বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মানবিকতার প্রতীক প্রবীর কান্তি বালা

ফরিদপুর সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি পান্না বালা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম
ফরিদপুর সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি পান্না বালা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • চার দশকের সাংবাদিকতা যাত্রায় পান্না বালা, সততা ও সাহসের এক অনন্য নাম পান্না বালা নামটি ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই সততা, সাহস ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে।
  • প্রবীর কান্তি বালা নামে জন্ম হলেও সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিত পান্না বালা নামেই।
  • টানা চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি শুধু সংবাদ পরিবেশন করেননি, গড়ে তুলেছেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

চার দশকের সাংবাদিকতা যাত্রায় পান্না বালা, সততা ও সাহসের এক অনন্য নাম

পান্না বালা নামটি ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই সততা, সাহস ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে। প্রবীর কান্তি বালা নামে জন্ম হলেও সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিত পান্না বালা নামেই। টানা চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি শুধু সংবাদ পরিবেশন করেননি, গড়ে তুলেছেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১৯৬৪ সালের ৮ জানুয়ারি ফরিদপুরের একটি বনেদি ও শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পান্না বালা। তাঁর বাবা গৌর চন্দ্র বালা ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক যুক্তফ্রন্ট সরকারের বন ও খাদ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা ছিলেন। অন্যদিকে মা অঞ্জলী বালা দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা ও শিশু সংগঠন নিয়ে কাজ করে আসছেন।

পান্না বালা ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ পরিবেশে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সফল। বড় ভাই বিপ্লব বালা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। অন্য ভাই-বোনদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী। ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনেই সংবাদপত্রের প্রতি গভীর আগ্রহ জন্ম নেয় তাঁর। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের পেশা নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম।

পান্না বালা ১৯৮২ সালে ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আল মুয়াজ্জিন’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর স্থানীয় দৈনিক গণসংহতি, সাপ্তাহিক প্রগতির দিন, দৈনিক ভোরের রানারসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতায় নিজেকে দক্ষ করে তোলেন।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ফরিদপুর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন তিনি। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে অল্প সময়েই পাঠক ও সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে তাঁকে ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

পান্না বালা সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে মনে করেন সততা ও নিরপেক্ষতাকে। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেননি। সত্য প্রকাশে আপস না করার মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

ফরিদপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি অত্যন্ত সম্মানিত। কারণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সবসময় সংবাদ ও সত্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

পান্না বালা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছেও একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তরুণদের সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য যাচাই এবং পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। অনেক নবীন সাংবাদিক তাঁর কাছ থেকেই সাংবাদিকতার হাতে-খড়ি নিয়েছেন।

সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাঁকে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে হামলা, হুমকি ও চাপের শিকার হয়েছেন একাধিকবার। কিন্তু কখনো কলম থামাননি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে সত্য প্রকাশের কাজ চালিয়ে গেছেন।

পান্না বালা ব্যক্তিজীবনেও অত্যন্ত সাদামাটা ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত। বনেদি পরিবারের সন্তান হয়েও অহংকার তাঁকে স্পর্শ করেনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার বিরল গুণ রয়েছে তাঁর। তবে মিথ্যা, অন্যায় কিংবা অপপ্রচার দেখলে তিনি সবসময় সরব হয়েছেন।

তিনি মনে করেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পক্ষে কথা বলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাঁর ভাষায়, “সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সাহস থাকতে হবে। জনগণের অধিকার ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরাই সাংবাদিকতার আসল দায়িত্ব।”

পান্না বালা আরও বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সেই আয়নায় বিকৃতি দেখা দিলে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বর্তমান সময়ে গুজব ও অপতথ্যের ভিড়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি মানুষের কান্না, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার গল্প তুলে ধরেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। তাঁর সংবাদে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল, তেমনি ছিল মানবিকতার স্পর্শ। এ কারণেই পাঠকের কাছে তিনি বিশ্বাসযোগ্য এবং সহকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

পান্না বালা আজ শুধু একজন সাংবাদিক নন, ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনের এক জীবন্ত ইতিহাস। সততা, সাহস ও পেশাদারিত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—আদর্শ ধরে রেখেও দীর্ঘদিন সম্মানের সঙ্গে সাংবাদিকতা করা সম্ভব।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে পিডিবিএফ মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকদের ভিড়

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
দেবীদ্বারে পিডিবিএফ মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকদের ভিড়

ঋণ ও এফডিআরের টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের ঋণের জমা, সঞ্চয় ও এফডিআরের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিডিবিএফের দেবীদ্বার কার্যালয়ে ভিড় করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়কের এএসপি সার্কেল দেবীদ্বার কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত পিডিবিএফ অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

দৈনিক আজকের কথা
ঘটনার বিষয়ে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন হেড অফিসে পাঠানো হবে।
— উম্মে সুবাইদা
ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, পিডিবিএফ দেবীদ্বার শাখা।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, পিডিবিএফের অধীনে বিভিন্ন গ্রামে পরিচালিত সমিতির মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় জমা দিয়ে ঋণ নিয়ে আসছেন। অনেকেই ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করছেন। কেউ কেউ এফডিআর হিসেবেও সঞ্চয় জমা রেখেছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০২৫-২৬ সালে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক গ্রাহককে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় বা জামানত হিসেবে নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঋণ না দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘোরানো হয়। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রায় আট বছর ধরে লেনদেন করতেন পিডিবিএফের মাঠকর্মী মো. শাহজাহান আলী। ফলে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপরই বেশি নির্ভর করতেন গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার বলেন, তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে শাহজাহান আলী তার কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নেন। পুরোনো সঞ্চয় বইয়ে ওই টাকার হিসাবও লেখা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি মাঠকর্মী হৃদয় দাসকে বইটি দেখালে তিনিও হিসাব ঠিক আছে বলে জানান। কিন্তু পরে শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, পুরোনো বইয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য নয় এবং ওই টাকা অফিসে জমা হয়নি।

দৈনিক আজকের কথা
একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
— মো. সফিকুল ইসলাম
ডেপুটি ডিরেক্টর, পিডিবিএফ কুমিল্লা রিজন।

শিরিন আক্তারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর তিনি পিডিবিএফের দেবীদ্বার শাখার মাঠকর্মী শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর শাহজাহান আলী পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আরও শতাধিক গ্রাহক অফিসে এসে তাদের জমা টাকা ফেরতের দাবি জানান।

অন্যান্য ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঋণের জমা, ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও এফডিআরসহ শতাধিক গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকার বেশি মাঠকর্মী শাহজাহানের কাছে জমা রয়েছে। এখন তিনি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা ফেরতের বিষয়ে অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের যথাযথ সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তারা দাবি করেন, পিডিবিএফের শাখার মাধ্যমেই তারা নিয়মিত সঞ্চয় ও ঋণের লেনদেন করেছেন। তাই মাঠকর্মীর মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানকেও দায় নিতে হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে পিডিবিএফের দেবীদ্বার শাখার হিসাবরক্ষক পারভিন আক্তার বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে সপ্তাহে দুই দিন তিনি ওই কার্যালয়ে কাজ করেন। এ বিষয়ে জেলার ডেপুটি ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তনু হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
তনু হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের অবস্থান শনাক্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে এ রেড নোটিশ জারি করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে পলাতক দুই অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেল।
— তরিকুল ইসলাম
পরিদর্শক ও তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যা মামলার তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে বর্তমানে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের অবস্থান অজ্ঞাত এবং তারা পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ঘটনার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এবং ২০২৩ সালে অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

পলাতক দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত, তাদের অবস্থান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পিবিআইয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই শেষে ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে পারস্পরিক পুলিশি সহযোগিতা করতে পারবে। কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

পরদিন তনুর বাবা ও তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি বলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ জানায়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

“মেয়াদোত্তীর্ণ, অনিবন্ধিত ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রি থেকে ফার্মেসি মালিকদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।”

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নিউমার্কেট এলাকার শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ করে মালিকরা সরে পড়েন। পরে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ৮টিতে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

খোলা ১৫টির ৮টিতে অনিয়ম, জরিমানা ৪৬ হাজার; বাসকেও ৫ হাজার টাকা দণ্ড

দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিউমার্কেটের মোট ১১৮টি ফার্মেসির মধ্যে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ফার্মেসিতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল পাওয়া যায়।

পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য ধারায় সংশ্লিষ্ট ৮টি ফার্মেসিকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
অভিযানের খবর পেয়ে যেসব ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও অভিযানে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের শোকজ করা হবে।
— মো. ফয়সল উদ্দিন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দেবীদ্বার।

অভিযানকালে কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

এদিকে, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে সড়কে যানজট সৃষ্টির দায়ে এমএইচ ও নিউ সুগন্ধা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য ধারায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফার্মেসি মালিকদের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সড়কে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
ENG