আব্দুল হামিদের সাহসী প্রত্যাবর্তন: ভয় নয়, দেশপ্রেমেই ফিরলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি

Former Bangladesh President Mohammad Abdul Hamid at Hazrat Shahjalal International Airport
আব্দুল হামিদের সাহসী প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করল, সত্যিকারের নেতারা ভয় নয়, সত্য আর দায়িত্বের পথেই হাঁটেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান শেষে রবিবার দিবাগত রাত দেড়টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩৩৯) দেশে ফিরলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ।
ফ্লাইট থেকে হুইলচেয়ারে করে নামিয়ে এনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নেওয়া হয় তাঁকে। অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখেননি। বিমানবন্দরে রাত ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন না হলেও তিনি অপেক্ষা করেছেন চুপচাপ, নিয়ম মেনে।
দেশে ফিরেও তিনি পালিয়ে যাননি, গা ঢাকা দেননি, বরং জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মুখে উপস্থিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতাদের নামও রয়েছে। এর পরও তিনি চিকিৎসা শেষে বিদেশে থেকে যাননি, বরং সকল ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরে প্রমাণ করেছেন যে আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা কতটা গভীর। এই ফিরে আসার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
তাঁর দেশত্যাগের সময় ইমিগ্রেশন পাস ও পুলিশি সমন্বয় নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রত্যাবর্তন সেই বিতর্কের জবাবও বয়ে এনেছে—হামিদ পালাননি, মুখোমুখি হতে এসেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় একটি সাহসী বার্তা দিয়েছে—ক্ষমতা ও প্রভাব নয়, সাহস ও দায়িত্ববোধই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়।
আব্দুল হামিদের সাহসী প্রত্যাবর্তন আজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল—যেখানে অধিকাংশ ক্ষমতাধর ব্যক্তি অভিযোগ এড়াতে দেশ ত্যাগ করেন বা আত্মগোপনে যান, সেখানে হামিদের মতো রাজনীতিবিদ আইনের সম্মুখীন হতে পিছপা হন না। তার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক সততার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ

অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে বনদস্যুরা
সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আগের মতো দস্যুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ সক্রিয় ডাকাত সদস্য এর আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।
অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। এছাড়া আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারী এসব সদস্য দীর্ঘদিন ধরে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
“জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
তিনি সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
“আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে দীর্ঘদিনের দস্যুতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোনাতলায় স্কুল যেন ভূতের বাড়ি, ধসে গেছে দেয়াল

বগুড়ার সোনাতলায় করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ের পুরোনো শ্রেণিকক্ষের দেয়াল। কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও নড়বড়ে দরজা-জানালা। মরচে ধরা টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে ভিজে যায় মেঝে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্রও। ভেঙে পড়া দেয়াল ঘেঁষে জন্মেছে লতাগুল্ম ও আগাছা। পুরো পরিবেশ দেখলে মনে হয়, এটি কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা—অনেকটা ভূতের বাড়ির মতো।
এমনই বেহাল দশা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শতবর্ষী করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়েই চলছে নিয়মিত পাঠদান। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। সম্প্রতি ঝড়ে ধসে যাওয়া একটি ভবন অর্থ সংকটের কারণে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে নিরপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি ঝড়ে ধসে পড়া একটি দেয়াল এখনও সংস্কার করা হয়নি। পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশও জরাজীর্ণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালার অবস্থাও নড়বড়ে। বৃষ্টির সময় মরচে ধরা টিনের চাল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় মেঝে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র।
বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেই কোনো টিউবওয়েল। ফলে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানির সংকটেও পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে একঝাঁক শিশু। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নানা সংকটে তাদের স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনাতলা উপজেলার অন্যতম পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি, পুরোনো ভবনের বেহাল দশা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তাদের মতে, সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনগুলো পাঠদানের উপযোগিতা হারাচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাসে টিউবওয়েল না থাকায় তারা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করার আগ্রহ রয়েছে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
এলাকার শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম, আইয়ুব হোসেন নান্টু, ফসি উদ্দিন ও তোজাম্মেল হক বলেন, করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। এর অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। সম্প্রতি ঝড়ে ধসে যাওয়া একটি ভবন অর্থ সংকটের কারণে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইতি আরা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান ও পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত করে নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
র্যাবিস প্রতিরোধে জোরদার কার্যক্রম
বাগেরহাটে জলাতঙ্ক ঠেকাতে কুকুরে টিকা অভিযান, তিন মাসে ৭ হাজার ৫০০ মানুষ আক্রান্ত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পৌরসভার বিশেষ উদ্যোগ
কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে বাগেরহাট পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ ও গৃহপালিত কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কুকুরের কামড়ে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নিয়েছে বাগেরহাট পৌরসভা।
বুধবার দুপুরে বাগেরহাট পৌরসভা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম, ভ্যাকসিনেশন বিশেষজ্ঞ ও ডগ এক্সপার্ট টিমের সদস্য সায়মনসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কুকুরের টিকাদানের মাধ্যমে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। কার্যক্রমটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিন মাসে টিকা নিয়েছেন ৭ হাজার ৫০০ মানুষ
বাগেরহাটে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা কতটা তীব্র, তা স্পষ্ট হয়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বাগেরহাট হাসপাতালের চিকিৎসা পরিসংখ্যানে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে হাসপাতালে এসেছেন।
এ বিপুল সংখ্যক মানুষের কুকুরের কামড়ের শিকার হওয়ার ঘটনা স্থানীয় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পথচারীদের মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুরের দলবদ্ধ চলাচল নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বেওয়ারিশের পাশাপাশি গৃহপালিত কুকুরও পাবে টিকা
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় শুধু বেওয়ারিশ কুকুর নয়, গৃহপালিত কুকুরকেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে।
এর ফলে শহরের কুকুরের একটি বড় অংশকে টিকাদানের আওতায় আনার মাধ্যমে জলাতঙ্কের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফেনী থেকে অভিজ্ঞ ‘ডগ এক্সপার্ট টিম’-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে বাগেরহাট পৌরসভা। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, জনবহুল এলাকা ও কুকুরের বিচরণস্থলে গিয়ে কুকুর শনাক্ত করে টিকা দেবেন।
এ সময় টিমের সদস্যরা কুকুর ধরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
কুকুরের কামড়ের আতঙ্ক কমাতে বড় পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরেই বাগেরহাট পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার, আবাসিক এলাকা ও জনসমাগমস্থলে দলবদ্ধ কুকুরের চলাচল অনেক সময় পথচারীদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। বিশেষ করে হঠাৎ কুকুর তাড়া করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সেগুলোকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা।
পৌরসভার বর্তমান উদ্যোগে সেই দাবির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
শুধু কুকুরকে টিকা দিলেই শেষ নয়
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরকে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
কোনো ব্যক্তি কুকুরের কামড়ের শিকার হলে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বাগেরহাটে তিন মাসে ৭ হাজার ৫০০ মানুষের টিকা গ্রহণের তথ্যই বলে দেয়, কুকুরের টিকাদানের পাশাপাশি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত টিকা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
নজরদারি ও ধারাবাহিকতা চান নাগরিকরা
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উদ্বোধনের মধ্যেই যেন কর্মসূচির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে। পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনা এবং পরবর্তীতে নিয়মিতভাবে টিকাদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে টিকা দেওয়া কুকুর শনাক্তকরণ, পরবর্তী পর্যায়ে পুনরায় টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পর্যবেক্ষণ এবং নতুন বেওয়ারিশ কুকুরের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, একবারের কর্মসূচির চেয়ে ধারাবাহিক টিকাদান ও নজরদারিই জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
জনসম্পৃক্ততা জরুরি
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে নাগরিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকাদানকারী দল কোনো এলাকায় কাজ করার সময় তাদের কাজে বাধা না দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গৃহপালিত কুকুরের মালিকদেরও নিজেদের পোষা প্রাণীকে টিকার আওতায় আনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বাগেরহাটে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নতুন অধ্যায়
কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাগেরহাট পৌরসভার এ উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একদিকে বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান, অন্যদিকে গৃহপালিত কুকুরকে টিকার আওতায় আনা—দুই দিক থেকে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা গেলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তবে কর্মসূচির কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে টিকাদান কার্যক্রমকে নিয়মিত ও ধারাবাহিক করতে হবে। পাশাপাশি কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের জন্য দ্রুত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।
বাগেরহাট পৌরসভার এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শুধু কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্কের বিস্তার রোধই নয়, নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


























