সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের
রাজশাহীতে লিচু বাগান পাহারায় যুবকের ওপর হামলা-লুটের অভিযোগ, নেপথ্যে পুরোনো বিরোধ
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে লিচু বাগান পাহারার সময় এক যুবক ও তার মায়ের ওপর হামলা এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মো. মেহেদী হাসান বাপ্পিকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়। হামলায় আহত হন তার মা নূরজাহান পারভীনও।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন লিজ নেওয়া একটি লিচু বাগানে পাহারার দায়িত্বে ছিলেন বাপ্পি। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাগানে ঢুকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছেলের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মা নূরজাহান পারভীন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এ সময় বাপ্পির কাছে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং নূরজাহান পারভীনের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এই হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক শত্রুতা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর আগে সংঘটিত সুমন হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এ হামলা হয়েছে।
বাপ্পির নানী কমেলা ওরফে কনা বলেন, “সুমন হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো হয়নি। মামলার আসামিরা জামিনে থেকে আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও নির্যাতন করে আসছে। বাপ্পিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।”
চন্দ্রিমা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে হামলায় জড়িত হিসেবে মো. মিঠুন, মো. ইফতিখার, মো. সালাম, মো. খায়রুল ও মো. আনোয়ারুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সুমন হত্যা মামলার অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান, আরিফ, শিমুল, পিনার ও রাজিবসহ আরও কয়েকজনের পরোক্ষ মদদের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হামলার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। প্রকৃত দোষী বাপ্পি। মামলা হলে তার বিরুদ্ধেই নিতে হবে।”





















