শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৭ পিএম
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এমন অভিযোগ ফের উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, কারণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্যারেড (কুচকাওয়াজ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • জাতির সবচেয়ে গৌরবময় দিনে রাষ্ট্রীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখাকে বহু নাগরিক সরাসরি স্বাধীনতার মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।
  • আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান— “গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড হবে না।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—বিজয় দিবসে আবারও প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এমন অভিযোগ ফের উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, কারণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্যারেড (কুচকাওয়াজ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতির সবচেয়ে গৌরবময় দিনে রাষ্ট্রীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখাকে বহু নাগরিক সরাসরি স্বাধীনতার মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান—
“গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড হবে না। দেশের কোথাও কোনো শঙ্কা নেই।”
সরকারের এমন বক্তব্যকে অনেকে পুরোপুরি অযৌক্তিক, অসংলগ্ন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ—সরকার পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীকে খুশি করছে

বহু বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে বলছেন—
স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের দিনটিতে রাষ্ট্রীয় সামরিক প্যারেড না করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার অপপ্রয়াস। বিশেষ করে দেশে যখন পাকিস্তানপন্থী ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনরুত্থানের অভিযোগ উঠছে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্তকে জনগণ গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

এ ছাড়া অনেকে মনে করছেন—
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী মূলত ৭১-এ পরাজিত শক্তি ও জঙ্গিবাদী চক্রকে সন্তুষ্ট করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিজয় দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানের পরিধি সংকুচিত করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

‘অস্থিরতা নেই’—সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেছেন—শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও অস্থিরতা নেই।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
যদি অস্থিরতা না থাকে, তাহলে টানা দুই বছর কেন কুচকাওয়াজ বন্ধ?
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা—এটাকেই অনেকেই সরকারের অক্ষমতা ও গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।

আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত

সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী ও সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
কিন্তু সভা শেষে জনমনে যে প্রশ্নগুলো ছিল—
সেগুলোর কোনো স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।

জনমতের ক্ষোভ: “এ কি স্বাধীন দেশের পরিচয়?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণ হয়েছে ক্ষোভের। অনেকেই লিখছেন—
“বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বন্ধ মানে জাতির অস্তিত্ববোধে আঘাত।”
আরও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—
রাষ্ট্র কি এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উপাদানগুলোর চাপে পরিচালিত হচ্ছে?

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে দেশের গণমানুষ উদ্বিগ্ন

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা—এই অভিযোগ এবার আর কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; সরকারের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। মানুষ বলছে—বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার চেতনাকে যারা অন্ধকারে ঢেকে রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যই পূরণ হচ্ছে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

মাদক নির্মূলে মুরাদনগর ওসির নতুন উদ্যোগ, থানায় বসলো ‘অভিযোগ বক্স’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম
মাদক নির্মূলে মুরাদনগর ওসির নতুন উদ্যোগ, থানায় বসলো ‘অভিযোগ বক্স’

মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশ। মাদকসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে থানার সামনে স্থাপন করা হয়েছে ‘অভিযোগ বক্স’।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মুরাদনগর থানা ভবনের সামনে এ অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী কিংবা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে যে কোনো নাগরিক লিখিত তথ্য অভিযোগ বক্সে জমা দিতে পারবেন। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। ফলে পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কা ছাড়াই স্থানীয়রা মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে পারবেন।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই অভিযোগ বক্সটি স্থাপন করা হয়েছে। যারা তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’

ওসি আরও জানান, মাদক নির্মূলে মুরাদনগর থানার নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ বক্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মুরাদনগর থানা, কুমিল্লা।

এদিকে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে কুমিল্লা জেলার অন্যান্য থানার মতো মুরাদনগর থানাতেও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র‌্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

মুরাদনগর থানার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়লে মাদক নির্মূলের উদ্যোগও শক্তিশালী হবে।

দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমানকে (৫০) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিজানুর রহমান কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে আবারও মারধর করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বাবার মোবাইলে ভিডিও দেখে মাকে জানান ছেলে

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমের দাবি, মাদ্রাসা সুপারের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে কিছু আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পায়। পরে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভিডিওগুলো ইব্রাহিমকে দেয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে তার কাছ থেকে স্থানীয় কয়েকজন ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিনের অভিযোগের দাবি স্থানীয়দের

স্থানীয় ইমরান ভূঁইয়া বলেন, মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ফতেহাবাদ মোকামবাড়ি মাদ্রাসা, হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি মাদ্রাসা এবং সর্বশেষ বর্তমান মাদ্রাসায় প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘ সময় প্রবাসেও ছিলেন।

ইমরান ভূঁইয়ার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে। বর্তমান মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনকালে গত দেড় বছরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত তিনবার সালিশ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. আমিন মিয়া বলেন, মাদ্রাসা সুপার প্রতি শুক্রবার জামাতের বৈঠক করতেন। নারীদের নিয়েও কমপ্লেক্সে বিভিন্ন বৈঠক করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে কেউ বাধা দিলে স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন বলেও দাবি করেন আমিন।

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ

চরবাকর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে মাদ্রাসা সুপার তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন।

ওই কিশোরীর অভিযোগ, তাকে কুফরি কালামের মাধ্যমে বশ করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সে সময় তিনি অচেতন অবস্থায় থাকতেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্তের দাবি, ভিডিওগুলো তার নয়

অভিযোগ অস্বীকার করে হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয়। এগুলো অন্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর আগে ওই ছাত্রীর পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পাশের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি বিয়ে পড়াতে রাজি না হওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, তার ওপর হামলার সময় তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম আহমেদ নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. মনিরুজ্জামান
— ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা, কুমিল্লা।

তিনি বলেন, এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা সুপারকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং তাকে ফের আটকে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক দেখলেই ‘এড়িয়ে যান’ কুমিল্লার ডিসি! বক্তব্য চাইলে পাঠান এডিসির কাছে, ফোনেও মেলে না সাড়া

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ পিএম
সাংবাদিক দেখলেই ‘এড়িয়ে যান’ কুমিল্লার ডিসি! বক্তব্য চাইলে পাঠান এডিসির কাছে, ফোনেও মেলে না সাড়া

সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লার ডিসির বিরুদ্ধে

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, যিনি সাংবাদিক দেখলেই এড়িয়ে যান। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং বক্তব্যের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।

দৈনিক আমার দেশ-এর কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসান মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে তার কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড নেওয়া হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয় বক্তব্য তাঁর কাছ থেকেই পাওয়া উচিত।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডিবিসি নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন। নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে তিনি কার্যালয়ে গেলে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে তাকেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।

নাসির উদ্দিনের দাবি, তিনি জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়েছে।

এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের মতে, জেলা প্রশাসক একটি জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হলে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার মুখে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

×
ENG