বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

“বিএনপি দেয় মামলা, জামায়াত দেয় নগদ পিটুনি—নিরাপত্তাহীন সাংবাদিকরা”

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ‘বিএনপি দেয় মামলা, জামাত দেয় সাংবাদিকদের নগদ পিটুনি’ এরকম মন্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সংস্কৃতির বিস্তার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা ও হয়রানির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও এসব কার্যক্রমের পরিবর্তে একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার মতে, দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করলে মামলা দিয়ে আদালতে নেয়, আর এ সরকারের প্রধান বিরোধী দল জামায়াত কোনো মামলা করতে রাজি নয়; তারা নগদে রাজপথে সাংবাদিক পেটায়।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক আজকের কথা

অন্যদিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। ওই ঘটনায় ‘দৈনিক সকালের’ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ একাধিক সাংবাদিক শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শরিফুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং মাঠপর্যায়ে হামলা—দুই ধরনের ঘটনাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, একদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি, হয়রানি ও বাধা সৃষ্টি করা হলে তা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়ার দুই সংবাদদাতার নামও রয়েছে।

এছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল শেষে কয়েকজন সাংবাদিককে দুই দফায় মারধরের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা শারীরিক হামলার মতো ঘটনা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

বাদীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

এমপি মনিরুল হকের দাড়িকে ‘রবীন্দ্রনাথের দাড়ি’ বলার অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মামলা

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
এমপি মনিরুল হকের দাড়িকে ‘রবীন্দ্রনাথের দাড়ি’ বলার অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মামলা

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দাড়িকে রবীন্দ্রনাথের দাড়ি বলে মন্তব্য করাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংক্ষেপে ঘটনা

  • এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারের অভিযোগে মামলা।
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমকে আসামি করা হয়েছে।
  • ২০ জুন সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার।
  • বাদীর যুবদল পরিচয় অস্বীকার করেছে কুমিল্লা মহানগর যুবদল।
  • ইসলামী আন্দোলনের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
  • পুলিশ জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলার পর বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে।

এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পোস্ট দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তার এই পরিচয় অস্বীকার করেছে কুমিল্লা মহানগর যুবদল।

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান বলেন, “জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। তিনি পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।”

তবে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি যুবদলেরই কর্মী এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক। বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতার মানহানি হয়েছে বলেই তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।

এদিকে মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফের দেওয়া এক পোস্টে মামলাটিকে ‘ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একই পোস্টে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তোলা হয়।

কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, “মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। আমরা বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।”

মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।”

মামলাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কৃষক

উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি, ফরিদপুরে কৃষকের চোখে হতাশার ছাপ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম
উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি, ফরিদপুরে কৃষকের চোখে হতাশার ছাপ

দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে এবার অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বেচাবিক্রি নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে জেলার হাজার হাজার পেঁয়াজচাষী গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

    প্রতিবেদনের মূল বিষয়

  • ফরিদপুরে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা।
  • লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক মূলধন তুলতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
  • সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।
  • সংরক্ষণাগার ও হিমাগারের অভাবে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
  • কৃষকদের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
  • কৃষি বিভাগ জানায়, পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
  • স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয় ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও কৃষকদের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে প্রতি মণেই গুনতে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসান।

কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজারে মাছ, মাংস, ডিম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী থাকায় চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজচাষী আহম্মদ মাতুব্বর বলেন, “এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে এখন বিপুল খরচ হয়। বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে যে বিনিয়োগ করতে হয়, সেই তুলনায় বর্তমান বাজারদর অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ ধরে রাখা সম্ভব হবে না।”

একই উপজেলার পাইকারি ক্রেতা সুজন মাতুব্বর বলেন, “পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় শুধু কৃষকরাই নয়, ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কম দামে কিনলেও অন্যান্য বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। দাম কিছুটা বাড়লে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই উপকৃত হতো।”

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক বক্কার মোল্যা বলেন, “একটি ফসল উৎপাদনে যে পরিমাণ পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়, বর্তমান বাজারদর তার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বছরের পর বছর লোকসান হলে কৃষকরা একসময় পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবে। তখন দেশে আবার পেঁয়াজ সংকট দেখা দিতে পারে।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক কবির শেখ বলেন, “আমাদের এলাকায় পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার নেই। ফলে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন মজুত রাখার সুযোগও নেই। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো দামের অপেক্ষা করা যেত।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক হামজা মোল্যা বলেন, “বর্তমান বাজারদরে শ্রমিকের খরচও ওঠে না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন তারা ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।”

ফরিদপুর শহরের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, “এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রায় প্রতি বছরই পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। দাম বেড়ে গেলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আর দাম কমে গেলে লোকসানের বোঝা বইতে হয় কৃষকদের।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। তবে বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের দায়িত্ব নয়। আমরা কৃষকদের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

তিনি জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তা দিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে ইতোমধ্যে ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং বছরজুড়ে আরও ২ হাজার ৫০০টি এয়ারফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।”

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজের আবাদ হয়। জেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অর্ধেক দামে পেঁয়াজ আর নয়, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয়, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলেও লাভের মুখ না দেখায় কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমে যাবে।

একদিকে উৎপাদন খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে মূল্যপতন—এই দ্বিমুখী সংকটে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষীরা এখন দিশেহারা। কৃষকের ঘামঝরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে শুধু কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে নতুন প্রত্যাশা

কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জোর দাবি, অর্থমন্ত্রীর কাছে হাজী ইয়াসিনের ডিও লেটার

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:০১ এএম
কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জোর দাবি, অর্থমন্ত্রীর কাছে হাজী ইয়াসিনের ডিও লেটার

দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। এ দাবিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াসিন) গত ২১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন।

ফোকাস: কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াসিন)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের ব্যাংকিং কার্যক্রম, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

কুমিল্লাভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’-এর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে পাঠানো ওই চিঠিতে কুমিল্লার অর্থনৈতিক গুরুত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৃহত্তর অঞ্চলের ব্যাংকিং কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

চিঠিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কুমিল্লা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। বর্তমানে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী—এই ছয়টি জেলার সমন্বয়ে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা, প্রবাসী আয়, শিল্পায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের বিচারে এ অঞ্চল জাতীয় অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে।
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াসিন) অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন।
  • চিঠিতে কুমিল্লার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
  • কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী নিয়ে গঠিত অঞ্চলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আঞ্চলিক কার্যালয় নেই।
  • ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
  • আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপিত হলে ব্যাংকিং সেবা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ হবে।
  • নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
  • নাগরিক অধিকার ফোরাম ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।
  • কুমিল্লায় শাখা স্থাপিত হলে এটি হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১তম আঞ্চলিক কার্যালয়।
  • সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

কিন্তু এত বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আঞ্চলিক কার্যালয় নেই। ফলে স্থানীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণের জন্য ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের শাখার ওপর নির্ভর করতে হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত জটিলতা, এলসি অনুমোদন, আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত পরামর্শ, তদারকি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদেরকে বারবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু কুমিল্লাই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা স্থানীয় পর্যায়ে সহজলভ্য হবে। শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গতি আসবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

এ বিষয়ে নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতারা বলেন, কুমিল্লা বর্তমানে দেশের অন্যতম রেমিট্যান্সসমৃদ্ধ অঞ্চল। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। একইসঙ্গে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং আমদানি-রপ্তানি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক খাদিজা বেগম বলেন, “কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন কেবল একটি প্রশাসনিক দাবি নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বিবেচনায় এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রী হাজী ইয়াসিনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করবে।”

নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহজাদা এমরানও এ উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, “কুমিল্লা এবং আশপাশের জেলার কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটি। ব্যাংকিং খাতের বিস্তৃতি, গ্রাহক সংখ্যা, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক থেকে কুমিল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। তাই এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন পুরোপুরি যৌক্তিক।”

তিনি মন্ত্রী হাজী ইয়াসিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “জনগণের দীর্ঘদিনের একটি দাবি সরকারিভাবে উত্থাপন করায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপিত হলে ব্যাংকিং তদারকি জোরদার হবে, আর্থিক সেবার মান উন্নত হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে। একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং সদরঘাটসহ দেশে মোট ১০টি শাখা কার্যালয় রয়েছে। কুমিল্লায় নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপিত হলে সেটি হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১তম আঞ্চলিক শাখা, যা দেশের আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x