নতুন বন্ধুত্বের নীরব যাত্রা
একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধন থেকে শুরু, সেলিনা নামের এক অচেনা মানুষের গল্প

একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধন, কিছু আন্তরিক কথা আর একজন ভালো মানুষের সন্ধান—ছবিতে সেলিনা আক্তার। ছবি : আজকের কথা
একটা সময় ছিল, যখন মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয় হতো গ্রামের মেঠোপথে, স্কুলের বেঞ্চে কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়ির উঠানে। এখন সময় বদলেছে। পরিচয়ের দরজা খুলে যায় একটি নোটিফিকেশন থেকে, একটি মেসেজ থেকে, কখনো কখনো মাত্র দুটি শব্দ থেকেও।
আমার ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল।
ঘটনাটা খুব সাধারণ। অথচ কেন জানি না, আমার কাছে এটি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়ে উঠেছে।
অনেকদিন ধরে আমার একটি পুরোনো ফেসবুক আইডি প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে আমি খুব একটা যাই না। মাঝে মাঝে লগইন করে পুরোনো কিছু স্মৃতি দেখি, পরিচিত কারও খোঁজ নিই, তারপর আবার হারিয়ে যাই নিজের ব্যস্ততায়।
সেদিনও ঠিক তেমনভাবেই ঢুকেছিলাম।
নোটিফিকেশন ঘাঁটতে ঘাঁটতে মেসেঞ্জারে একটি অপঠিত বার্তা চোখে পড়ল। প্রেরকের নাম—সেলিনা।
বার্তাটি খুব ছোট।
“প্রিয় মোহাম্মদ শরিফুল আলম!”
মাত্র তিনটি শব্দ।
কিন্তু এই তিনটি শব্দই আমার মনে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি করল।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় আর অসংখ্য ফেক আইডির ভিড়ে এমন মেসেজ দেখলে সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমিও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। মনে হয়েছিল হয়তো কোনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট। হয়তো কোনো উদ্দেশ্য আছে। তাই মেসেজটি দেখেও উত্তর দিইনি।
দিন কয়েক পর আবার মেসেজটি চোখে পড়ল।
মনের ভেতরে তখন অন্যরকম একটি প্রশ্ন জাগল।
যদি মানুষটি সত্যিই বাস্তব হন?
যদি তিনি কোনো প্রয়োজনেই যোগাযোগ করতে চান?
সন্দেহ আর কৌতূহলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত উত্তর দিলাম।
“কে আপনি?”
প্রশ্নটা পাঠিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
একদিন গেল, দুদিন গেল।
নীরবতা।
আমি তখন আমার বাস্তব ফেসবুক আইডির লিংক এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়ে লিখে রাখলাম, প্রয়োজন হলে যেন সেখানে যোগাযোগ করেন।
তারপরও কোনো সাড়া নেই।
অবশেষে কিছুটা মজা করেই আবার লিখলাম—
“কিতাগো ভাই, আপনি যে আপনার পরিচয় দিলেন না!”
এবার উত্তর এল।
ছোট্ট একটি বার্তা।
“আমি মোস্ট সেলিনা আক্তার। আমি ঢাকায় থাকি। একটা মেডিকেলে চাকরি করি।”
এরপর আরেকটি মেসেজ।
“আপনাকে চিনি না। ফেসবুকে দেখেছি তাই নক দিয়েছিলাম অ্যাড হওয়ার জন্য।”
আরেকটি।
“আপনি কেমন আছেন? কোথায় থাকেন?”
এই ছিল পরিচয়ের শুরু।
কোনো নাটকীয়তা ছিল না।
কোনো প্রেমের গল্পও নয়।
ছিল শুধু দুইজন অপরিচিত মানুষের ভদ্র ও সাধারণ কথোপকথন।
কথা বলতে বলতে জানতে পারলাম, সেলিনার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় থাকেন এবং একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন।
মানুষকে সাহায্য করাই যেন তার পেশা এবং নেশা।
আমি মজা করে বলেছিলাম, “তাহলে আমার চিকিৎসার দায়িত্বও আপনাকেই নিতে হবে।”
তিনি হেসে উত্তর দিয়েছিলেন,
“আপনি শুধু বলবেন, আপনাকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি।”
এই একটি বাক্য আমাকে অদ্ভুতভাবে স্পর্শ করেছিল।
কারণ পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা কথা বলে।
কিন্তু খুব কম মানুষ আছে, যারা সাহায্যের কথা বলে।
এরপর ধীরে ধীরে কথোপকথনের পরিধি বাড়তে লাগল।
একসময় তিনি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও দিলেন।
সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন এক বন্ধুত্বের যাত্রা।
বন্ধুত্ব—শব্দটি যত সহজ, বাস্তবে তা ততটাই কঠিন।
আমার জীবনের অভিজ্ঞতা অন্তত তাই বলে।
সত্যি কথা বলতে কী, আমার জীবনে কোনো নারীর সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব খুব বেশি দিন টেকেনি।
এর জন্য হয়তো আমিই দায়ী।
আমার একরোখা স্বভাব, স্পষ্টবাদিতা, মুখের ওপর সত্য কথা বলে ফেলার অভ্যাস—সব মিলিয়ে অনেক সম্পর্কই সময়ের আগেই দূরত্বে হারিয়ে গেছে।
অনেকেই এসেছে।
আবার চলে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ যোগাযোগ করেছে।
অনেক সুন্দরী নারীও বিভিন্ন সময় ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছেন।
কিন্তু আমি সেসবের বেশিরভাগের উত্তরই দিইনি।
কারণ আমি কখনো অযথা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাইনি।
আর সবচেয়ে বড় কথা, সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারিনি।
বিশ্বাস আমার কাছে খুব মূল্যবান একটি বিষয়।
যাকে বিশ্বাস করব, তাকে মন থেকে করতে চাই।
যাকে বন্ধু বলব, তাকে সত্যিকার অর্থেই বন্ধু ভাবতে চাই।
ভান কিংবা অভিনয়ের সম্পর্ক আমার কখনো ভালো লাগেনি।
এই কারণেই হয়তো জীবনের বড় একটা সময় আমি একাই কাটিয়েছি।
আজও আমি একা।
একা থাকতে শিখে গেছি।
একা থাকতেই অভ্যস্ত।
কিন্তু মানুষ যতই বলুক সে একা থাকতে চায়, মনের ভেতরে কোথাও না কোথাও একজন ভালো মানুষের জন্য অপেক্ষা থেকে যায়।
যে বিচার করবে না।
যে স্বার্থ খুঁজবে না।
যে অভিনয় করবে না।
যে শুধু মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াবে।
সেলিনার সঙ্গে পরিচয়ের পর বারবার সেই কথাটাই মনে হয়েছে।
হয়তো মানুষটি সত্যিই ভালো।
হয়তো তিনি অন্যদের মতো নন।
হয়তো এই পরিচয়টুকু শুধু পরিচয় হয়েই থাকবে।
হয়তো সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যাবে।
আবার হয়তো টিকে থাকবে বহুদিন।
কে জানে?
ভবিষ্যৎ তো কেউ বলতে পারে না।
তবে এটুকু বলতে পারি, পৃথিবী যতই স্বার্থপর হয়ে উঠুক, মানুষের প্রতি বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলাটা ঠিক নয়।
কারণ কখনো কখনো একটি ছোট্ট বার্তাও মানুষের জীবনে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়।
একটি ‘প্রিয়’ সম্বোধনও নতুন করে মানুষের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
আজ আমার বন্ধু তালিকায় অনেক পরিচিত মানুষ আছেন।
বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন শ্রেণির, বিভিন্ন অবস্থানের মানুষ।
অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী—অনেকেই আছেন।
কিন্তু ব্যক্তিগত অনুভূতির গল্প খুব কম মানুষের সঙ্গেই ভাগাভাগি করেছি।
হয়তো কখনো করিনি।
তবুও এই অচেনা পরিচয়ের গল্পটি লিখতে বসে মনে হলো, মানুষের জীবনে সম্পর্কের সংজ্ঞা আসলে খুব জটিল নয়।
কখনো কখনো একটি আন্তরিক বার্তাই যথেষ্ট।
একটি শুভেচ্ছাই যথেষ্ট।
একটি মানবিক বাক্যই যথেষ্ট।
সেলিনা হয়তো আমার জীবনের কোনো বিশেষ চরিত্র নন।
হয়তো সময়ের স্রোতে তিনি হারিয়ে যাবেন।
হয়তো থেকে যাবেন একজন ভালো বন্ধু হয়ে।
কিন্তু এই পরিচয় আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—
পৃথিবী এখনো পুরোপুরি খারাপ হয়ে যায়নি।
এখনো কোথাও কোথাও কিছু ভালো মানুষ আছেন।
যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই শুধু মানুষকে মানুষ ভেবে কথা বলতে জানেন।
আর সেই কারণেই, একটি পুরোনো ইনঅ্যাকটিভ ফেসবুক আইডিতে আসা একটি ছোট্ট বার্তা আজ আমার কাছে শুধুই একটি মেসেজ নয়—
এটি মানবিকতার প্রতি নতুন করে বিশ্বাস করার একটি গল্প।
মাঠে কাজ, প্রাণ গেল
সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

মাঠে কাজ করার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রোববার সন্ধ্যায় সিংগাইরের কাঞ্চননগর এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে
কবির হোসেন (৩০) ও শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজ উদ্দিনের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে নিজ নিজ জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন কবির ও শহিদুল। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে অবস্থানকালে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিখোঁজের পর মিলল লাশ
টিসি দেওয়ার কয়েকদিন পরই নিখোঁজ ছাত্রী, ৬ দিন পর কবরস্থানের ঝোপে মিলল খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের ছয় দিন পর কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
ঘটনার আগে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত কিশোরী উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ, বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে।
বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়ার নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রেখে যায়।
এরপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের ছয় দিন পর রোববার বিকেলে চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে মরদেহের অংশ দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে তারা পুলিশে খবর দিলে সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বলে শনাক্ত করেন। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নারী উদ্যোক্তা মহলে শোক
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই

দেশের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গ্রুপ এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ী সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের
ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি BWCCI-এর
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি Oslo Business for Peace Awardসহ একাধিক জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
পারিবারিক ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিটল-নিলয় গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প নিলয় বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজয় কুমার মণ্ডল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সেলিমা আহমাদ ছিলেন দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ব্যবসায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ব্যবসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক Oslo Business for Peace Award অর্জন করেন। এছাড়া ২০২২ সালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা পদক লাভ করেন। এর আগে ২০১২ সালে Islamic Development Bank Award এবং Priyadarshini Award-এও সম্মানিত হন।
তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী সমাজ, নারী উদ্যোক্তা মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেন, সেলিমা আহমাদের মৃত্যু দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।




















