রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্দিজীবনের অবসান শেষে

১৭ মাস পর দেশে ফিরলেন ভারতে আটকে থাকা নন্দীগ্রামের ২৮ শ্রমিক

নাজমল হুদা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০০ পিএম
ভারতে আটক ২৮ শ্রমিক

ভারতের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা নন্দীগ্রামের ২৮ শ্রমিক। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • এমপি মোশারফ হোসেনের উদ্যোগে বন্দিদশার অবসান, স্বজনদের মাঝে স্বস্তি অবশেষে দীর্ঘ ১৭ মাসের অপেক্ষার অবসান।
  • জীবিকার সন্ধানে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক হওয়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ শ্রমিক দেশে ফিরেছেন।
  • তাঁদের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে পরিবারগুলোর মাঝে।

এমপি মোশারফ হোসেনের উদ্যোগে বন্দিদশার অবসান, স্বজনদের মাঝে স্বস্তি

অবশেষে দীর্ঘ ১৭ মাসের অপেক্ষার অবসান। জীবিকার সন্ধানে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক হওয়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। তাঁদের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে পরিবারগুলোর মাঝে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা এবং প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার অবসান হওয়ায় এলাকায়ও বিরাজ করছে স্বস্তির আবহ।

গত ২৭ মে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন এসব শ্রমিক। দেশে ফেরার পর তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন।

দেশে ফেরা শ্রমিকরা বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী, দোহার, তেঘরী ও দাসগ্রাম এবং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কহুলী গ্রামের রানা আহমেদ (৩০), আতিকুল ইসলাম (২৮), ফারুক হোসেন (৩০), ফিরোজ হোসেন (২১) এবং তেঘরী গ্রামের সেলিম হোসেন (২৭)সহ আরও অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত আয়ের আশায় কয়েক বছর আগে এসব শ্রমিক দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা আটক হন।

পরে ভারতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের আটক করে তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহরের পুঝাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। সেখানে প্রায় ১৪ মাস কারাভোগ করতে হয় তাদের। কারামুক্তির পরও দেশে ফেরার অনুমতি না পাওয়ায় আরও প্রায় তিন মাস একটি বিশেষ কেন্দ্রে থাকতে হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ১৭ মাস ধরে তারা বন্দি ও অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছেন।

স্বজনরা জানান, এত দীর্ঘ সময় প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পরিবারগুলো চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিল। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটেও পড়েছিল। দেশে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

জানা গেছে, ভারতে আটক শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এবং বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন উদ্যোগ নেন। গত ৪ এপ্রিল তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মে শ্রমিকরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

শনিবার সকালে দেশে ফেরা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি তাঁদের দীর্ঘ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা, কষ্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন।

দেশে ফেরা শ্রমিক রাজু আহমেদ বলেন, “আমরা ১৭ মাস অনেক কষ্ট করেছি। কারাগার ও বন্দি জীবনের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দেশে ফিরতে পারব কি না, সেই আশাও অনেক সময় হারিয়ে ফেলেছিলাম। এমপি মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা দেশে ফিরতে পেরে খুবই খুশি।”

বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এসব শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। অবশেষে তাঁরা দেশে ফিরতে পেরেছেন, এটি আনন্দের খবর। একই সঙ্গে এটি সবার জন্য একটি শিক্ষা। দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই ঘটনা তার বড় উদাহরণ।”

নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সবাইকে সচেতন হতে হবে, যেন কেউ দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেন।”

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন বলেন, “ঈদুল আজহার আগেই ভারতে আটক শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

তিনি এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এই ঘটনা শুধু ২৮ জন শ্রমিকের দেশে ফেরার গল্প নয়; বরং অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতির একটি বাস্তব উদাহরণ। তাই কর্মসংস্থানের আশায় বিদেশ যেতে হলে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিকল্প নেই।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়িতে, সামনে বাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১০ এএম
অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়িতে, সামনে বাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে তুহিনের বিরুদ্ধে এক কিশোরের মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে একটি লিখিত অভিযোগের কপি থেকে জানা গেছে।

ওই অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগকারীর ছেলে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি মোটরসাইকেল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। তুহিনের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় তুহিন প্রায়ই মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলাচল করতেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তুহিন মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য ফোন করেন। পরে অভিযোগকারীর ছেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর এলাকার একটি স্থানে যান এবং তুহিনের কাছে সেটি দেন। এরপর তিনি কাছের একটি দোকানে বসে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তুহিনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেরত চাইলে তিনি সেটি তার কাছে নেই বলে জানান। পরে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও সেটি আর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করা হলেও মামলা না নিয়ে শুধু জিডি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর বক্তব্য।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার ওপর কোনো রাজনৈতিক দলের বড় নেতার প্রভাব রয়েছে—এমন কথাও পুলিশ পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অপ্রতিমের ঘটনায় ফের আলোচনায় তুহিন

পুরোনো ওই অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই অপ্রতিমের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় তুহিনসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়ার পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তের অংশ হিসেবে তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, উদ্ধার হওয়া ফোনের কললিস্ট, মেসেজ, লোকেশনসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার আগে ও পরে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়।

পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান তদন্তের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ

অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে তুহিনের বিরুদ্ধে আগে থাকা মোটরসাইকেল নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তসংশ্লিষ্টদের নজরে আসতে পারে।

তবে ২০২৫ সালের মোটরসাইকেল সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরোনো অভিযোগে তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; সেটি কোনো আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাই পুরোনো অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমান ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আইফোন, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো অভিযোগে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

দেবীদ্বারে আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ এএম
দেবীদ্বারে আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন

চিকিৎসাসেবা ব্যবসা নয়, এটি মহৎ ও মানবিক সেবা: অধ্যাপক ডা. আছিফ মাহমুদ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর নিউমার্কেট এলাকায় আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ‘আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পরিচালিত হবে।

আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. মো. সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আল আমিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আছিফ মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার ডা. জসীম উদ্দিন হাড়ভাঙা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মানসুরুল হক, ডা. মো. দ্বীন মোহাম্মদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা এভারগ্রীন হসপিটালের পরিচালক ইউনুছ মাস্টার, ইউছুফপুর আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু কাউছার, মো. মাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মেম্বার, মাওলানা আলাউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. শাহাদাত হোসেন দুলালসহ অন্যরা।

দৈনিক আজকের কথা
চিকিৎসাসেবা কোনো সাধারণ ব্যবসা নয়, এটি একটি মহৎ ও মানবিক সেবা।
— ডা. মো. আছিফ মাহমুদ চৌধুরী
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতাল

তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার মানুষকে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকাসহ বড় শহরে ছুটতে হয়। নিজ এলাকায় আধুনিক রোগ নির্ণয়ের সুযোগ তৈরি হওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ভুল রিপোর্ট ও স্বল্প খরচে সেবা নিশ্চিত করে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়িক মুনাফার ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মো. আব্দুল লতিফ।

শেষ বিকেলে ভালোবাসার আলো হয়ে থাকার আকুতি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম
শেষ বিকেলে ভালোবাসার আলো হয়ে থাকার আকুতি

কবিতা

শেষ বিকেল
আলেয়া মান্নান

যদি তুমি দৃষ্টি মেলো,
সবুজের আলো ছড়িয়ে দেব।
আমি শেষ বিকেলের আলো হব।
তুমি যদি জীবনের পাল তোলো,
পাখির সুরে আমি গান শোনাব।
এসো যদি বেলা শেষে ফিরে,
তোমায় রাখব আমার নীড়ে।
স্মৃতি হয়ে থাকব তোমার হৃদয়ে,
যতই যাও তুমি আমায় কাঁদিয়ে।

পিছু ফিরে দেখো যদি তোমার চলার পথে,
চেয়ে দেখবে ছায়া হয়ে চলছি আমি সাথে।
চলতে গিয়ে পথ যদি হারিয়ে তুমি ফেলো,
তখন এসে আমি তোমায় পথ দেখিয়ে দেব।
যত দূর যেতে চাও, আলো হয়ে জ্বলব,
যদি গাও জীবনের গান, সুর হয়ে বাজব।
থাকো যদি কভু তুমি আকাশ পানে তাকিয়ে,
তারা রূপে জ্বলব আমি তোমার হৃদয় জুড়িয়ে।

চলতে গিয়ে যদি কোথাও হারিয়ে তুমি যাও,
ফিরিয়ে নিতে অপেক্ষা করব, তুমি যদি চাও।
নিঃস্ব যদি ভাবো তুমি শেষ বিকেলে,
তখন যে জড়িয়ে নেব কোমল মায়ার জালে।
ফুল হয়ে ফুটব তোমার শূন্য কাননে।
অনুরোধ শুধু এতটুকুই—রেখো আমায় স্মরণে।

কবির পরিচিতি

আলেয়া মান্নান একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। তাঁর লেখা ৫০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার পাশাপাশি তিনি ভ্রমণপ্রেমী এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবনঘনিষ্ঠ অনুভূতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জন্ম নেওয়া কবি আলেয়া মান্নান একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী ও জীবনসংগ্রামী মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপন তাঁর ব্যক্তিজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কবির নাম: আলেয়া মান্নান
এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন
জন্মস্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা
বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

দৈনিক আজকের কথা
শেষ বিকেল’ কবিতায় আমি ভালোবাসা, অপেক্ষা, স্মৃতি ও নির্ভরতার অনুভূতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জীবনের পথচলায় প্রিয় মানুষ কখনো হারিয়ে গেলেও তার জন্য আলো হয়ে থাকা, ছায়ার মতো পাশে থাকা এবং ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার অনুভূতিই এই কবিতার মূল কথা। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মানুষটির হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকার আকুতিই কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে।
— কবি আলেয়া মান্নান
কবি ও সাহিত্যিক
×
ENG