রূপগঞ্জে মব মাস্টার ডার্বি নাসির যাওয়ার আগেই সভামঞ্চে হামলা ভাংচুর \ আহত ৫ \ গ্রেফতার ২
রূপগঞ্জে ডার্বি নাসির যাওয়ার আগেই সভামঞ্চে হামলা ভাংচুর। ছবি : আজকের কথা
রূপগঞ্জ উপজেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফল উৎসব অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মব মাস্টার ডার্বি নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী আসার আগেই হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুর করা হয়েছে।
গতকাল ৬জুন শনিবার বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে হেলমেট পরিহিত ৫০/৬০ সদস্যের একদল যুবক দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফল উৎসবের নির্মিত প্যান্ডেল, চেয়ার, টেবিল ও মঞ্চ ভাংচুর করে।
এসময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলায় এনসিপির সমর্থিত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়।
হামলায় আহত রূপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় যুবশক্তি কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আল ফারাবি (২৭), যুগ্ম আহবায়ক রাবেয়া আক্তার (২৫), নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল রাজ (৪০), সদস্য দপ্তর সেল সাখাওয়াত হোসেন তারেককে (২৮) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দাউদপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে নিলয় (২১) ও আমজাত হোসেনের ছেলে রাজু মিয়াকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।
এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ধরেেণর কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, এনসিপির ফল উৎসব অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সড়ক যোগাযোগ সংকট ও তাৎক্ষণিক ঘটনা ঘটানোর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। আয়োজকরা বিকেলে নির্বিঘ্নে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে।
সাফদারপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় স্থবিরতা
ঝিনাইদহে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেলস্টেশন এলাকায় তেলবাহী একটি মালগাড়ির তিনটি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (৭ জুন) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সাফদারপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নয়ন হোসেন জানান, খুলনা থেকে পার্বতীপুরগামী তেলবাহী মালগাড়িটি সাফদারপুর স্টেশনের কাছে পৌঁছালে ট্রেনটির পেছনের তিনটি ট্যাংকারের মোট নয়টি চাকা রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এতে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গমুখী সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাইনচ্যুত ট্যাংকারগুলো উদ্ধার এবং রেলপথ সচল করতে খুলনা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন পৌঁছানোর পর মূল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার।
এ ঘটনায় যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইন সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে একই এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই স্থানে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নির্যাতন বন্ধ না হলে জবাবের ইঙ্গিত
দলীয় কর্মীদের নির্যাতন নিয়ে ক্ষোভ, বিএনপিকে সতর্ক করলেন বাহাউদ্দিন বাহার
কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে তিনি দাবি করেন, তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা হোক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই পোস্টারে বাহাউদ্দিন বাহারকে বলতে দেখা যায়, “বিএনপির ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, যা করেছেন করেছেন। আজ থেকে আমার কোনো নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন করা বন্ধ করে দেন।”
বিএনপির ভাইদের উদ্দেশে বার্তা: ‘নেতাকর্মীদের নির্যাতন বন্ধ করুন’
— আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার
পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়, “আর আজকের পর যারা করবেন, আমাদের নেতাকর্মীরা মনে মনে নোট করে রাখবেন।”
এ বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে পোস্টারে উল্লিখিত বার্তার বিষয়ে বাহাউদ্দিন বাহারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বিবৃতি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে বক্তব্যটি কোন নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের সংঘাত, মামলা-মোকদ্দমা ও দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ-প্রতিআরোপের মধ্যেই এমন বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
নোয়াখালীতে উত্তপ্ত আ.লীগ-ছাত্রদল
এবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে ‘মব’ রাজনীতির পাল্টা জবাব, নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আ.লীগ সংঘর্ষে জ্বলল মোটরসাইকেল-কার্যালয়
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের অন্তত ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রদল সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ প্রচার করা হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল দাবি করেন, “ছাত্রলীগের সমর্থকরা আগে থেকে জড়ো হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।”
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন এবং একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।”















