বন্ধু নয়, বরং শৈশবের সেই নিরাপদ আশ্রয়, যেখান থেকে শুরু হয়েছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় অধ্যায়। আমি তার জন্য সবসময় শুভকামনা করি, সে যেন ভালো থাকে, সুখী থাকে—আর একদিন অবশ্যই তার জীবনের নতুন গল্পগুলোও শেয়ার করবো।

বাল্যবন্ধু আমির হোসেন তুমি ভালো থেকো, তুমি যেনো কখনো ভুলে না যাও আমাদের সেই দুষ্টুমি আর বন্ধুত্বের রাতগুলো।

এলাকার খবর

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, সহযোগীর বুকে বিদ্ধ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ এএম
নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, সহযোগীর বুকে বিদ্ধ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টু (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুর বুকে লাগে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এএনএম ইমরান খান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল), নোয়াখালী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হকার্স মার্কেটের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয় থেকে বের হয়ে মূল গলির ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

এ সময় ইয়াছিন সেন্টু আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে একটি গুলি কাশেমের হাত ছুঁয়ে গিয়ে সেন্টুর বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুর বুকে লাগে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

লাকসামে সোহান হত্যা মামলা

বৃদ্ধের যাবজ্জীবন, ছেলের বেকসুর খালাস

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
বৃদ্ধের যাবজ্জীবন, ছেলের বেকসুর খালাস

বৃদ্ধের যাবজ্জীবন, ছেলের বেকসুর খালাস

কুমিল্লার লাকসামে যুবক সাইফুল ইসলাম সোহান হত্যা মামলায় মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই মামলার অপর আসামি ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন সোহান। তাকে প্রথমে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১৮ মে রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার। তিনি জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববরেণ্যদের কাতারে কুমিল্লার মানবিক চিকিৎসক ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম
বিশ্ববরেণ্যদের কাতারে কুমিল্লার মানবিক চিকিৎসক ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ

‘এশিয়ান স্টেট’ জার্নালের প্রচ্ছদ নিবন্ধে স্থান পেলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সমাজসেবক

এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ‘এশিয়ান স্টেট’-এর প্রচ্ছদ নিবন্ধে এবার স্থান পেয়েছেন কুমিল্লার প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মানবিক চিকিৎসক ও সমাজহিতৈষী প্রফেসর ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ

এর আগে একই জার্নালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম, ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, বিল গেটস, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং হানিফ সংকেতসহ বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত সংখ্যায় ‘Heartbeat and Humanity’ শিরোনামে ৫০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তৃত ফিচারে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষের চিকিৎসাসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সমাজকল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, হৃদরোগ চিকিৎসায় দক্ষতা, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ এবং রোগীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ড. তৃপ্তীশ শুধু কুমিল্লা নয়, সারা দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

প্রতিবেদনটিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা-র মাধ্যমে অসচ্ছল রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বমানের একটি জার্নালে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষকে নিয়ে প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি কুমিল্লার জন্যও গর্বের বিষয়। একজন চিকিৎসক কীভাবে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবসেবাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সেই অনন্য উদাহরণ তিনি স্থাপন করেছেন।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি- দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব

এছাড়া মানবিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন থেকে প্রাপ্ত ওয়ার্ল্ড হার্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের বিষয়টিও নিবন্ধে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

জার্নালটিতে আরও বলা হয়, হৃদরোগ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোটারি কার্যক্রম এবং সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথাও নিবন্ধে স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে তাঁর রচিত ‘Rotary International: From Individual to the World’ গ্রন্থকে রোটারির দর্শন ও বৈশ্বিক মানবিক চেতনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ড. তৃপ্তীশ তাঁর কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—জ্ঞান তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট স্কাউট ব্যক্তিত্ব মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের একটি জার্নালে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষকে নিয়ে প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি কুমিল্লার জন্যও গর্বের বিষয়। একজন চিকিৎসক কীভাবে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবসেবাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সেই অনন্য উদাহরণ তিনি স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি কুমিল্লাকে এশিয়ার পরিসরে নতুনভাবে পরিচিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।

×
CLOSE X