রাজনীতিতে ফিরবে কি সমঝোতা?
ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি

ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি। ছবি : সংগৃহিত
ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে গেছে। ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা শুধু তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশকেই রক্তাক্ত করেনি; এর অভিঘাতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দূরত্বও ক্রমশ গভীর হয়েছে। প্রশ্ন হলো—এই ঘটনার আগে কি দুই দলের সম্পর্ক এতটাই বৈরী ছিল?
আমার দেখা রাজনৈতিক বাস্তবতা কিন্তু কিছুটা ভিন্ন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পরস্পরের কঠোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল, সংসদে ও রাজপথে একে অপরের তীব্র সমালোচনা করেছে; কিন্তু ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে একটা সৌজন্যবোধও ছিল। এমন সময়ও দেখেছি, বিকেলে মাঠের বক্তৃতায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন, অথচ রাতে একই ডিনার টেবিলে পাশাপাশি বসেছেন। দুই দলের নেতাদের পরস্পরের সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা যেত।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে দুই দল
১৯৯০ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটায়। এরপর ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ চলে যায় বিরোধী দলে।

তখন আওয়ামী লীগ সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবি তোলে। বিএনপির তৎকালীন অবস্থান ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার পক্ষে। কিন্তু বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও সমঝোতা
১৯৯৪ সালে মাগুরার একটি উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তোলে। বিএনপি প্রথমদিকে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে।
১৯৯৬ সালে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বিএনপি চলে যায় বিরোধী দলে। এরপর নানা ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম চললেও রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের সৌজন্য তখনও বিদ্যমান ছিল।

রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে প্রতিহিংসা নয়। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সমঝোতার পথেই ফিরতে হবে।
উগ্রবাদের ধারাবাহিক হামলা
এরই মধ্যে দেশে ধারাবাহিক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা এবং ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বোমা হামলা ছিল বাংলা সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর উগ্রবাদী হামলার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যায়।
এরপর আসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট।
২১ আগস্ট বদলে দিল রাজনীতির গতিপথ
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
বিরোধী দলের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে এমন নারকীয় হামলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে এই হামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক, বিশেষ করে ‘জজ মিয়া’ কাহিনি, আওয়ামী লীগের মধ্যে বিএনপিকে ঘিরে গভীর অবিশ্বাস ও ক্ষোভ তৈরি করে।
আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের মধ্যে তখন এই ধারণা শক্তিশালী হয় যে, তাদের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হামলাটি ঘটানো হয়েছিল। সেই ক্ষোভ ও অবিশ্বাস পরবর্তী সময়ে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়।
২০০৮-এর পর প্রতিশোধের রাজনীতি?
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব, তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে না পারা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—সব মিলিয়ে দুই দলের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।
একই সময়ে উগ্রবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতিকে ঘিরেও আওয়ামী লীগ সরকারের নানা নীতি ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল এবং ২১ আগস্টের ক্ষত থেকে তৈরি হওয়া প্রতিশোধের রাজনীতি—দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তোলে।
আওয়ামী লীগের পতন, কিন্তু ইতিহাসের প্রশ্ন থেকেই যায়
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পেছনে রাজনৈতিক আন্দোলন, জনঅসন্তোষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন বিতর্ক এবং উগ্রবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সক্রিয় ভূমিকা—সবকিছুর সমন্বিত প্রভাব ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নানা মত রয়েছে।
তবে একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারসাম্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
আজ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—বাংলাদেশের মতো একটি দেশে দীর্ঘদিনের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং সেই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিপুল জনগোষ্ঠীকে কি রাজনীতির বাইরে রেখে দেওয়া সম্ভব?
ইতিহাস অন্তত একটি শিক্ষা দেয়—রাজনৈতিক দলকে কেবল দমন করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সহজ নয়। গত ১৫ বছর নানা চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপিকে বিলীন করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সেই বাস্তবতা প্রযোজ্য হতে পারে।
শেষ প্রশ্ন—সমঝোতার রাজনীতি কি ফিরবে?
বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সম্ভবত প্রতিশোধ নয়, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সমঝোতা।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি শত্রুতায় পরিণত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের রক্তাক্ত অধ্যায় তাই শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতির বিভাজনেরও একটি বড় বাঁক।
ইতিহাসের সত্য পুরোপুরি কখনো এক বাক্যে ধরা পড়ে না। সময়ের সঙ্গে নতুন তথ্য, নতুন দলিল ও নতুন বিচার সেই ইতিহাসকে আরও পরিষ্কার করে।
বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা রাজনৈতিক পুনর্মিলনের রাজনীতি কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে কি না—সেই উত্তরই এখন ভবিষ্যতের হাতে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

“মেয়াদোত্তীর্ণ, অনিবন্ধিত ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রি থেকে ফার্মেসি মালিকদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।”
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নিউমার্কেট এলাকার শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ করে মালিকরা সরে পড়েন। পরে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ৮টিতে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খোলা ১৫টির ৮টিতে অনিয়ম, জরিমানা ৪৬ হাজার; বাসকেও ৫ হাজার টাকা দণ্ড
দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিউমার্কেটের মোট ১১৮টি ফার্মেসির মধ্যে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ফার্মেসিতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল পাওয়া যায়।
পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য ধারায় সংশ্লিষ্ট ৮টি ফার্মেসিকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের খবর পেয়ে যেসব ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও অভিযানে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের শোকজ করা হবে।
অভিযানকালে কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
এদিকে, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে সড়কে যানজট সৃষ্টির দায়ে এমএইচ ও নিউ সুগন্ধা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য ধারায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফার্মেসি মালিকদের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সড়কে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।
স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।
এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

































