সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ
৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬: ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু, সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ। ছবি : আজকের কথা
ম্যাচের সময়সূচি ও ভেন্যু
- ম্যাচ: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (গ্রুপ ‘ডি’, ম্যাচ ডে ১)
- তারিখ: ১৩ জুন, ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
- কিক-অফ সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:০০ টা (স্থানীয় সময় ১২ জুন, সন্ধ্যা ৬:০০ টা)
- ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম), ক্যালিফোর্নিয়া
- দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭০,২০০ জন
- সরাসরি সম্প্রচার: ফক্স স্পোর্টস,টেলিমুন্ডো
ফুটবল উন্মাদনায় লস অ্যাঞ্জেলেস
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও দুর্বলতা
রক্ষণভাগের ইনজুরি ও দুর্বলতা
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা তাদের ডিফেন্সলাইন। গত ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে এবং শেষ ৪ ম্যাচে হজম করেছে ১১টি গোল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম এবং মাইলস রবিনসনের গতি কিছুটা কমে যাওয়া এবং তরুণ গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রীজের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতার অভাব প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগের সামনে বড় পরীক্ষা হতে পারে।
প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ দেয়াল
আক্রমণভাগে আলমি রনের গতি
গোল খরায় ভুগছে আক্রমণভাগ
পোচেত্তিনো বনাম আলফারোর লড়াই
টটেনহ্যাম ও চেলসির সাবেক বস মাউরিসিও পোচেত্তিনো মার্কিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি মূলত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে পছন্দ করেন। এই ম্যাচে পোচেত্তিনো ফুলব্যাকদের (সার্জিনো ডেস্ট ও অ্যান্থনি রবিনসন) উইং ধরে আক্রমণে ওঠার স্বাধীনতা দেবেন। ঘরের মাঠে শুরুতেই গোল আদায় করে প্যারাগুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
৬৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো ভালো করেই জানেন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের শক্তি কতটা। তাই তিনি ৪-৪-২ বা ৫-৩-২ ফর্মেশনে দলকে মাঠে নামাতে পারেন। মাঝমাঠের নিচে গভীর ব্লক (Deep Block) তৈরি করে মার্কিন আক্রমণ নসাৎ করা এবং লং বলের মাধ্যমে আলমিরনকে ব্যবহার করে প্রতি-আক্রমণে গোল আদায় করাই হবে আলফারোর মূল ট্যাকটিক্স।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ম্যাট ফ্রীজ (গোলরক্ষক), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মাইলস রবিনসন, টিম রিম, অ্যান্থনি রবিনসন, সার্জিনো ডেস্ট, টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, টিমোথি টিলম্যান, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (অধিনায়ক), ফোলারিন বালোগান।
অরল্যান্ডো গিল (গোলরক্ষক), হুয়ান ক্যাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ (অধিনায়ক), ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো, ডিয়েগো গোমেজ, ড্যামিয়ান বোবাডিলা, আন্দ্রেস কুবাস, মিগুয়েল আলমিরন, ডিয়েগো গঞ্জালেজ, আন্তোনিও সানাব্রিয়া।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস
ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই এই দুই দলের লড়াই শুরু। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্ট প্যাটেনাউডের হ্যাটট্রিকে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামগ্রিক হেড-টু-হেড রেকর্ডে মার্কিনরা এগিয়ে রয়েছে। দুই দলের মোট ৯টি আন্তর্জাতিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ৫টিতে, প্যারাগুয়ের জয় ২টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
নভেম্বরের সেই উত্তপ্ত প্রীতি ম্যাচ
সর্বশেষ মাত্র সাত মাস আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে জিও রেইনা এবং ফোলারিন বালোগানের গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াই ছাড়িয়ে একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইনজুরি টাইমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়, যেখানে বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও জড়িয়ে পড়েন। সেই মারামারি থামাতে গিয়ে মার্কিন কোচ পোচেত্তিনো মাটিতে পড়ে যান এবং প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতে লাল কার্ড দেখেন। আজকের ম্যাচেও সেই পুরোনো শত্রুতার আঁচ পাওয়া যেতে পারে।
পরিসংখ্যান ও প্রেডিকশন বিশ্লেষণ
বিশ্বখ্যাত ফুটবল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta) তাদের সুপারকম্পিউটারে ১০,০০০ বার এই ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই সিমুলেশন ও সাম্প্রতিক ফর্মের ওপর ভিত্তি করে জয়ের সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
| দলের নাম | জয়ের সম্ভাবনা (শতাংশ) |
|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র (USA) | ৪৫.৮% |
| প্যারাগুয়ে (Paraguay) | ২৪.৫% |
| ম্যাচ ড্র (Draw) | ২৯.৭% |
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সাবেক মার্কিন তারকা কোবি জোনস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় মানেই নকআউট পর্বের রাস্তা ৮০% সহজ হয়ে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলে, প্রথম ম্যাচ জয়ী দলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩%, আর হেরে গেলে তা নেমে আসে মাত্র ১৫%-এ।” ফলে এই ম্যাচে দুই দলই তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়বে।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সমূহ
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে প্যারাগুয়ের অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের ওপর। গোমেজ যদি পুলিসিচকে প্রথমার্ধে বোতলবন্দী করে রাখতে পারেন, তবে মার্কিনদের আক্রমণভাগ খেই হারিয়ে ফেলতে পারে।
আমেরিকার উইংব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠবেন, তখন ডিফেন্সে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হবে, তা মিগুয়েল আলমিরন কত দ্রুত কাজে লাগাতে পারেন, তার ওপর প্যারাগুয়ের গোল পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন ও উচ্চতা মার্কিনদের চেয়ে ভালো। কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে সেট পিসের সুবিধা নিয়ে প্যারাগুয়ে যেকোনো সময় মার্কিন ডিফেন্স ভেঙে দিতে পারে। অন্যদিকে বালোগানদের গতিশীল নিচু পাসিং ডিফেন্সের বুক চিরে বক্সে ঢুকলে প্যারাগুয়ে পেনাল্টি বা ফাউল করতে বাধ্য হতে পারে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অভিমত
বিশ্বের নামী ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে “সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণ”-এর লড়াই। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্যারাগুয়ের লাতিন আমেরিকান ঘরানার ফিজিক্যাল ফুটবল স্বাগতিকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রথমার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র যদি গোল করতে না পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
উন্নয়নের নামে ধ্বংসযজ্ঞ, কথিত নদী খননের মাটিতে চাপা শতাধিক ঘর

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর একসময় ছিল মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা। সেই ঘর পেয়েই নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন পারুল বেগম, রাবেয়া বেগম, হাজেরা, রিজিয়াদের মতো শতাধিক ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ চাপা পড়েছে নদী খননের নামে ফেলা বিশাল মাটির স্তূপের নিচে। উন্নয়নের যে প্রকল্প মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার কথা, সেই প্রকল্পের মাটিই এখন কেড়ে নিয়েছে তাদের শেষ সম্বল।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আপার ভদ্রা নদী পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি ফেলার কারণে চুকনগর, কাঁঠালতলা ও বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘরের চাল ভেঙে গেছে, কোথাও দরজা-জানালা মাটিচাপা পড়েছে, আবার কোথাও পুরো ঘরই মাটির স্তূপের নিচে হারিয়ে গেছে। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবার এখন কার্যত গৃহহীন।
চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, হাতে ছোট্ট একটি লোহার টুকরা নিয়ে নিজের মাটিচাপা ঘরের ইট খুঁড়ে বের করার চেষ্টা করছেন পারুল বেগম। একসময় যে ঘরটি ছিল তার নিরাপদ আশ্রয়, আজ সেটির কোনো অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। মাথার ওপর উঁচু মাটির ঢিবি, আর তার নিচে চাপা পড়ে আছে ঘর, স্মৃতি ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
পারুল বলেন, “ঘরটা আর ফেরত পাব কি না জানি না। তাই অন্তত ইটগুলো তুলে রাখছি। যদি কোনোদিন আবার ঘর বানানোর সুযোগ হয়।”
চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের অধিকাংশই এখন স্থানীয় গরুর হাটের মাঠে অস্থায়ী ছাউনিতে বসবাস করছেন। বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে যায়। নেই নিরাপদ টয়লেট, নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।
রিজিয়া বেগম বলেন, “পাঁচ-ছয় মাস ধরে মাঠে আছি। আমাদের ঘর ভেঙে দিয়েছে। বাথরুম নেই, টিউবওয়েল নেই। একটু বৃষ্টি হলেই পানির মধ্যে থাকতে হয়। ভোটের আগে অনেক আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু এখন কেউ খোঁজ নেয় না।”
হাজেরা বেগমের কণ্ঠেও একই হতাশা। তিনি বলেন, “ঘর বাঁচানোর সুযোগই পাইনি। শুধু টিনগুলো খুলে রাখতে পেরেছিলাম। এখন গরুর হাটে থাকি। সেখান থেকেও উঠে যেতে বলে।”
রাবেয়া বেগমের প্রশ্ন আরও তীব্র—“আমাদের ঘর নেই, বাথরুম নেই, মাথা গোঁজার জায়গা নেই। তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
শুধু চুকনগর নয়, একই চিত্র কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। সেখানে অন্তত ১৩টি ঘর মাটির চাপে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
তানিয়া বেগম বলেন, “ঘরের চালে মাটি উঠে গেছে, বারান্দা ভেঙে পড়েছে। ভয় নিয়ে বসবাস করছি। কখন কী হয় বলা যায় না।”
বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পেও ২৪টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ঘরের ওপর মাটি ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, নদী খননের মাটি সরানোর আগেই নতুন করে মাটি ফেলায় বিপর্যয় আরও বেড়েছে।
তপতী দাস বলেন, “মাটির চাপে দরজা-জানালা খোলা যায় না। টয়লেট বন্ধ হয়ে গেছে। ঘর মেরামত হচ্ছে, কিন্তু স্বাভাবিক জীবন ফেরেনি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে ও ওপর মাটি ফেলা হয়েছে। ফলে যাদের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ঘর নির্মাণ করেছিল, তারাই আজ আবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী খনন প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কিছু স্থানে মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যাদের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যে আশ্রয়ণ প্রকল্পকে সরকারের অন্যতম সফল মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেই প্রকল্পের ঘরগুলোই যদি উন্নয়ন কাজের কারণে মাটিচাপা পড়ে, তাহলে দায় কার? পুনর্বাসনের আগে কেন মানুষের শেষ আশ্রয় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হলো?
ভদ্রা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মাটির বিশাল স্তূপ যেন এখন উন্নয়নের এক নির্মম প্রতীক। যেখানে প্রকল্প এগিয়েছে, কিন্তু পিছিয়ে গেছে মানুষের জীবন। আর ঘরহারা পরিবারগুলোর চোখে আজ একটাই প্রশ্ন—“আমাদের ঘর কবে ফিরবে?”
উত্তেজনা, মারধর, পুলিশি হস্তক্ষেপ
এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সোহেল রানা (৩০) নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তাকে স্থানীয় কয়েকজন মারধর করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার তারেক রহমানের শ্রীমঙ্গল সফরকে ঘিরে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। এ সময় মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থানরত সোহেল রানা হঠাৎ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্লোগানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক সোহেল রানা উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় আনারস ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এক যুবক মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিচ্ছিল। পরে সেখানে উপস্থিত কিছু লোক তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
উল্লেখ্য, বিএনপির ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও জেলা সদরে সফরের কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ
একদিন অনুপস্থিতি, জরিমানা ২০ টাকা: দনিয়ার এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘ফি বাণিজ্যের’ অভিযোগ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায় ও নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে ২০ টাকা জরিমানা আদায়ের নির্দেশনা জারি করায় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নোটিশে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নির্দেশক্রমে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে, “আগামীকাল থেকে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির জন্য ২০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মেসেজ দেওয়া হবে।”
নোটিশটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত রাখার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলেও তা নিশ্চিত করতে আর্থিক জরিমানাকে কেন মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর ভর্তি ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তাকে জরিমানা করা অমানবিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে, শাস্তিমূলক অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ভয় দেখাবে না।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরোনো শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে রসিদবিহীন অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, কাউন্সেলিং এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জরিমানা বা আর্থিক চাপ প্রয়োগ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিভাবকরা অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি জরুরি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















