নতুন বন্ধুত্বের নীরব যাত্রা
একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধন থেকে শুরু, সেলিনা নামের এক অচেনা মানুষের গল্প

একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধন, কিছু আন্তরিক কথা আর একজন ভালো মানুষের সন্ধান—ছবিতে সেলিনা আক্তার। ছবি : আজকের কথা
একটা সময় ছিল, যখন মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয় হতো গ্রামের মেঠোপথে, স্কুলের বেঞ্চে কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়ির উঠানে। এখন সময় বদলেছে। পরিচয়ের দরজা খুলে যায় একটি নোটিফিকেশন থেকে, একটি মেসেজ থেকে, কখনো কখনো মাত্র দুটি শব্দ থেকেও।
আমার ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল।
ঘটনাটা খুব সাধারণ। অথচ কেন জানি না, আমার কাছে এটি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়ে উঠেছে।
অনেকদিন ধরে আমার একটি পুরোনো ফেসবুক আইডি প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে আমি খুব একটা যাই না। মাঝে মাঝে লগইন করে পুরোনো কিছু স্মৃতি দেখি, পরিচিত কারও খোঁজ নিই, তারপর আবার হারিয়ে যাই নিজের ব্যস্ততায়।
সেদিনও ঠিক তেমনভাবেই ঢুকেছিলাম।
নোটিফিকেশন ঘাঁটতে ঘাঁটতে মেসেঞ্জারে একটি অপঠিত বার্তা চোখে পড়ল। প্রেরকের নাম—সেলিনা।
বার্তাটি খুব ছোট।
“প্রিয় মোহাম্মদ শরিফুল আলম!”
মাত্র তিনটি শব্দ।
কিন্তু এই তিনটি শব্দই আমার মনে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি করল।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় আর অসংখ্য ফেক আইডির ভিড়ে এমন মেসেজ দেখলে সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমিও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। মনে হয়েছিল হয়তো কোনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট। হয়তো কোনো উদ্দেশ্য আছে। তাই মেসেজটি দেখেও উত্তর দিইনি।
দিন কয়েক পর আবার মেসেজটি চোখে পড়ল।
মনের ভেতরে তখন অন্যরকম একটি প্রশ্ন জাগল।
যদি মানুষটি সত্যিই বাস্তব হন?
যদি তিনি কোনো প্রয়োজনেই যোগাযোগ করতে চান?
সন্দেহ আর কৌতূহলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত উত্তর দিলাম।
“কে আপনি?”
প্রশ্নটা পাঠিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
একদিন গেল, দুদিন গেল।
নীরবতা।
আমি তখন আমার বাস্তব ফেসবুক আইডির লিংক এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়ে লিখে রাখলাম, প্রয়োজন হলে যেন সেখানে যোগাযোগ করেন।
তারপরও কোনো সাড়া নেই।
অবশেষে কিছুটা মজা করেই আবার লিখলাম—
“কিতাগো ভাই, আপনি যে আপনার পরিচয় দিলেন না!”
এবার উত্তর এল।
ছোট্ট একটি বার্তা।
“আমি মোস্ট সেলিনা আক্তার। আমি ঢাকায় থাকি। একটা মেডিকেলে চাকরি করি।”
এরপর আরেকটি মেসেজ।
“আপনাকে চিনি না। ফেসবুকে দেখেছি তাই নক দিয়েছিলাম অ্যাড হওয়ার জন্য।”
আরেকটি।
“আপনি কেমন আছেন? কোথায় থাকেন?”
এই ছিল পরিচয়ের শুরু।
কোনো নাটকীয়তা ছিল না।
কোনো প্রেমের গল্পও নয়।
ছিল শুধু দুইজন অপরিচিত মানুষের ভদ্র ও সাধারণ কথোপকথন।
কথা বলতে বলতে জানতে পারলাম, সেলিনার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় থাকেন এবং একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন।
মানুষকে সাহায্য করাই যেন তার পেশা এবং নেশা।
আমি মজা করে বলেছিলাম, “তাহলে আমার চিকিৎসার দায়িত্বও আপনাকেই নিতে হবে।”
তিনি হেসে উত্তর দিয়েছিলেন,
“আপনি শুধু বলবেন, আপনাকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি।”
এই একটি বাক্য আমাকে অদ্ভুতভাবে স্পর্শ করেছিল।
কারণ পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা কথা বলে।
কিন্তু খুব কম মানুষ আছে, যারা সাহায্যের কথা বলে।
এরপর ধীরে ধীরে কথোপকথনের পরিধি বাড়তে লাগল।
একসময় তিনি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও দিলেন।
সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন এক বন্ধুত্বের যাত্রা।
বন্ধুত্ব—শব্দটি যত সহজ, বাস্তবে তা ততটাই কঠিন।
আমার জীবনের অভিজ্ঞতা অন্তত তাই বলে।
সত্যি কথা বলতে কী, আমার জীবনে কোনো নারীর সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব খুব বেশি দিন টেকেনি।
এর জন্য হয়তো আমিই দায়ী।
আমার একরোখা স্বভাব, স্পষ্টবাদিতা, মুখের ওপর সত্য কথা বলে ফেলার অভ্যাস—সব মিলিয়ে অনেক সম্পর্কই সময়ের আগেই দূরত্বে হারিয়ে গেছে।
অনেকেই এসেছে।
আবার চলে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ যোগাযোগ করেছে।
অনেক সুন্দরী নারীও বিভিন্ন সময় ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছেন।
কিন্তু আমি সেসবের বেশিরভাগের উত্তরই দিইনি।
কারণ আমি কখনো অযথা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাইনি।
আর সবচেয়ে বড় কথা, সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারিনি।
বিশ্বাস আমার কাছে খুব মূল্যবান একটি বিষয়।
যাকে বিশ্বাস করব, তাকে মন থেকে করতে চাই।
যাকে বন্ধু বলব, তাকে সত্যিকার অর্থেই বন্ধু ভাবতে চাই।
ভান কিংবা অভিনয়ের সম্পর্ক আমার কখনো ভালো লাগেনি।
এই কারণেই হয়তো জীবনের বড় একটা সময় আমি একাই কাটিয়েছি।
আজও আমি একা।
একা থাকতে শিখে গেছি।
একা থাকতেই অভ্যস্ত।
কিন্তু মানুষ যতই বলুক সে একা থাকতে চায়, মনের ভেতরে কোথাও না কোথাও একজন ভালো মানুষের জন্য অপেক্ষা থেকে যায়।
যে বিচার করবে না।
যে স্বার্থ খুঁজবে না।
যে অভিনয় করবে না।
যে শুধু মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াবে।
সেলিনার সঙ্গে পরিচয়ের পর বারবার সেই কথাটাই মনে হয়েছে।
হয়তো মানুষটি সত্যিই ভালো।
হয়তো তিনি অন্যদের মতো নন।
হয়তো এই পরিচয়টুকু শুধু পরিচয় হয়েই থাকবে।
হয়তো সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যাবে।
আবার হয়তো টিকে থাকবে বহুদিন।
কে জানে?
ভবিষ্যৎ তো কেউ বলতে পারে না।
তবে এটুকু বলতে পারি, পৃথিবী যতই স্বার্থপর হয়ে উঠুক, মানুষের প্রতি বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলাটা ঠিক নয়।
কারণ কখনো কখনো একটি ছোট্ট বার্তাও মানুষের জীবনে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়।
একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধনও নতুন করে মানুষের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
আজ আমার বন্ধু তালিকায় অনেক পরিচিত মানুষ আছেন।
বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন শ্রেণির, বিভিন্ন অবস্থানের মানুষ।
অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী—অনেকেই আছেন।
কিন্তু ব্যক্তিগত অনুভূতির গল্প খুব কম মানুষের সঙ্গেই ভাগাভাগি করেছি।
হয়তো কখনো করিনি।
তবুও এই অচেনা পরিচয়ের গল্পটি লিখতে বসে মনে হলো, মানুষের জীবনে সম্পর্কের সংজ্ঞা আসলে খুব জটিল নয়।
কখনো কখনো একটি আন্তরিক বার্তাই যথেষ্ট।
একটি শুভেচ্ছাই যথেষ্ট।
একটি মানবিক বাক্যই যথেষ্ট।
সেলিনা হয়তো আমার জীবনের কোনো বিশেষ চরিত্র নন।
হয়তো সময়ের স্রোতে তিনি হারিয়ে যাবেন।
হয়তো থেকে যাবেন একজন ভালো বন্ধু হয়ে।
কিন্তু এই পরিচয় আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—
পৃথিবী এখনো পুরোপুরি খারাপ হয়ে যায়নি।
এখনো কোথাও কোথাও কিছু ভালো মানুষ আছেন।
যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই শুধু মানুষকে মানুষ ভেবে কথা বলতে জানেন।
আর সেই কারণেই, একটি পুরোনো ইনঅ্যাকটিভ ফেসবুক আইডিতে আসা একটি ছোট্ট বার্তা আজ আমার কাছে শুধুই একটি মেসেজ নয়—
এটি মানবিকতার প্রতি নতুন করে বিশ্বাস করার একটি গল্প।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
স্মরণসভায় দলীয় ঐক্যের আহ্বান
‘বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করা ব্যক্তিদের দলে থাকার অধিকার নেই’— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি

আমাদের দল কখনো এনসিপিকে সমর্থন করেনি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনে তাদের সমর্থন দিয়েছে। যারা বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করেছে, তাদের বিএনপি করার কোনো অধিকার নেই।
এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার হোমনা-তিতাস আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আ. আউয়াল খান স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় (কুমিল্লা বিভাগ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খান কখনো নিজের পরিবার নিয়ে ভাবেননি; রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান কর্ম। করোনা মহামারির সময় যখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেত, তখনও তিনি ঘরে বসে থাকেননি; দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বিএনপির জন্য যা করেছেন, তার বিনিময়ে বিএনপি তাঁর জন্য তেমন কিছুই করতে পারেনি। এটি দলের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।
দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তিন মাস সময় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এনসিপির কমিটি দিয়ে তো আর বিএনপি চলবে না। তাই দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে প্রতিপক্ষেরই লাভ হয়। তাই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে সবাইকে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিএনপির পতাকার আড়ালে যারা এনসিপির নির্বাচন করেছে, তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। আর কেউ যদি টাকা দিয়ে নেতৃত্ব কিনতে চায়, সেই খবর পেলে তার পদ বাতিল করা হবে।”
দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি ও গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম. এ. আউয়াল খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ওমর ফারুক সাফিন ও সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, রেজভিউল আহসান মুন্সী, সুফিয়া বেগম এবং দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।
এ ছাড়া প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খানের পুত্র, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা আসাদুজ্জামান খানসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত নেতা আ. আউয়াল খানের রাজনৈতিক জীবন, দলীয় অবদান ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভার আগে প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের নিজ গ্রামে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্বস্তি এলাকাবাসীর
জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারে তরুণ ব্যবসায়ী সাকিব

কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বহুল আলোচিত জনদুর্ভোগের সড়ক মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সাকিব হাসান। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি দুই উপজেলার সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংস্কারবঞ্চিত থাকায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।
মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল নোয়াব মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, এই সড়কটি দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেবীদ্বার উপজেলার পদ্মকোট, বল্লভপুর, উজানীজোড়া, উজানীকান্দী, নোয়াখোলা, গাংচর ও বুটিয়াকান্দী এবং মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল, কৃষ্ণপুর, সিদ্ধেশ্বরী, বাঁশকাইট, উড়িষ্যা, পাহাড়পুর ও পান্তিসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কেউ এই রাস্তার দিকে নজর দেয়নি। এখন একজন তরুণ নিজের অর্থে ইট-বালু ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেছেন। আমরা তাঁর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।”
স্থানীয় সিএনজি চালক আব্দুর রশিদ বলেন, আগে যাত্রী পারাপারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সাকিব ভাই ইট-বালু ফেলে রাস্তার বড় বড় খানাখন্দ ভরাট করায় এখন চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাকিব হাসান এর আগেও এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙাচোরা সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেছেন।
পিকআপ ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ হতো। মাটির রাস্তা হওয়ায় প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগ দেখে সাকিব হাসান নিজ উদ্যোগে কংক্রিট, ইট ও বালু ব্যবহার করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, “সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি আমি যৌতুক, বাল্যবিয়ে ও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনেও কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনহিতকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী সংস্কারে আপাতত দুর্ভোগ কমলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন।
আত্মসমর্পণ না করায় গ্রেপ্তার নির্দেশ
তনু হত্যা মামলা: ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পেরোলেও আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত সাবেক সেনাসদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান আদালতের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রম হলেও আত্মসমর্পণ করেননি। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি আদালতে হাজির হননি বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান।
হাইকোর্টের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ
এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। সেই আদেশের পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের ওই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটির শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেন এবং হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী রোববার (৯ আগস্ট) দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালত পুলিশের বক্তব্য
কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জামিন স্থগিতের বিষয়টি জানলেও শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাফিজুর রহমান কুমিল্লার কোনো আদালতে আত্মসমর্পণ বা হাজির হননি।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুর ইউনিটের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি তাঁরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখনো আদেশের অফিসিয়াল কপি তাঁদের হাতে পৌঁছেনি। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেছেন—এমন কোনো তথ্যও তাঁদের কাছে নেই। আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য
কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাইমুল হক (রিংকু) জানান, সরকারি ছুটির দিন হলেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ আদালত চালু রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাফিজুর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
মামলার প্রেক্ষাপট
সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাঁর বাসা থেকে পিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২২ এপ্রিল তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৫ এপ্রিল তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ঘটনার পরদিন, ২১ মার্চ তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।



























