কিশোরগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী রহস্যজনকভাবে অজ্ঞান, টাকা লুটের আশঙ্কা
কুলিয়ারচরে আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে অজ্ঞান হয়ে পড়ার রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ উদ্বিগ্ন, টাকা লুটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যাংকের কর্মীরা কে-কেউ?
অজ্ঞান হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন:
- সৌমিক জামান খান (ব্যবস্থাপক)
- মুস্তাফিজুর রহমান (কর্মকর্তা)
- হোসনা আক্তার (কর্মকর্তা)
- মেরিনা (কর্মকর্তা)
- সুকান্ত (কর্মকর্তা)
- কামাল মিয়া (নিরাপত্তাকর্মী)
কী ঘটেছে?
সূত্র জানায়, দুপুরে ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ ছয়জনেই একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে একজন পড়ে থাকতে দেখা যায়, অন্যরাও বিভিন্ন স্থানে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন এবং বমি করছিলেন। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সৌমিক জামান খান হাসপাতালে বলেন, “হঠাৎ মাথা ঘুরে সবাই একে একে পড়ে গেছি। আমরা কিছুই খাইনি বা স্প্রে হয়নি।”
তদন্ত ও পুলিশের মন্তব্য
কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “এখনো বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। সবাই সুস্থ হলে পুরো ঘটনা জানা যাবে।”
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং ঘটনাস্থল লকডাউন করেছে। প্রাথমিক অনুমান ফুড পয়জন বা গ্যাসের কারণে হতে পারে। তবে ব্যাংকের ভেতরে কেমিক্যাল জাতীয় দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে, যা থেকে মাথা ঘুরার মতো অবস্থা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “যারা ব্যাংকে গিয়েছেন, তাঁদেরও মাথা ঘুরছিল। আমরা তদন্ত চালাচ্ছি।”
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয়রা জানান, ব্যাংকটি থানা সড়কের হাবিব কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবং প্রায় তিন বছর ধরে সেখান থেকে শাখার কার্যক্রম চলছে। সাধারণ গ্রাহকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে কর্মীরা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছেন, যার কারণে তারা চিৎকার করে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।
ঘটনাটির পেছনের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে
এখনো স্পষ্ট না কী কারণে ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে অসুস্থ ও অজ্ঞান হয়েছেন। পুলিশের তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর প্রকৃত কারণ প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।
কীভাবে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারে?
- ব্যাংক ও অফিসগুলোতে নিয়মিত কেমিক্যাল ও পরিবেশগত নিরাপত্তা পরিদর্শন
- সিসিটিভি নজরদারি আরও জোরদার করা
- কর্মীদের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি
- আশপাশের এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখা
সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল
দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে
ভাড়া নিয়ে বসবাস, সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বাড়িতে অবস্থান করে মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত কাঁসা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তি হলেন উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছংছাইল গ্রামের গৌরাঙ্গ সূত্রধরের ছেলে দিলিপ সূত্রধর (৩৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিলিপ সূত্রধরের সঙ্গে বেগমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রতন সাহার পরিচয় হয়। রতন সাহা মূলত কুমিল্লা শহরে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়িটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি সেখানে খুব কমই আসেন।
পরিচয়ের সূত্র ধরে দিলিপ সূত্রধর রতন সাহার কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া চান। তিনি জানান, জাফরগঞ্জ বাজারে কাঠের ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে ওই এলাকায় থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভাড়াও পাওয়া যাবে—এমন চিন্তা থেকে রতন সাহা তাকে একটি কক্ষ ভাড়া দেন।
কিন্তু সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে রতন সাহা দেখতে পান, তার ঘরে সংরক্ষিত কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত পিতল, কাঁসা, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উধাও। তার দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।
ঘটনার পর রতন সাহা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দিলিপ সূত্রধরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বসবাস করে বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে পুরনো ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে দিলিপ সূত্রধরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মহাসড়কে হঠাৎ শক্তি প্রদর্শন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের বিশাল শোডাউন, চাঙ্গা তৃণমূল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই ছত্রভঙ্গ নেতাকর্মীরা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সকাল ৭টার দিকে অনুষ্ঠিত এ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সকাল ৭টার দিকে নিমসার ও কোরপাই এলাকায় মিছিল বের করেন তারা। মিছিল চলাকালে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের দাবি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহেতাসামুল হাসান রুমির পৃষ্ঠপোষকতায় বুড়িচং উপজেলা যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন মিছিলের আয়োজন করেন।
যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, “প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজারের পশ্চিম পাশে শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
এদিকে মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সী বলেন, “আওয়ামী লীগ গোপনে মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, সেটিও জানতে চাওয়া হবে।”
তবে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “কোরপাই এলাকায় কিছু লোকজন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই গাছ উপড়ে মহাসড়কে, কুমিল্লা-সিলেট সড়কে ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই হঠাৎ একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে পড়ে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
রবিবার (৩১ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দেবীদ্বার থানার পশ্চিম পাশে মহাসড়কের ওপর গাছটি পড়ে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবীদ্বার থানা মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে থাকা একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ আকস্মিকভাবে সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামগামী একটি পণ্যবাহী লরির ওপর গাছের একটি অংশ পড়ে। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং লরির চালক ও সহকারীরা অক্ষত থাকেন।
গাছটি পড়ে যাওয়ার ফলে দেবীদ্বার থানার পশ্চিম পাশের দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে। এছাড়া একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে কাঁচামাল পরিবহনকারী যানবাহন, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল, দেবীদ্বার থানা পুলিশ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১টার দিকে গাছটি কেটে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কৃষ্ণচূড়া গাছটি আগের কয়েকটি ঝড়ের কারণে কিছুটা হেলে ছিল। রবিবার সকালে সেটি উপড়ে মহাসড়কের ওপর পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতায় দ্রুত গাছটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। লরিটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
স্থানীয়রা মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ও হেলে পড়া গাছগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি এড়ানো যায়।


















