শিক্ষায় অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতি
জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা মুরাদনগরের নাজনীন
জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা মুরাদনগরের নাজনীন। ছবি : আজকের কথা
শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মীর হাছিনা নাজনীন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে জেলার সেরা প্রধান শিক্ষিকার এই গৌরবজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান এবং সদস্য সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার এ সাফল্যের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর আওতায় জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক যোগ্যতা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম এবং সামগ্রিক নেতৃত্বের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে জেলা বাছাই কমিটি। কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হন মীর হাছিনা নাজনীন।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে তিনি মুরাদনগর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হন। উপজেলা পর্যায়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার জেলা পর্যায়েও সেরার স্বীকৃতি অর্জন করে তিনি মুরাদনগর তথা কুমিল্লার শিক্ষা অঙ্গনে নতুন গৌরব যোগ করেছেন।
২০১৩ সালে সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মীর হাছিনা নাজনীন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন তিনি।
তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম কার্যক্রম চালু ও সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শুধু শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নই নয়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দক্ষ নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন মীর হাছিনা নাজনীন। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্যান্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।
এর আগেও ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক সাফল্য, সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কারণে তিনি শিক্ষক সমাজে একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এ অর্জনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মীর হাছিনা নাজনীন। তিনি বলেন, “এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”
তার এই কৃতিত্বে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মীর হাছিনা নাজনীনের এ অর্জন মুরাদনগরের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ
হাজারো নেতাকর্মীর শক্তি প্রদর্শন, নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলে পিছু হটল পুলিশ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বিপুলসংখ্যক মিছিলকারীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরে যান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ, জনসমাগমে নিয়ন্ত্রণ হারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক বাঁধের হাট বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে পুলিশ মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, “দেশে অন্যায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে, মিছিলকারীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রথমে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ওসি বলেন, “পুলিশের ছয় সদস্যের একটি টিম সেখানে ছিল। কিন্তু মিছিলকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
প্রবাসে সফল বগুড়ার সুন্দরী আতিয়া
শুধু রূপেই নয়, কর্মগুণেও প্রবাসে উজ্জ্বল বগুড়ার সুন্দরী আতিয়া
“নীল শাড়ির জমকালো সাজে অপরূপা আতিয়া ইসলাম; যিনি নিজ কর্মগুণে আজ সুদূর আমেরিকায় সুপ্রতিষ্ঠিত।”
চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যু
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল চৌদ্দগ্রামের যুবকের
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতি গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত নূরুল আমিন সোহাগ (৪০) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস সোবহানের ছেলে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।
চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, দগ্ধ বোন-ভগ্নিপতি হাসপাতালে
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যান সোহাগ। সেখানে মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত একটি পাঁচতলা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন তারা।
বুধবার (৩ জুন) সকালে হোটেলটিতে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান নূরুল আমিন সোহাগ।
অগ্নিকাণ্ডে তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহতের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, “চিকিৎসার আশায় ভারতে গিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু সেখানে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ রাখছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “নিহতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে।”























