মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

উপদেষ্টা রিজওয়ানার বাসার সামনে ককটেল: নাশকতা, নাকি সাজানো নাটক—বিতর্ক ছড়াচ্ছে

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:০২ এএম
উপদেষ্টা রিজওয়ানার বাসার সামনে ককটেল: নাশকতা, নাকি সাজানো নাটক—বিতর্ক ছড়াচ্ছে
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ককটেল বিস্ফোরণ: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে রহস্যজনক ঘটনা

রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ এখন উত্তপ্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দ্রুত এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়ে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়—সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রায় ঘোষণার আগমুহূর্তে বিস্ফোরণের ধারা বাড়ছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার রায় ঘোষিত হবে আগামীকাল সোমবার।
এই রায়কে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন সময় হঠাৎ করে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নাশকতা নাকি নাটক—দুই ধরনের মতই ঘুরছে

গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেওয়া ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এসব ঘটনার দায় নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ই একে অন্যকে অভিযুক্ত করলেও এখনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

সেন্ট্রাল রোডের ককটেল হামলাকে ঘিরেও উঠছে তিন ধরনের প্রশ্ন—

এটি কি বাস্তব নাশকতা?

নাকি কাউকে দায়ী করার জন্য সাজানো নাটক?

নাকি রায় ঘোষণার আগে অস্থিরতা তৈরি করার কৌশল?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মত দেয়নি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি বাড়ছে

এক রাতেই দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নাগরিক ও বিশ্লেষকদের ধারণা—রায় ঘোষণার আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, তাই নিরাপত্তা বাহিনীকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
বাংলাদেশের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের

অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।

এক নজরে

  • ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের
  • দুর্নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে মামলা হয়েছে বলে দাবি
  • সাইবার সুরক্ষা আইন, মানহানি, চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে
  • ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পান
  • অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
  • সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান সিপিজের

সিপিজে বলেছে, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত জনস্বার্থমূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংগঠনটি মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬, ফৌজদারি মানহানি, চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বাদী বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম প্রতিমন্ত্রী এবং বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুন বগুড়া থেকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ২১ জুন জামিন পাওয়ার আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অপর আসামি প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং আরও দুই প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং অপর পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা স্পষ্টতই ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাহারের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার আইন ও ফৌজদারি মানহানির বিধানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তার পক্ষ থেকে মামলা করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সিপিজে বগুড়ার পুলিশ সুপার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিবের কাছে ই-মেইল পাঠালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিপিজে আরও বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। চলতি জুন মাসের শুরুতে সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সুরক্ষিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে।

উল্লেখ্য গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে শতশত সাংবাদিককে বিনা বিচারে আটক করে গেছেন বিশ্ব বাটপার খ্যাত ড. ইউনুস সরকার। বর্তমানে এ ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে নতুন সরকারের আমলেও।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

সচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিত উদ্যোগ

মৌলভীবাজারে নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উঠান বৈঠক

জালালুর রহমান, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উঠান বৈঠক

নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) দুপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থা, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মৌলভীবাজারে নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • আয়োজক জাতীয় মহিলা সংস্থা, সহযোগিতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  • প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল
  • নারীর অধিকার, যৌতুকের ক্ষতি ও বাল্যবিবাহের আইনগত পরিণতি নিয়ে আলোচনা
  • সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান
  • স্থানীয় নারী, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা সংস্থা, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা মো. কহিদুল ইসলাম।

বৈঠকে বক্তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার নেতিবাচক প্রভাব, বাল্যবিবাহের সামাজিক ও আইনগত পরিণতি এবং নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এসব সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী, জাতীয় মহিলা সংস্থার সদস্যবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, উঠান বৈঠকের মতো জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নারী ও শিশুর অধিকার, আইনগত সুরক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নারী নির্যাতন, যৌতুক এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়

দেবীদ্বারে এসএসসি খাতা মূল্যায়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ব্যবহার, ভিডিও ভাইরাল

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
দেবীদ্বারে এসএসসি খাতা মূল্যায়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ব্যবহার, ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড খাতা মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনভর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • দেবীদ্বারের আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ব্যবহারের অভিযোগ
  • দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে খাতা মার্কিং করানোর অভিযোগ
  • সহকারী প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি
  • ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা
  • স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ
  • উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে

ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লার দেবীদ্বার আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা মার্কিং করানো হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও খাতা মূল্যায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ এবং কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত নেই।

তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হলেও তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আল আমিন নামে এক যুবক জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেহেদী হাসানকে খাতা মার্কিং করতে দেখা যায়। ওই সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে তার এক বন্ধু তাকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করে। ভিডিওতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ড খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে মেহেদী বলেন, “এটা একটা ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দেই, সেটা বাচ্চু স্যার দিত না হলে।”

স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের হলেও বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় রোকনুজ্জামান খান বলেন, “বোর্ড পরীক্ষার খাতার মতো স্পর্শকাতর কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা মোটেও উচিত নয়। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

এদিকে অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও’র সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডও তদন্ত করবে। আমি নিজেও তদন্ত করব, তবে তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X