দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
গণপিটুনিতে মৃত্যু এখন যেন বাংলাদেশের অপরিকল্পিত বিচার ব্যবস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে জনতার রোষে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই সন্তান। প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাঁদের। প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক, আর সরকার মবকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে জনসমক্ষে কাঠগড়ায়।
বৃহস্পতিবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামে ঘটে এ ভয়াবহ ঘটনা। নিহতরা হলেন গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), তাঁর ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রোকসানার বড় মেয়ে রুমা আক্তার (৩০)।
গণপিটুনিতে মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বছরের পর বছর ধরে দেশে এমন অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কুমিল্লার মুরাদনগরের করইবাড়ী গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ঘেরাও করে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ভিড় করে। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ওই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ বহুদিনের। সকালে দুই পক্ষের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে তা দ্রুতই রূপ নেয় সহিংসতায়। উত্তেজিত জনতা লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে রোকসানাদের ওপর। প্রকাশ্য রাস্তায় শতাধিক লোকের সামনে চলে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।
মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “পরিবারটির বিরুদ্ধে মাদক–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। এলাকাবাসীর ক্ষোভ থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”
তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। এক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, “একটি পরিবার দিনের বেলা কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো, অথচ পুলিশ কিছুই বুঝলো না? প্রশাসন কি শুধু ফরমায়েশি বিবৃতি দেয়ার জন্য?”
গণপিটুনিতে মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বছরের পর বছর ধরে দেশে এমন অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কিন্তু সেগুলোর বিচার নেই বললেই চলে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, “সরকার বিচারহীনতা এবং প্রশাসনিক নীরবতার মাধ্যমে এক প্রকারভাবে মব সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে।”
একজন বৃদ্ধ প্রতিবেশী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ওরা কি আসলেই মাদক বিক্রি করত? জানি না। কিন্তু এর চেয়ে ভয়ানক বিচার তো আমরা কখনও দেখিনি।”
এই গণপিটুনিতে মৃত্যু শুধু তিনটি প্রাণ নয়, ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ও সামাজিক সহনশীলতার ভিত্তিও ধ্বংস করেছে। সরকার ও প্রশাসনের গাফিলতিই প্রশ্নবিদ্ধ করছে—আজ যারা মারা গেল, কাল হয়তো আরও কেউ হবে এমন মব ‘বিচারের’ শিকার।
রাতের আঁধারে খাল খনন-গাছ কেটে সাবাড়, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। ছবি : আজকের কথা
বরগুনার আমতলী উপজেলায় রাতের আঁধারে খাল খনন ও খালের দুই পাড়ের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আমতলী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় গত এপ্রিল মাসে কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পান সাবেক চেয়ারম্যান কায়েসুর রহমান ফকু। গত ২০ মে থেকে খননকাজ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সেচ দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও তা না করে রাতের আঁধারে দায়সারাভাবে ভরা খাল কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি ভেকু মেশিন ব্যবহার করে খালের দুই পাড়ের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, রাতের আঁধারে খাল খননের নামে প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের কোনো উপকার হবে না, বরং পরিবেশ ও খালপাড়ের মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল জব্বার, নাদিম আহম্মেদ, রাসেল ও খলিল অভিযোগ করে বলেন, সঠিক নিয়ম না মেনে খননকাজ করায় পুরো প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ ও সঠিকভাবে খাল খননের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুরা বেগম বলেন, তার কয়েকটি গাছ ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গভীর রাতে খাল কাটার এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি।
এ বিষয়ে কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল আউয়াল ও তাসলিমা বেগম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করছেন। অভিযোগ জানানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান কায়েসুর রহমান ফকু। তিনি দাবি করেন, উপজেলা প্রকৌশলীর পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। তবে খননকাজে দু-একটি গাছ কাটা পড়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানান, রাতের আঁধারে সেচ ছাড়াই খাল খননের অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সঠিক নিয়ম না মানলে প্রকল্প বাতিল করা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ছবি : আজকের কথা
কক্সবাজারের টেকনাফে সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি মাইক্রোবাস থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্ট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তি হলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ নুরের ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ার (৫০)। তিনি পেশায় একজন চালক।
তল্লাশির সময় চালক আনোয়ার নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণও করেন।
পরে গাড়ির সিট কভারের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ নারী ও শিশু উন্নয়ন সোসাইটি এবং ‘দেশ সকাল’ নামের দুটি পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়াবার মূল সরবরাহকারী ও জড়িত চক্রকে শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিস্ফোরক রাজনৈতিক পোস্ট দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দেশের সুপরিচিত প্রগতিশীল কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট রীতা রায় মিঠু। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এই লেখিকার সাম্প্রতিক রীতা রায় মিঠু ফেসবুক স্ট্যাটাসটি সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। একই সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে সামনে এনে এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ইস্যু ও ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে একটি কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দেন এই কলামিস্ট।
পাঠকদের জন্য ভাইরাল হওয়া রীতা রায় মিঠু ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
“রাজনীতির খাতিরে গ্রেনেড মামলার প্রধান আসামি যদি ১৭ বছর পর দেশে ফিরতে পারে, দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী কেন দেশে ফিরতে পারবে না!”
বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ ও শেখ হাসিনাকে ‘বৈধ’ দাবি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেটিজেনদের মতে, এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে লেখিকা রীতা রায় মিঠু বর্তমান ক্ষমতাসীন শক্তিকে ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী’ এবং ‘জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা অবৈধ সরকার’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন। একই সাথে, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড মামলার প্রধান আসামির দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার ঘটনাকে রাজনীতির চাল চালার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি পরোক্ষভাবে বর্তমান সরকার প্রধানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শেখ হাসিনাকেই ‘দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং তাঁর দেশে ফেরার জোর দাবি জানিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বনাম বর্তমান সরকার
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির একজন আজীবন সমর্থক ও স্পষ্টভাষী সাহিত্যিক হিসেবে রীতা রায় মিঠুর এমন কড়া অবস্থান ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা নাটকীয়তার মধ্যে একজন প্রথম সারির লেখকের এমন সাহসী মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কমেন্ট বক্সে আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং বর্তমান সরকারের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল বাকযুদ্ধ ও মতাদর্শগত সংঘাত শুরু হয়েছে।
নেটিজেনদের তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সমর্থকদের দাবি: বর্তমান সরকার জোরপূর্বক ক্ষমতায় বসে দেশের গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। একজন সচেতন নাগরিক ও দেশপ্রেমিক লেখিকা হিসেবে তিনি আসল সত্যটিই সাহসের সাথে তুলে ধরেছেন।
বিরোধীদের বক্তব্য: আদালতের রায় এবং ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকারকে এভাবে ‘অবৈধ’ বলা এবং সাবেক বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রীকে ‘বৈধ’ দাবি করা দেশের সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
কথাসাহিত্যিক রীতা রায় মিঠুর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৬৪ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করা এই প্রখ্যাত সাহিত্যিকের পৈতৃক নিবাস নারায়ণগঞ্জে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ড. জীবেন রায়-এর সহধর্মিণী এবং তিন কন্যাসন্তানের জননী। সাহিত্যাঙ্গনে ‘তুমি বন্ধু তুমি সখা’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘তিমির হননের পালা’ এবং ‘অন্তহীন অপেক্ষা’-এর মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত।
সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর এই সরাসরি ও কড়া রাজনৈতিক অবস্থান বর্তমান অস্থিতিশীল বাংলাদেশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক বোদ্ধারা।