রাজনীতিতে ফিরবে কি সমঝোতা?
ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি

ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি। ছবি : সংগৃহিত
ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে গেছে। ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা শুধু তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশকেই রক্তাক্ত করেনি; এর অভিঘাতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দূরত্বও ক্রমশ গভীর হয়েছে। প্রশ্ন হলো—এই ঘটনার আগে কি দুই দলের সম্পর্ক এতটাই বৈরী ছিল?
আমার দেখা রাজনৈতিক বাস্তবতা কিন্তু কিছুটা ভিন্ন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পরস্পরের কঠোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল, সংসদে ও রাজপথে একে অপরের তীব্র সমালোচনা করেছে; কিন্তু ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে একটা সৌজন্যবোধও ছিল। এমন সময়ও দেখেছি, বিকেলে মাঠের বক্তৃতায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন, অথচ রাতে একই ডিনার টেবিলে পাশাপাশি বসেছেন। দুই দলের নেতাদের পরস্পরের সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা যেত।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে দুই দল
১৯৯০ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটায়। এরপর ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ চলে যায় বিরোধী দলে।

তখন আওয়ামী লীগ সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবি তোলে। বিএনপির তৎকালীন অবস্থান ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার পক্ষে। কিন্তু বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও সমঝোতা
১৯৯৪ সালে মাগুরার একটি উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তোলে। বিএনপি প্রথমদিকে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে।
১৯৯৬ সালে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বিএনপি চলে যায় বিরোধী দলে। এরপর নানা ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম চললেও রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের সৌজন্য তখনও বিদ্যমান ছিল।

রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে প্রতিহিংসা নয়। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সমঝোতার পথেই ফিরতে হবে।
উগ্রবাদের ধারাবাহিক হামলা
এরই মধ্যে দেশে ধারাবাহিক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা এবং ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বোমা হামলা ছিল বাংলা সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর উগ্রবাদী হামলার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যায়।
এরপর আসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট।
২১ আগস্ট বদলে দিল রাজনীতির গতিপথ
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
বিরোধী দলের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে এমন নারকীয় হামলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে এই হামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক, বিশেষ করে ‘জজ মিয়া’ কাহিনি, আওয়ামী লীগের মধ্যে বিএনপিকে ঘিরে গভীর অবিশ্বাস ও ক্ষোভ তৈরি করে।
আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের মধ্যে তখন এই ধারণা শক্তিশালী হয় যে, তাদের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হামলাটি ঘটানো হয়েছিল। সেই ক্ষোভ ও অবিশ্বাস পরবর্তী সময়ে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়।
২০০৮-এর পর প্রতিশোধের রাজনীতি?
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব, তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে না পারা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—সব মিলিয়ে দুই দলের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।
একই সময়ে উগ্রবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতিকে ঘিরেও আওয়ামী লীগ সরকারের নানা নীতি ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল এবং ২১ আগস্টের ক্ষত থেকে তৈরি হওয়া প্রতিশোধের রাজনীতি—দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তোলে।
আওয়ামী লীগের পতন, কিন্তু ইতিহাসের প্রশ্ন থেকেই যায়
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পেছনে রাজনৈতিক আন্দোলন, জনঅসন্তোষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন বিতর্ক এবং উগ্রবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সক্রিয় ভূমিকা—সবকিছুর সমন্বিত প্রভাব ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নানা মত রয়েছে।
তবে একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারসাম্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
আজ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—বাংলাদেশের মতো একটি দেশে দীর্ঘদিনের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং সেই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিপুল জনগোষ্ঠীকে কি রাজনীতির বাইরে রেখে দেওয়া সম্ভব?
ইতিহাস অন্তত একটি শিক্ষা দেয়—রাজনৈতিক দলকে কেবল দমন করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সহজ নয়। গত ১৫ বছর নানা চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপিকে বিলীন করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সেই বাস্তবতা প্রযোজ্য হতে পারে।
শেষ প্রশ্ন—সমঝোতার রাজনীতি কি ফিরবে?
বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সম্ভবত প্রতিশোধ নয়, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সমঝোতা।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি শত্রুতায় পরিণত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের রক্তাক্ত অধ্যায় তাই শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতির বিভাজনেরও একটি বড় বাঁক।
ইতিহাসের সত্য পুরোপুরি কখনো এক বাক্যে ধরা পড়ে না। সময়ের সঙ্গে নতুন তথ্য, নতুন দলিল ও নতুন বিচার সেই ইতিহাসকে আরও পরিষ্কার করে।
বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা রাজনৈতিক পুনর্মিলনের রাজনীতি কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে কি না—সেই উত্তরই এখন ভবিষ্যতের হাতে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



































