নতুন বন্ধুত্বের নীরব যাত্রা
একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধন থেকে শুরু, সেলিনা নামের এক অচেনা মানুষের গল্প

একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধন, কিছু আন্তরিক কথা আর একজন ভালো মানুষের সন্ধান—ছবিতে সেলিনা আক্তার। ছবি : আজকের কথা
একটা সময় ছিল, যখন মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয় হতো গ্রামের মেঠোপথে, স্কুলের বেঞ্চে কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়ির উঠানে। এখন সময় বদলেছে। পরিচয়ের দরজা খুলে যায় একটি নোটিফিকেশন থেকে, একটি মেসেজ থেকে, কখনো কখনো মাত্র দুটি শব্দ থেকেও।
আমার ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল।
ঘটনাটা খুব সাধারণ। অথচ কেন জানি না, আমার কাছে এটি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়ে উঠেছে।
অনেকদিন ধরে আমার একটি পুরোনো ফেসবুক আইডি প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে আমি খুব একটা যাই না। মাঝে মাঝে লগইন করে পুরোনো কিছু স্মৃতি দেখি, পরিচিত কারও খোঁজ নিই, তারপর আবার হারিয়ে যাই নিজের ব্যস্ততায়।
সেদিনও ঠিক তেমনভাবেই ঢুকেছিলাম।
নোটিফিকেশন ঘাঁটতে ঘাঁটতে মেসেঞ্জারে একটি অপঠিত বার্তা চোখে পড়ল। প্রেরকের নাম—সেলিনা।
বার্তাটি খুব ছোট।
“প্রিয় মোহাম্মদ শরিফুল আলম!”
মাত্র তিনটি শব্দ।
কিন্তু এই তিনটি শব্দই আমার মনে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি করল।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় আর অসংখ্য ফেক আইডির ভিড়ে এমন মেসেজ দেখলে সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমিও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। মনে হয়েছিল হয়তো কোনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট। হয়তো কোনো উদ্দেশ্য আছে। তাই মেসেজটি দেখেও উত্তর দিইনি।
দিন কয়েক পর আবার মেসেজটি চোখে পড়ল।
মনের ভেতরে তখন অন্যরকম একটি প্রশ্ন জাগল।
যদি মানুষটি সত্যিই বাস্তব হন?
যদি তিনি কোনো প্রয়োজনেই যোগাযোগ করতে চান?
সন্দেহ আর কৌতূহলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত উত্তর দিলাম।
“কে আপনি?”
প্রশ্নটা পাঠিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
একদিন গেল, দুদিন গেল।
নীরবতা।
আমি তখন আমার বাস্তব ফেসবুক আইডির লিংক এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়ে লিখে রাখলাম, প্রয়োজন হলে যেন সেখানে যোগাযোগ করেন।
তারপরও কোনো সাড়া নেই।
অবশেষে কিছুটা মজা করেই আবার লিখলাম—
“কিতাগো ভাই, আপনি যে আপনার পরিচয় দিলেন না!”
এবার উত্তর এল।
ছোট্ট একটি বার্তা।
“আমি মোস্ট সেলিনা আক্তার। আমি ঢাকায় থাকি। একটা মেডিকেলে চাকরি করি।”
এরপর আরেকটি মেসেজ।
“আপনাকে চিনি না। ফেসবুকে দেখেছি তাই নক দিয়েছিলাম অ্যাড হওয়ার জন্য।”
আরেকটি।
“আপনি কেমন আছেন? কোথায় থাকেন?”
এই ছিল পরিচয়ের শুরু।
কোনো নাটকীয়তা ছিল না।
কোনো প্রেমের গল্পও নয়।
ছিল শুধু দুইজন অপরিচিত মানুষের ভদ্র ও সাধারণ কথোপকথন।
কথা বলতে বলতে জানতে পারলাম, সেলিনার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় থাকেন এবং একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন।
মানুষকে সাহায্য করাই যেন তার পেশা এবং নেশা।
আমি মজা করে বলেছিলাম, “তাহলে আমার চিকিৎসার দায়িত্বও আপনাকেই নিতে হবে।”
তিনি হেসে উত্তর দিয়েছিলেন,
“আপনি শুধু বলবেন, আপনাকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি।”
এই একটি বাক্য আমাকে অদ্ভুতভাবে স্পর্শ করেছিল।
কারণ পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা কথা বলে।
কিন্তু খুব কম মানুষ আছে, যারা সাহায্যের কথা বলে।
এরপর ধীরে ধীরে কথোপকথনের পরিধি বাড়তে লাগল।
একসময় তিনি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও দিলেন।
সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন এক বন্ধুত্বের যাত্রা।
বন্ধুত্ব—শব্দটি যত সহজ, বাস্তবে তা ততটাই কঠিন।
আমার জীবনের অভিজ্ঞতা অন্তত তাই বলে।
সত্যি কথা বলতে কী, আমার জীবনে কোনো নারীর সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব খুব বেশি দিন টেকেনি।
এর জন্য হয়তো আমিই দায়ী।
আমার একরোখা স্বভাব, স্পষ্টবাদিতা, মুখের ওপর সত্য কথা বলে ফেলার অভ্যাস—সব মিলিয়ে অনেক সম্পর্কই সময়ের আগেই দূরত্বে হারিয়ে গেছে।
অনেকেই এসেছে।
আবার চলে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ যোগাযোগ করেছে।
অনেক সুন্দরী নারীও বিভিন্ন সময় ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছেন।
কিন্তু আমি সেসবের বেশিরভাগের উত্তরই দিইনি।
কারণ আমি কখনো অযথা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাইনি।
আর সবচেয়ে বড় কথা, সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারিনি।
বিশ্বাস আমার কাছে খুব মূল্যবান একটি বিষয়।
যাকে বিশ্বাস করব, তাকে মন থেকে করতে চাই।
যাকে বন্ধু বলব, তাকে সত্যিকার অর্থেই বন্ধু ভাবতে চাই।
ভান কিংবা অভিনয়ের সম্পর্ক আমার কখনো ভালো লাগেনি।
এই কারণেই হয়তো জীবনের বড় একটা সময় আমি একাই কাটিয়েছি।
আজও আমি একা।
একা থাকতে শিখে গেছি।
একা থাকতেই অভ্যস্ত।
কিন্তু মানুষ যতই বলুক সে একা থাকতে চায়, মনের ভেতরে কোথাও না কোথাও একজন ভালো মানুষের জন্য অপেক্ষা থেকে যায়।
যে বিচার করবে না।
যে স্বার্থ খুঁজবে না।
যে অভিনয় করবে না।
যে শুধু মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াবে।
সেলিনার সঙ্গে পরিচয়ের পর বারবার সেই কথাটাই মনে হয়েছে।
হয়তো মানুষটি সত্যিই ভালো।
হয়তো তিনি অন্যদের মতো নন।
হয়তো এই পরিচয়টুকু শুধু পরিচয় হয়েই থাকবে।
হয়তো সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যাবে।
আবার হয়তো টিকে থাকবে বহুদিন।
কে জানে?
ভবিষ্যৎ তো কেউ বলতে পারে না।
তবে এটুকু বলতে পারি, পৃথিবী যতই স্বার্থপর হয়ে উঠুক, মানুষের প্রতি বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলাটা ঠিক নয়।
কারণ কখনো কখনো একটি ছোট্ট বার্তাও মানুষের জীবনে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়।
একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধনও নতুন করে মানুষের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
আজ আমার বন্ধু তালিকায় অনেক পরিচিত মানুষ আছেন।
বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন শ্রেণির, বিভিন্ন অবস্থানের মানুষ।
অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী—অনেকেই আছেন।
কিন্তু ব্যক্তিগত অনুভূতির গল্প খুব কম মানুষের সঙ্গেই ভাগাভাগি করেছি।
হয়তো কখনো করিনি।
তবুও এই অচেনা পরিচয়ের গল্পটি লিখতে বসে মনে হলো, মানুষের জীবনে সম্পর্কের সংজ্ঞা আসলে খুব জটিল নয়।
কখনো কখনো একটি আন্তরিক বার্তাই যথেষ্ট।
একটি শুভেচ্ছাই যথেষ্ট।
একটি মানবিক বাক্যই যথেষ্ট।
সেলিনা হয়তো আমার জীবনের কোনো বিশেষ চরিত্র নন।
হয়তো সময়ের স্রোতে তিনি হারিয়ে যাবেন।
হয়তো থেকে যাবেন একজন ভালো বন্ধু হয়ে।
কিন্তু এই পরিচয় আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—
পৃথিবী এখনো পুরোপুরি খারাপ হয়ে যায়নি।
এখনো কোথাও কোথাও কিছু ভালো মানুষ আছেন।
যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই শুধু মানুষকে মানুষ ভেবে কথা বলতে জানেন।
আর সেই কারণেই, একটি পুরোনো ইনঅ্যাকটিভ ফেসবুক আইডিতে আসা একটি ছোট্ট বার্তা আজ আমার কাছে শুধুই একটি মেসেজ নয়—
এটি মানবিকতার প্রতি নতুন করে বিশ্বাস করার একটি গল্প।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’
ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা
সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?
জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।
রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।
যে স্বপ্ন এখনো অধরা
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।
সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।
কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?
উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।
সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।
জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি
জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।
টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।
তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।
কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।
একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।
রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—
কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।
কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব
আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”
তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।
সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”
অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি
































