ভাবির কাটা মাথা হাতে নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ! পশ্চিমবঙ্গে বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে গা শিউরে ওঠা এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য আম পাড়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে দেবর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, শরীর থেকে মাথা আলাদা করে সেটি হাতে নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে শেষে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে ঘাতক!
ঘটনাটি ঘটে বাসন্তীর ভরতগড় এলাকায়। নিহত গৃহবধূর নাম সতী মন্ডল (৪৫), অভিযুক্ত ঘাতকের নাম বিমল মন্ডল। তারা সম্পর্কে দেবর-ভাবি। নিহত সতীর স্বামী চার মাস আগে মারা যান। একমাত্র পুত্র সন্তান সোনারপুরে থেকে পড়াশোনা করছে।
🪓 চোখে-মুখে অনুতাপহীন হত্যাকারী!
ভয়াবহ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে রক্তমাখা চপার, অন্য হাতে সদ্য কাটা নারীর মুণ্ডু। পুরো শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তবুও চোখে-মুখে নেই সামান্যতম অনুশোচনা। যেন কিছুই হয়নি—এই ভঙ্গিতে থানার দিকে হাঁটতে দেখা যায় ঘাতক বিমলকে।
⚠️ দাবি: ‘আম গাছ আমার, অনুমতির দরকার কী!’
ঘটনার সূত্রপাত একটি আমগাছকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সতী ও অভিযুক্ত বিমলের বাড়ি পাশাপাশি। আগে থেকেই তাদের মধ্যে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ ছিল। সম্প্রতি একটি আমগাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিমল দাবি করেন, গাছটি তার সম্পত্তি। সতী পাল্টা দাবি করে বলেন, ‘আম পাড়ার জন্য কারো অনুমতির দরকার নেই।’
এই কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে, বাড়ি থেকে চপার এনে সতীকে মাথায় ও ঘাড়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন বিমল। এক পর্যায়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সতী।
🧟 গ্রামের পথ ধরে কাটা মুণ্ডু হাতে ঘোরাঘুরি
এরপর ভয়াবহ দৃশ্যের জন্ম দেন ঘাতক। এক হাতে কাটা মাথা, আরেক হাতে রক্তমাখা অস্ত্র হাতে তিনি সারা গ্রাম ঘুরে বেড়ান। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের কেউ কেউ ভয়ে পালিয়ে যান, কেউ আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। পরে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
🚨 গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
পুলিশ বিমল মন্ডলকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে কাটা মাথা ও চপার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিমল খুনের কথা স্বীকার করে বলেন, “হঠাৎ মাথা গরম হয়ে যাওয়াতেই আমি এই কাজ করে ফেলেছি।”
📌 সংক্ষেপে:
- অভিযুক্ত: বিমল মন্ডল, বাসন্তী থানার অধীন ভরতগড়ের বাসিন্দা
- নিহত: সতী মন্ডল, তার ভাবি
- মোটিভ: আম পাড়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধ
- ঘটনার ধরন: প্রকাশ্য কুপিয়ে হত্যা, মুণ্ডু বিচ্ছিন্ন
- অবস্থা: আসামি পুলিশের হেফাজতে, স্বীকারোক্তি প্রদান
ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাবে আরও কাছে
জুড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সিটি ব্যাংকের নতুন শাখা

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো সিটি ব্যাংকের নতুন শাখা। উপজেলার শিশু পার্ক সংলগ্ন শরিফ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত এ শাখার কার্যক্রম সোমবার (২২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা নতুন শাখার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিটি ব্যাংকের সিলেট বিভাগীয় প্রধান শাহ হাসান, সিলেট আম্বরখানা শাখার ম্যানেজার সারোয়ার আহমেদ ফেরদৌস, মৌলভীবাজার শাখার ম্যানেজার মামুন রহমান, কুলাউড়া শাখার ম্যানেজার মামুন আলী এবং বড়লেখা শাখার ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি জুড়ী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও হাকালুকি নিউজের সম্পাদক এম এম সামছুল ইসলাম, জুড়ী কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতির সভাপতি নূরুল আম্বিয়া এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের জুড়ী উপজেলা সদস্য কাজী আমজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিটি ব্যাংক জুড়ী শাখার ম্যানেজার শুভ্র দাস শুভ। তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে জুড়ী শাখা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
নবীনগরে ব্যবসায়ী কামাল ভেন্ডারের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ব্যবসায়ী মো. কামাল ভেন্ডারের গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় নবীনগর পৌর এলাকার আলিয়াবাদে গ্রেপ্তারকৃত কামাল ভেন্ডারের নিজ বাড়িতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ গভীর রাতে কামাল ভেন্ডারকে তার বাসা থেকে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাকে একটি মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তারা বলেন, কামাল ভেন্ডার দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং তিনি একজন নিরপরাধ ও সম্মানিত ব্যবসায়ী।
পরিবারের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই সঙ্গে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে কামাল ভেন্ডারের মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নবীনগর বাজারের বহু ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছুটিতে মুখর সমুদ্র সৈকত
কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড়, বাড়ছে সাগর-ঢেউ দেখার আকর্ষণ

সপ্তাহের ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা। সাগরের গর্জন, উত্তাল ঢেউ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং উন্নত পর্যটনসেবা ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করছে।
সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের উপস্থিতি। সপ্তাহান্তের ছুটি এবং অনুকূল মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা ছুটে আসছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে।
স্থানীয় হোটেল ও মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে পর্যটকদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আবাসিক কক্ষের বুকিং প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কুয়াকাটার মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য, সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং ঝাউবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন।
ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, কুয়াকাটার ঢেউ, সাগরের গর্জন এবং বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা তাদের মুগ্ধ করেছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটিয়ে তারা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছেন।
পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকত এলাকায় নতুন করে বসার বেঞ্চ স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিরাপত্তা ও সার্বিক তদারকিতে সক্রিয় রয়েছেন।
“কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম সম্ভাবনাময় কেন্দ্র। পর্যটকদের আগমন যেমন স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করে, তেমনি এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ কুয়াকাটা গড়ে তুলতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আজকের কথা
সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটরদের প্রত্যাশা, সামনের মাসগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।






















