ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন অগ্রগতি
সাংবাদিক ইমরুলের দাবির প্রেক্ষিতে আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও কবিতীর্থ দৌলতপুর পরিদর্শনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুর পরিদর্শন করছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ছবি : আজকের কথা
ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার, সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনে নতুন গতি
বাস্তবায়নের পথে সাংবাদিক ইমরুলের স্বপ্ন, অবশেষে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও কবিতীর্থ দৌলতপুর পরিদর্শনে এলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও স্মৃতিধন্য স্থাপনা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুর সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।
এক নজরে
- জাহাঙ্গীর আলম ইমরুলের প্রস্তাবের পর মাঠে নামে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
- পরিদর্শন করা হয় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও ঐতিহাসিক মসজিদ
- ঘুরে দেখা হয় নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুর
- সংরক্ষণের দাবিতে ২০২০ সাল থেকে চলছে ধারাবাহিক উদ্যোগ
- ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার স্থানীয়দের মাঝে
গত ২২ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুরে অবস্থিত সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা, তাঁর নিজ হাতে নির্মিত মসজিদ এবং পিতা-মাতার সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন। পরে একই দিনে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কবিতীর্থ দৌলতপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক আলী আকবর খাঁনের বাড়িও পরিদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ মে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম কুমিল্লা সফরে এলে ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র সভাপতি ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা এবং কবিতীর্থ দৌলতপুরকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে মহাপরিচালক বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানাকে সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শিবপুরে পরিদর্শনের সময় ড. নাহিদ সুলতানার সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিবপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দল ওস্তাদজীর জন্মভিটা, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং পারিবারিক কবরস্থান ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
শিবপুর পরিদর্শন শেষে আঞ্চলিক পরিচালক নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, মাহবুব আলম লিটন, শাহীন রেজা টিটোসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিনিধি দল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহাসিক দৌলতপুরে যান। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত লেখক, সমাজসংস্কারক ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্যাপ্টেন আলী আকবর খাঁনের ঐতিহাসিক বাড়ি পরিদর্শন করেন ড. নাহিদ সুলতানা।
পরিদর্শনের সময় ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, বাবলু আলী খান, রায়হান খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৯২১ সালে ক্যাপ্টেন আলী আকবর খাঁনের আমন্ত্রণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম কুমিল্লার দৌলতপুরে আসেন। এখানেই আলী আকবর খাঁনের ভাগ্নি সৈয়দা খাতুন, যিনি ‘নার্গিস’ নামে পরিচিত, তাঁর সঙ্গে নজরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে দৌলতপুর শুধু একটি ঐতিহাসিক বাড়িই নয়, বরং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বহন করে চলেছে।
এদিকে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা এবং কবিতীর্থ দৌলতপুরকে সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’। সংগঠনটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন, গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের তৎকালীন আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিবপুর ও দৌলতপুর পরিদর্শন করেছিল।
একই বছর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আরেকটি লিখিত আবেদনের পর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফরিদ হোসেন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লাভলী ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধি দল শিবপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালেও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি প্রতিনিধি দল সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা পরিদর্শন করে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল ২০১৩ সালে মাছরাঙা টেলিভিশনে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে নিয়ে একটি সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো সুরসম্রাটকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণ ও প্রচার করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, সুরসম্রাটের স্মৃতি ও সম্পত্তি সংরক্ষণের দাবিতে ওয়াকফ এস্টেট, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ধারাবাহিকভাবে লিখিত আবেদন জানিয়ে আসছেন তিনি। পাশাপাশি কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমেও বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সর্বশেষ এই পরিদর্শন সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা এবং কবিতীর্থ দৌলতপুরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবিকে নতুন গতি দেবে। একই সঙ্গে দেশের দুই অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী, গবেষক ও সচেতন নাগরিকরা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
জামিনে মুক্তদের বরণে প্রস্তুতি
ফুলের মালা হাতে কারাফটকে ‘শোডাউন’, আ.লীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

নোয়াখালী জেলা কারাগারের সামনে ফুলের মালা নিয়ে ‘শোডাউন’ করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন—সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. নাজিম (১৮)। পুলিশের দাবি, আটক চারজনই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুন জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচির পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে একদল নেতাকর্মী ফুলের মালা নিয়ে কারাগারের সামনে জড়ো হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক চারজন মুক্তিপ্রাপ্তদের আত্মীয় নন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ছবি তুলে শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
পুলিশের চোখে ফুলের মালা, উদ্দেশ্য ‘শোডাউন’
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বিশেষ বক্তব্য:
কারামুক্ত ব্যক্তিকে স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা স্বাভাবিক হলেও, দলীয় পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির সংগঠিতভাবে কারাফটকে অবস্থান ও শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

সরকার কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬”-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মুন্সেফ বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হাজী আব্দুর রহিম মাহমুদ এবং মায়ের নাম জাহানারা মাহমুদ। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ২১টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুমিল্লার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মামাতো ভাই এবং মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া।
এক অভিনন্দন বার্তায় সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া বলেন, “আশিকুর রহমান মাহমুদের মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে কুমিল্লার সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হবে এবং নাগরিক সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোড়গোড়ায়। আমি তাঁর জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি
ধর্ম, রাজনীতি ও নির্বাসনে বিস্তর ফারাক
‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের তুলনা টানার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাসনের কারণ, আইনি অবস্থান এবং আদর্শের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, অনেকে শেখ হাসিনা ও তাঁকে একই পাল্লায় তুলছেন এবং দুজনকেই মুসলমান ও রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁর ভাষ্য, এই দুই দাবিই সঠিক নয়।
তসলিমা নাসরিন নিজেকে ‘হার্ডকোর নাস্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি কোনো ঈশ্বর, ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মীয় বিধানে বিশ্বাস করেন না। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ধর্ম পালনকারী মুসলমান—এমন দাবি করেন তিনি।
নিজের ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নন। ভারত সরকার তাঁর থাকা-খাওয়া বা জীবনযাপনের ব্যয় বহন করে না। নিজের সব খরচ নিজেই বহন করেন এবং ভারত সরকার শুধু তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সুইডেনের নাগরিক এবং সেই পরিচয়েই ভারতে বসবাস করছেন।
তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, ভারত কোনো বিদেশি শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী বা গবেষকের কাজ ও অবদান বিবেচনা করে তাঁকে বৈধভাবে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দিতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের অনুমতি রাজনৈতিক আশ্রয়ের সমতুল্য নয়।
আদর্শগত পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা
শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হিসেবে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বিপরীতে তিনি সব শিশুর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর মতে, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মকে দূরে রাখা উচিত।
তসলিমা নাসরিন শেখ হাসিনা সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এসব মসজিদ একসময় শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা তিনি প্রকল্পের শুরুতেই প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতাশালী রাজনীতিক, আর তিনি ক্ষমতাহীন একজন লেখিকা। শেখ হাসিনার নির্বাসন দুই বছরের হলেও তাঁর নিজের নির্বাসন ৩২ বছরের বলে উল্লেখ করেন তসলিমা।
‘ফেরার দরজা বহুদিন ধরেই বন্ধ’
বাংলাদেশে নিজের ফেরার প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশের কোনো সরকারই তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেনি এবং তাঁর বিদেশি পাসপোর্টেও ভিসা দেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ফেরার পথ তাঁর জন্য বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে ফেরার পথ বন্ধ রাখার দায় শেখ হাসিনা সরকারেরও রয়েছে।
তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরে তসলিমা বলেন, তিনি চান শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করুন এবং রাজনীতি করুন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।
‘আমি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা চাই’
তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য, তিনি নিজের দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চান এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা রাখেন। তাঁর মতে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও তাঁর মতো একজন ধর্ম ও জিহাদবিরোধী লেখিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরতে পারলেও তাঁকে জিহাদিদের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। এ কারণে দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাক্স্বাধীনতা নিয়েও শেখ হাসিনার সমালোচনা
তসলিমা নাসরিন নিজেকে বাক্স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার সঙ্গে এ ক্ষেত্রেও তাঁর পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মজীবনী ‘আমার মেয়েবেলা’ নিষিদ্ধ করেছিল এবং সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
সবশেষে তসলিমা নাসরিন বলেন, নিজের দেশ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া ছাড়া তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার বড় কোনো মিল নেই। শুধু এই একটি মিলের ভিত্তিতে দুজনের পরিচয়, অবস্থান, আদর্শ ও জীবনসংগ্রামকে একইভাবে দেখাকে তিনি ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানো হিসেবে উল্লেখ করেন।
























