আদালতের নির্দেশ, এবার জবাবদিহির পালা
মুরাদনগরে কৃষিজমি রক্ষায় হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: অবৈধ ড্রেজার-ইটভাটা বন্ধ, জব্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছেন আদালত

মুরাদনগরে কৃষিজমি রক্ষায় হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: অবৈধ ড্রেজার-ইটভাটা বন্ধ, জব্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছেন আদালত। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগেও তদন্তে সত্যতা, দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা, অবৈধ ইটভাটায় সেই মাটি ব্যবহার, কৃষিজমি ধ্বংস এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে এবার প্রশাসনের ওপর আরও কঠোর নজরদারি আরোপ করলেন হাইকোর্ট। অবৈধ ড্রেজার ও মাটি কাটার যন্ত্রপাতি জব্দ, অবৈধ ব্রিক ফিল্ড বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও বালুর গর্ত তদন্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন বলে রিটকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), মুরাদনগর থানা ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়টি বাস্তবায়ন করে আদালতে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
যে ৮ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
১. কৃষিজমি ও নদী থেকে উর্বর মাটি কাটায় ব্যবহৃত ড্রেজারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জব্দ করতে হবে।
২. অবৈধ ব্রিক ফিল্ড বা ইটভাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আবাদি জমি ও সৃষ্ট বালুর গর্তগুলো তদন্ত করতে হবে।
৪. কৃষিজমি রক্ষায় সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৫. ড্রেজার ও ইটভাটার জন্য মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গর্তগুলো পুনরায় আবাদযোগ্য জমিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. নদী ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার, ভেকু ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
৭. এলাকায় নিয়মিত পেট্রোল ডিউটি পরিচালনার মাধ্যমে নদী ও আবাদি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮. মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আদালতে প্রেরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, চিঠি-নোটিশের পর হাইকোর্টে রিট
রিটকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুরাদনগরে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন, অবৈধ ব্রিক ফিল্ডে মাটি সরবরাহ, কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়ে আসছিল।
কৃষি ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে উজ্জল জানান, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুরাদনগর উপজেলার পিপড়িয়া ঈদগাহ মাঠে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে তিনি বছরব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যান।
তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ই-মেইল ও ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৬০টি চিঠি দেওয়া হয়।
এরপর অবৈধ ড্রেজার, ব্রিক ফিল্ড, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার এবং কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ ও পরবর্তীতে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ দেওয়া হয়।
রিটকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নোটিশের পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ১৪১০৮/২০২২ দায়ের করা হয়। রিটে কৃষি ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে উজ্জল এবং আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন জুয়েল আবেদনকারী ছিলেন।
৬০ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা ও অগ্রগতি জানানোর নির্দেশ ছিল
রিটকারীর দাবি, এর আগে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অবৈধ ড্রেজার ও ব্রিক ফিল্ড বন্ধ, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তদন্ত করে গর্তগুলো ভরাটের জন্য কর্মপরিকল্পনাসহ ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একইসঙ্গে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, মুরাদনগর থানা ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কৃষিজমি ও নদী থেকে মাটি কাটায় ব্যবহৃত অবৈধ ড্রেজার, ভেকুসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ, নিয়মিত পেট্রোল ডিউটি এবং মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে রিটকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তবে ওই নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ, কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন আদালতে যথাসময়ে দাখিল করা হয়নি বলে অভিযোগ রিটকারীর।
কৃষিজমি রক্ষায় সংবিধানের নির্দেশনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে
রিটকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানের ১৬, ১৮ক, ২১(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবাদি জমি রক্ষা এবং কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কেটে নেওয়া বন্ধ করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হলেও অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিকরাও বিভিন্ন সময়ে এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তন নিয়েও ক্ষোভ
এদিকে মুরাদনগরে জনস্বার্থে ব্যবহৃত একটি সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়ায় পথচারী ও এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও নিয়মিত ওই পথ ব্যবহারকারী মানুষজন।
স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, একদিকে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, অন্যদিকে জনগণের চলাচলের সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রতিকার পাবে কোথায়—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, সরকারি রাস্তার মূল গতিপথ, জমির রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
‘আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন কৃষি রক্ষায় মাইলফলক’
রিটকারী অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে উজ্জল বলেন, মুরাদনগরের কৃষিজমি রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ ড্রেজার ও ব্রিক ফিল্ড বন্ধের পাশাপাশি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এটি কার্যকর পদক্ষেপ হবে।
তিনি বলেন, শুধু আদালতের নির্দেশনা জারি হলেই হবে না; নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, কারা দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোথায় ব্যর্থতা রয়েছে—তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রিটকারীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মুরাদনগরের কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধার এবং জনগণের চলাচলের সরকারি রাস্তা সুরক্ষায় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

“মেয়াদোত্তীর্ণ, অনিবন্ধিত ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রি থেকে ফার্মেসি মালিকদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।”
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নিউমার্কেট এলাকার শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ করে মালিকরা সরে পড়েন। পরে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ৮টিতে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খোলা ১৫টির ৮টিতে অনিয়ম, জরিমানা ৪৬ হাজার; বাসকেও ৫ হাজার টাকা দণ্ড
দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিউমার্কেটের মোট ১১৮টি ফার্মেসির মধ্যে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ফার্মেসিতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল পাওয়া যায়।
পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য ধারায় সংশ্লিষ্ট ৮টি ফার্মেসিকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের খবর পেয়ে যেসব ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও অভিযানে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের শোকজ করা হবে।
অভিযানকালে কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
এদিকে, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে সড়কে যানজট সৃষ্টির দায়ে এমএইচ ও নিউ সুগন্ধা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য ধারায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফার্মেসি মালিকদের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সড়কে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।
স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।
এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

































