ঈদ সামনে রেখে বাড়ছে কৌতূহল
কোটালীপাড়ায় আলোচনায় ৪২ মণ ওজনের ‘কালা পাহাড়’
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের খামারি মো. মনিরুজ্জামানের বাড়িতে বিশাল দেহের ষাঁড় গরু। ছবি : আজকের কথা
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিশাল আকৃতির একটি গরু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালা পাহাড়’ নামের প্রায় ৪২ মণ ওজনের গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের টুপুরিয়া গ্রামের গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মৃধা প্রায় পাঁচ বছর ধরে গরুটিকে লালন-পালন করছেন। ছোট বাছুর অবস্থায় কেনা গরুটি বর্তমানে প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল আকৃতির প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।
সাদা-কালো রঙের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির বিশাল গড়ন ও শান্ত স্বভাব স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই এটিকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় গরু হিসেবে উল্লেখ করছেন।
খামারি মনিরুজ্জামান মৃধা জানান, নড়াইলের পহরডাঙ্গা হাট থেকে ছোট অবস্থায় গরুটি কিনে আনেন তিনি। এরপর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়িতেই গরুটিকে বড় করে তোলা হয়েছে। গমের ভুষি, চালের গুঁড়া, খড়, সয়ামিলের ভুষি ও ভুট্টার পাউডারের পাশাপাশি ফলমূলও খাওয়ানো হয় গরুটিকে। প্রতিদিন এর খাবার ও পরিচর্যায় প্রায় এক হাজার টাকা ব্যয় হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুটি বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে উপযুক্ত দাম পেলেই ‘কালা পাহাড়’ বিক্রি করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গরুটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে গরুটি দেখছেন এবং ছবি তুলছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছেও গরুটি এখন পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেশী মানিক শেখ বলেন, “এই গরুটি আমাদের এলাকার গর্ব। অত্যন্ত যত্ন নিয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। আশা করছি ঈদে ভালো দাম পাওয়া যাবে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিরাজ হোসেন বলেন, উন্নত প্রজনন ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এখন বড় আকারের ফ্রিজিয়ান জাতের গরু উৎপাদনে খামারিরা আগ্রহী হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



















