জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শঙ্কা
দেবীদ্বারে বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ

দেবীদ্বারে বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকার জন্মসনদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। ছবির গ্রাফিতি দৈনিক আজকের কথা
দেবীদ্বারে বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে দেবীদ্বারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকার জন্মসনদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে টাকার বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অবৈধভাবে বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল এবং ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই ২০২৬ স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম অভিযোগটি দায়ের করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল ও ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলাম যোগসাজশ করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর তিনজনকে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করেছেন। এর বিনিময়ে প্রতিটি নিবন্ধনের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, পিতা রফিকুল ইসলাম, মাতা নুরজাহান। তার জন্ম তারিখ ১৪ মার্চ ১৯৯৮। জন্ম নিবন্ধনের রেজিস্ট্রেশন তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৫। তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ১৯৯৮১৯১৪০৪৭১৩১০১৫।
দ্বিতীয় ব্যক্তি মুবিনা খাতুন। তার পিতা মোহাম্মদ কাশেম, মাতা নুরজাহান। জন্ম তারিখ ১০ ডিসেম্বর ১৯৭৮। জন্ম নিবন্ধনের রেজিস্ট্রেশন তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ৭ জুলাই ২০২৫। তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ১৯৭৮১৯১৪০৪৭১৩১০১১।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ও মুবিনা খাতুনের মায়ের নাম একই অর্থাৎ নুরজাহান হলেও তাদের পিতার নাম ভিন্ন। একই দিনে তাদের জন্ম নিবন্ধনের রেজিস্ট্রেশন করা হলেও তথ্যের এই অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।
তৃতীয় ব্যক্তি হাফিছা। তার পিতা ফোরকান আহমদ, মাতা পাখিজা আক্তার। জন্ম তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০০৫। জন্ম নিবন্ধনের রেজিস্ট্রেশন তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫। তবে সনদ ইস্যুর তারিখে ১ জানুয়ারি ০০০১ উল্লেখ রয়েছে। তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ২০০৫১৯১৪০৪৭১৩১০১২।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এই তিনজনের কেউই ফতেহাবাদ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাদেরকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্ম নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনটি জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন যাচাইকরণ (Birth and Death Verification) ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মুবিনা খাতুন ও সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের জন্মস্থান কক্সবাজার দেখাচ্ছে। তবে হাফিছার জন্মস্থান কুমিল্লা প্রদর্শিত হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের সরকারি সার্ভারের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড শুধুমাত্র চেয়ারম্যান ও সচিবের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা অবৈধভাবে জন্ম নিবন্ধন প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে এ ধরনের আরও বহু ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এ বিষয়ে ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, তিনি ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জন্ম নিবন্ধনের ইউজার এক্সেস পান ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ সালে। তার দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত জন্মসনদগুলো তার সময়ে তৈরি হয়নি। তবে জন্মসনদের ইস্যুর তারিখ অনুযায়ী ঘটনাগুলো তার দায়িত্বকালেই হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী শফিউল আলম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সব অবৈধ জন্ম নিবন্ধন বাতিল করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজের নাম-ঠিকানা গোপন রাখার জন্যও প্রশাসনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
কুমিল্লায় হাতকড়াসহ আসামি আদালত চত্বর থেকে চম্পট, দুই ঘণ্টায় ফের গ্রেপ্তার

সোপর্দের সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালালেন নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি; বক্সগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ফের আটক
কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করার সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি রুবেল। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রুবেল নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি হিসেবে পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাঙ্গলকোট থানা থেকে রুবেলকে কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করার জন্য নেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে তাকে আদালতের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান তিনি।
আসামি পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। আদালত চত্বর ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মাথায় নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাকে পুনরায় কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আসামি রুবেলের সঙ্গে পুলিশ সদস্য মাহবুবসহ কয়েকজন দায়িত্বে ছিলেন। আদালতে সোপর্দ করার সময় আসামি পালিয়ে গেলেও পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আদালত প্রাঙ্গণের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন আসামি কীভাবে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন। তবে পালানোর পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
“ব্যক্তিগত আলাপ, তবু গ্রেপ্তারের নোটিশ! ওসি রাকিবুল ইস্যুতে বাড়াবাড়ির প্রশ্ন”

অডিওটির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন, এরই মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি; ওসি রাকিবুলের বক্তব্য—ভাইরাল অডিওটি তার নয়, এআই দিয়ে তৈরি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত অডিও নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে লিগ্যাল নোটিশ ঘিরে। অডিওটির সত্যতা, উৎস ও সম্পাদনা নিয়ে এখনো প্রকাশ্যভাবে চূড়ান্ত কোনো ফরেনসিক যাচাই সামনে না এলেও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় অনেকে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে কথিত অডিওটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক প্রমাণ থাকলে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে—একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওকে কেন্দ্র করে, যার সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই আপত্তি জানিয়েছেন, তদন্তের ফল পাওয়ার আগেই গ্রেপ্তারের মতো কঠোর পদক্ষেপের দাবি কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে অডিওটি যদি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে পুরো আলাপ, প্রেক্ষাপট ও বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিবেচনা না করে বিচ্ছিন্ন অংশকে কেন্দ্র করে সামাজিক বা আইনি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কতটা গ্রহণযোগ্য—সেটিও আলোচনার দাবি রাখে।
ওসি রাকিবুল ইসলাম অবশ্য অডিওটির বক্তব্য নিজের বলে স্বীকার করেননি। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এমন প্রচারে একজন মানুষের মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারই ওসি রাকিবুল ইসলামকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত অডিওটি আসল কি না, সম্পূর্ণ কথোপকথন কী ছিল, বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিতে আদৌ কোনো আইন বা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের উপাদান রয়েছে কি না। প্রযুক্তিগতভাবে অডিও যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারকে ভিত্তি করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য বা অডিও ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত জনমত তৈরি এবং সেই জনমতের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগের তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সামাজিক প্রচারই যদি বিচারের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি ব্যক্তি অধিকার ও ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
লিগ্যাল নোটিশে অবশ্যই অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের দাবি রয়েছে। কিন্তু একই নোটিশে তদন্তের আগেই গ্রেপ্তারের দাবি ওঠায় প্রশ্ন থাকছে—তদন্ত আগে, নাকি সামাজিক প্রচারের ভিত্তিতে শাস্তির দাবি আগে? একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন; একইভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য না করাও আইনের স্বাভাবিক নীতির অংশ।
ওসি রাকিবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কিংবা অডিওটির প্রকৃত উৎস তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অডিও সত্য হলেও বক্তব্যটি ব্যক্তিগত আলাপের অংশ ছিল কি না, তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী এবং সেটি কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু ভাইরাল হওয়ার ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা গ্রেপ্তারের দাবি তোলা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বক্তব্যের সত্যতা যাচাই, পূর্ণ প্রেক্ষাপট প্রকাশ এবং আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ বা অতিরঞ্জিত প্রচারের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
সৌদিতে বিয়ে, দেশে সন্তান কোলে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সন্তান কোলে নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের পৈতৃক স্বীকৃতির দাবিতে দুদিন ধরে অনশনে বসেছেন হ্যাপি আক্তার (২৭) নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বদুরুদ্দি হাজী বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সন্তানকে কোলে নিয়ে বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন তিনি।
অনশনরত হ্যাপি আক্তারের দাবি, বারেরা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান মনু মিয়া (মেম্বার)-এর সৌদি প্রবাসী ছেলে এনামুলের সঙ্গে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একসঙ্গে বসবাস করেন। এর মধ্যে প্রায় এক বছর জেদ্দা শহরের আলকোমরা পানির ট্যাংকের সামনে একটি হোটেলে তারা একসঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেন হ্যাপি।

হ্যাপি আক্তার বলেন, “আমি এনামুলকে বিয়ে করেছি। এখন আমার সন্তানকে নিয়ে তার বাড়িতে এসেছি। আমি চাই, আমাকে স্ত্রী হিসেবে এবং আমার সন্তানকে তার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হোক।
হ্যাপি জানান, ওই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এনামুল তাকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপরও এনামুল তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং নিয়মিত খরচ দিতেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে স্ত্রী হিসেবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে নেওয়ার কথা বলা হলেও তা আর বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ হ্যাপির।
হ্যাপির ভাষ্য, স্বামীর সংসারে মর্যাদা এবং সন্তানের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতির দাবিতেই তিনি এখন এনামুলের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, সন্তানকে নিয়ে সৌদি আরবে নেওয়ার কথা বলে এনামুল তাকে পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছিলেন। কিন্তু কবে তাকে ও সন্তানকে সৌদি নিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
নিজের জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে হ্যাপি বলেন, “আমার জীবন তো শেষ হয়ে গেছে। আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে এনামুলকে বিয়ে করেছি। এখন আমার সন্তানকে নিয়ে তার বাড়িতে এসেছি। আমাকে কেন এখানে এসেছি, তা নিয়ে এনামুল ফোনে হুমকি দিচ্ছে বলেও আমি অভিযোগ করছি। আমার মায়ের কাছেও ফোন করে চলে যেতে বলা হয়েছে। আমি চাই, আমাকে স্ত্রী হিসেবে এবং আমার সন্তানকে তার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হোক।”
হ্যাপি আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কলাতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার আগের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, এনামুল বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের ও তার স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে তার আরেকটি সংসার রয়েছে এবং ওই সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও নানা আলোচনা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনামুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেননি। ফোনে তিনি অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এনামুলের বাড়িতে থাকা তার ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন বলেন, “ভাই বর্তমানে দেশের বাইরে। বাড়িতে আমি ও আমার মা আছি। হ্যাপি যদি ভাইকে বিয়ে করে থাকেন এবং শিশুটি যদি ভাইয়ের সন্তান হয়ে থাকে, তাহলে ভাই দেশে ফিরলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে। আমরা এনামুলের স্ত্রী হিসেবে যাকে চিনি, তিনি তার দুই সন্তান নিয়ে আলাদা বাসায় থাকেন এবং মাঝে মাঝে এখানে আসেন।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বারেরা এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান চান, আবার কেউ সন্তানের পিতৃপরিচয় ও নারীর বৈবাহিক অধিকারের বিষয়টি আইনগতভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলে ভালো হয়। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখা হবে।



























