

কারাগারে মৃত্যু রহস্য ঘিরে উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়েছে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে রবিবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে কারা কর্তৃপক্ষ। তারা দাবি করছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—কারাগারের মতো নিয়ন্ত্রিত জায়গায় কীভাবে একজন হাইপ্রোফাইল রাজবন্দী আত্মহত্যা করতে পারে? এ মৃত্যুকে অনেকেই ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে সন্দেহ করছেন। কঠোর নিরাপত্তার এই কারাগারে আত্মহত্যা কি আদৌ সম্ভব, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
রোববার সকাল ১১টার দিকে কারাগারের সূর্যমুখী ভবনের একটি সাধারণ বন্দীকক্ষে সাইদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। সেই সময় তাঁর সেলের এক সহবন্দী আদালতে এবং আরেকজন ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালবেলায় তিনি নাশতা করেন, এরপরই কক্ষে ফাঁস দেন।’ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানাতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সাইদুরকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতাল, পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন আলোচিত রাজনীতিক, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে, সেই ব্যক্তি কীভাবে নিরবিচারে আত্মহত্যা করতে পারেন? অনেকেই মনে করছেন, তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়ে থাকতে পারে।
কারা সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে আলোচিত ছিলেন সাইদুর রহমান। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এই নেতা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর উত্তরায় একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে “কারাগারে মৃত্যু রহস্য” আরও গভীর হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচিতি ও অতীত ইতিহাস বিবেচনায় এ মৃত্যুকে শুধু আত্মহত্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে, যেন সাইদুর রহমানের মৃত্যু নিয়ে সত্য উন্মোচিত হয় এবং কারাগারে মৃত্যুর এ রহস্যের অবসান ঘটে।