মুরাদনগরের স্বপ্নপূরণ, ৩০ বছর পর মন্ত্রীর ডাক পেলেন কায়কোবাদ

জনআস্থার মহাবিজয়, মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন কায়কোবাদ
দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষা শেষে অবশেষে পূর্ণমন্ত্রী পেল কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের মানুষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। তার এই অভিষেককে স্থানীয়রা দেখছেন অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা ও জনআস্থার মহাবিজয় হিসেবে।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের জন্য ডাক পেয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে টেলিফোনে তাকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হয়। বিষয়টি তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ ঘিরে মুরাদনগরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন কায়কোবাদ—ধর্ম, সমাজকল্যাণ নাকি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। উপজেলা জুড়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত একটাই প্রশ্ন, কোন মন্ত্রণালয়ে দেখা যাবে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে?
মুরাদনগর সর্বশেষ মন্ত্রী পেয়েছিল ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে, যখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রথমে শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত স্বল্পস্থায়ী সরকারে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর এ আসনে আর কোনো পূর্ণমন্ত্রী আসেনি।
কায়কোবাদের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ ও ২০০৮ সালে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো বিজয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন।
তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ। ১৯৮৯ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ (প্রতিমন্ত্রী সমতুল্য) এবং ১৯৯০ সালে ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৯টি ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কায়কোবাদ পেয়েছেন ১,৫৮,০৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেল (দাড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১,০৪,৫৮০ ভোট। ফলে ৫৩,৫১৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।
মুরাদনগর আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৯টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২৬ জন। বিপুল ব্যবধানের এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জনআস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং ২০২৪ সালে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। এমনকি কোনো মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদও এ আসনে আসেনি গত এক দশকে।
অবশেষে তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিক কায়কোবাদ মন্ত্রিসভায় শপথ নিতে যাচ্ছেন—যা মুরাদনগরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো জীবনের ঝুঁকি, এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বর্তমানে বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের। আর্সি নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষের পথে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন থেমে থাকার পর আবারও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুটির কাজ। ইতোমধ্যে ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর শত বছরের লালিত স্বপ্ন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা কারণে একপর্যায়ে সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কায়কোবাদ-এর উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবারও নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অবশিষ্ট কাজ।
প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির দুই পাশে রয়েছে মোট ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া ও রোয়াচালা হয়ে সড়কটি দৌলতপুরের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আর্সি নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষকে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বাসিন্দা

আমার জীবনের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল এই সেতুটি দেখে যাওয়া। এতদিনে আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রবীণ বাসিন্দা হাসু রানী বলেন, “জীবনে কত মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখলাম, কিন্তু কেউ এই সেতুটি করতে পারেনি। আমার এই বয়সে সেতুটি দেখে যেতে পারব, তা কখনো ভাবিনি।”
কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “কোনো দিন ভাবিনি এখানে পাকা সেতু হবে। সেতুটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে।”
গৃহবধূ সুভা রানী ঘোষ বলেন, “শত বছরের সাধনার মতো ছিল আমাদের এই সেতু। এখন এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। সেতুটি চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।”
এলাকাবাসী জানান, আর্সি নদীর ওপর সেতু না থাকায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনও ছিল কঠিন। বিশেষ করে রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে নদী পারাপার নিয়ে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো।
এদিকে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিয়ে ‘ভোরের কাগজ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর মতে, গণমাধ্যম মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং সমাধানের পথ তৈরি হয়।

আর্সি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, রোয়াচালাসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে সাঁকো পারাপার হয়ে উঠত আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি বহু পরিবারের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। সেতু চালু হলে একদিকে যেমন সহজ হবে মানুষের যাতায়াত, অন্যদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও সহজ হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় এখন তাদের প্রত্যাশা দ্রুততম সময়ে বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সেতুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণাধীন সেতুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। প্রবীণরা বলছেন, তাদের জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি হতে যাচ্ছে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি সংযোগ সড়কের কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। কারণ সেতু নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এলাকাবাসীর মতে, আর্সি নদীর ওপর সেতুটি চালু হলে শুধু দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগই সহজ হবে না, আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও প্রধান সড়কের যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে। কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন তাই ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের চোখে নতুন স্বপ্ন। বাঁশের সাঁকোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে এবার তারা অপেক্ষা করছেন একটি নিরাপদ ও স্থায়ী সড়ক যোগাযোগের জন্য। থেমে থাকা নির্মাণকাজ আবার সচল হওয়া এবং সেতুর ছাদ ঢালাই শেষ হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।
এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। তাহলেই শত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, বদলে যাবে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা।
কর্মসংস্থান নাকি গ্রিডে বাড়তি চাপ?
দেবীদ্বারে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ, আলোচনা-সমালোচনা

সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সংকট ও লোডশেডিংয়ের অভিযোগের মধ্যেই কুমিল্লার দেবীদ্বারে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে অটোরিকশা বিতরণ করা হলেও চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে এগুলোর ব্যাটারি চার্জিং জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ জন অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে এসব অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেই অটোরিকশাগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বাড়ানো কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নও তুলেছেন সচেতন মহলের কেউ কেউ।
বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে এসব যানবাহন সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি, চার্জিং ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের বৈধতা এবং পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়ে অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থা চালু হলে তা স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বিতরণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। উপকারভোগীরা প্যাডেলচালিত অটোরিকশার পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিতে আগ্রহী হওয়ায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক, আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণের সময় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই।”

এটি জেলা পরিষদের নির্ধারিত প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পে যেভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল, সেভাবেই বিতরণ করা হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও আয়োজকরা বলছেন, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অসহায় মানুষের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া। তাদের ভাষ্য, একটি অটোরিকশা একটি পরিবারের নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। ফলে উপকারভোগীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি এসব যানবাহনের চার্জিংয়ের জন্য আলাদা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। কারণ অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জিংয়ের চাহিদাও বাড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়টি প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে একদিকে নাগরিকদের নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাটারিচালিত যানবাহন সম্প্রসারণ—দুটি বিষয়কে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ের কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও চাপ পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই বিতরণের পাশাপাশি চার্জিংয়ের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে শুধু অটোরিকশাই নয়, উপজেলার জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পরিবার এবং বিভিন্ন অসহায়, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মধ্যেও ৭৫টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের আশা, সেলাই মেশিনগুলোও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজভিউল আহসান মুন্সী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অটোরিকশা বিতরণকে কেন্দ্র করে ওঠা আলোচনা-সমালোচনার মূল জায়গা এখন কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য। অসহায় মানুষের হাতে জীবিকার উপকরণ তুলে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত চার্জিং ব্যবস্থা, বৈধ যানবাহন পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থানমূলক এমন উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।
প্রভাবশালী হলেও ছাড় নয়
‘মাদক থাকবে, নাকি থানা থাকবে—একটা বেছে নিতে হবে’: ওসি মনিরুজ্জামান

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে থানা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষক—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
সোমবার বিকেলে উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের পদ্মকোট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে পদ্মকোট বাজারের প্রধান সড়কগুলোতে মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইউপি সদস্য আবু মুছা মোল্লার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ও দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনায় অংশ নেন মো. আব্দুর রশিদ সরকার, সরকার সাকিব, দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন, গাজী নাজমুল, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ কর্মহীনতা, অসামাজিক পরিবেশ ও মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের বিপথগামী হওয়ার অন্যতম কারণ।
সমাবেশে ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,

মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা এর পৃষ্ঠপোষক যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পাশাপাশি চলবে।
তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। একটি পরিবারে একজন মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী থাকলে সেই পরিবারের জন্য তা সারা জীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—মাদক থাকবে, নাকি থানা থাকবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই।”
ওসি বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। দেবীদ্বারকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযান, চিরুনি তল্লাশি ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক একটি ব্যক্তির জীবন ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে। একজন তরুণ মাদকে আসক্ত হলে তার শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধসহ নানা সামাজিক অপরাধও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কমবে।
সমাবেশে অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, সন্তানকে শুধু শাসন করলেই হবে না, তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন, আচরণগত সমস্যা কিংবা হঠাৎ নতুন কোনো বন্ধুমহলে জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
আলোচনা শেষে পদ্মকোট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘মাদককে না বলুন, সুস্থ সমাজ গড়ুন’সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। র্যালি থেকে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হবে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।































